‘হঠাৎ বৃষ্টি’ হয়ে এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা

ছোট ছোট স্বপ্নের নীল মেঘ, কখনো রোদ্দুর বৃষ্টি

জীবনের চাকা গেছে আঁকা-বাঁকা সৃষ্টি বা অনাসৃষ্টি

তবু এক মুঠো সুখ ছুঁয়ে গেলে ভাবি, এ যেন হঠাৎ বৃষ্টি!

‘হঠাৎ বৃষ্টি’ বাঙালির দর্শকমনে মন ছুঁয়ে যাওয়া এক অন্যরকম ভালোবাসার সিনেমা। অজিত আর দীপার সেই অজানা অচেনা প্রেমে মুগ্ধ হন নি এমন দর্শক সম্ভবত খুঁজেই পাওয়া যাবে না। অজিত চরিত্রে একরাশ মুগ্ধ করলেন আমাদের বাংলাদেশের ফেরদৌস আর সঙ্গে দীপা হয়ে যিনি তারুণ্যের মনে দোলা দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি ভারতের অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী।

বাঙালি নন তিনি। যদিও, ১৯৭৭ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম হয় কলকাতাতেই। বলতে গেলে বেশ কম সিনেমাই করেছেন। তবুও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তিনি স্বাতন্ত্র্য জায়গা করে নিয়েছেন। বাসু চ্যাটার্জীর যুগান্তকারী সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক। প্রথম ছবিতেই বাজিমাৎ। এই সিনেমাটা যতটা না বাণিজ্যিক সফল, তার চেয়েও বেশি পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা।

আজো দর্শকরা এই সিনেমাটি নিয়ে স্মৃতি রোমন্থনে চলে যান। তামিল ছবি ‘কাধাল কাত্তাই’-এর অফিসিয়াল রিমেক ছিল ছবিটি। ছবিটি পরে বলিউডেও নির্মান করা হয় ‘সিরফ ‍তুম’ নামে। ছবিটিতে ছিলেন সঞ্জয় কাপুর, প্রিয়া গিল, সুস্মিতা সেন ও জ্যাকি শ্রফ।

একই জুটি নিয়ে নির্মিত ‘চুপি চুপি’ বাণিজ্যিক সফল সিনেমা। হঠাৎ বৃষ্টির মত চুপিচুপি ও ছিল যৌথ প্রযোজনার। এই সিনেমাটিও মোটামুটি দর্শকপ্রিয়, গানগুলিও শ্রুতিমধুর। বাংলাদেশে আশানুরূপ না চললেও কলকাতায় বেশ ভালো সাড়া ফেলেছিল। পরবর্তীতে এই জুটিকে আরেকটি সফল সিনেমা ‘টক ঝাল মিষ্টি’ তেও অভিনয় করেন।

‘ও বন্ধু তুমি শুনতে কি পাও, এই গান আমার’ – বাংলা সিনেমার গানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী গান। হরনাথ চক্রবর্তীর ‘সাথী’ সিনেমা দিয়ে অভিষেক ঘটেছিল বিজয় রুপী জনপ্রিয় নায়ক জিৎ এর। সঙ্গে নায়িকা হিসেবে ছিলেন সোনালী হয়ে সেই প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। ভারতীয় বাংলা সিনেমার ব্যবসায়িক ইতিহাসে এটি ছিল উল্লেখযোগ্য সিনেমা।

পরবর্তীতে একই জুটি নিয়ে নির্মিত ‘সঙ্গী’ও বেশ সাড়া ফেলে। অবশ্য তাঁদের পরের সিনেমা শিবু-নন্দিতার ‘হ্যালো মেম সাহেব’ একেবারেই চলেনি। বাংলা সিনেমা আরো কয়েকটি করেছেন তবে সেইগুলো আলোচনায় বলতে গেলে আসেই নি। এর মধ্যে অন্যতম প্রসেনজিৎ এর সঙ্গে আছে ‘অগ্নিপরীক্ষা’।

ভারতীয় বাংলা সিনেমায় চাইলেই নিয়মিত হতে পারতেন। কিন্তু হন নি। মনোযোগ দিয়েছিলেন কন্নড় সিনেমায়। সেখানকার জনপ্রিয় অভিনেতা উপেন্দ্রকে তিনি বিয়ে করেছেন। এখন তিনি তাই প্রিয়াঙ্কা উপেন্দ্র। এখনো বেশ ভালোভাবেই সংসার করে যাচ্ছেন। এছাড়া হিন্দি, ওড়িয়া, তামিল, তেলেগু সব ভাষার সিনেমাতেই অভিনয় করেছিলেন।

সব মিলিয়ে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ হয়ে আসা সেই মিষ্টি হাসির মেয়েটি এখন আছেন লাইম লাইটের একেবারেই আড়ালে। যদিও, কন্নড় ভাষার ছবিতে আজো পর্দায় আসেন তিনি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।