কারিনা-প্রিয়াঙ্কা: ধুন্ধুমার দ্বৈরথ শেষে শান্তির সুবাতাস

২০০৭ সাল।

কারিনা কাপুরের কাছে প্রশ্ন: এ সময়ে আপনার প্রিয় অভিনেত্রী কে?

উত্তর: রানী মূর্খার্জী

প্রশ্ন: আপনার সমসাময়িক ক্যাটরিনা, প্রিয়াঙ্কা – ওদের পছন্দ নয়?

উত্তর: ও! আমি ভেবেছি, আপনি অভিনেত্রীদের কথা জানতে চাইছেন!

সাক্ষাতকারটি পড়ে ভীষন কষ্ট পেয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

২০০৮ সাল।

প্রিয়াঙ্কার কাছে প্রশ্ন: তাশান ছবিতে কারিনা কাপুরকে দেখে তো অনেকেই অনুপ্রানিত হচ্ছেন, সাইজ জিরো ফিগারের ব্যাপারে।আপনার এই ব্যাপারে ভাবনা কী?

উত্তর: অবশ্যই না। সাইজ জিরো ফিগারের চক্করে অনেকেই নিজেদের চেহারার লাবন্য হারিয়েছেন,আমি এতটা বোকা নই যে এই জোয়ারে গা ভাসাবো।

এই মন্তব্য শুনে প্রিয়াঙ্কার উপর ভীষন ক্ষেপেছিলেন কারিনা কাপুর।

২০১১ সাল। এবার ‘কফি উইথ করণ’ শো।

‘কওন বানেগা ক্রোড়পতি’ অনুষ্ঠানে একসাথে প্রিয়াঙ্কা ও কারিনা

করন জোহর: প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে দেখা হলে কী জানতে চাইবেন?

কারিনা কাপুর: আমি জানতে চাইব, ও এইরকম উদ্ভট কথা কোত্থেকে শিখলো?

নিজ দায়িত্বে আমাদের করণ জোহর পরের টক-শোতে প্রিয়াঙ্কার কাছে কারিনার প্রশ্ন পৌছে দেন।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া: সে কী! কারিনা জানে না? ওর বয়ফ্রেন্ড (সাইফ) যেখান থেকে শিখেছে (বোস্টন), আমিও সেখান থেকেই শিখেছি।

যুদ্ধটা আরো উসকে দিতে প্রিয়াঙ্কাকে করন জোহরের আরেকটি প্রশ্ন –

করন জোহর: যদি কারিনার কম্পিউটার থেকে চুরি করার দায়িত্ব দেয়া হয়, তাহলে কি চুরি করবে?

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া: আরে বাবা, আগে নিশ্চিত হন, কারিনার আদৌ কম্পিউটার আছে? আমার তো মনে হয় নেই!

অত:পর যুদ্ধ ঘনীভূত হল। একটি পুরস্কারের আসরে নৃত্য পরিচালক নিয়ে গণ্ডগোল বাঁধলো। মধ্যস্ততা করতে হয়েছিল তাদের স্বয়ং শাহরুখ খানকে।এই বছর শাহরুখের বিপরীতে দুই নায়িকার ‘রা ওয়ান’ ও ‘ডন টু’ ছবি ছিল।

একসাথে পেপসির বিজ্ঞাপন করেছিলেন। বন্ধুত্বের নিদর্শন দেখাতে হাজির হয়েছিলেন শাহরুখ খানের ‘কওন বনেগা ক্রোড়পতি’ অনুষ্ঠানে।

তাদের একসাথে প্রথম কাজ ২০০৪ সালে। সে বছরের ‘অ্যায়েতরাজ’ সিনেমায় কারিনা প্রধান নায়িকা হয়েও খুব একটা সফল হননি। তবে, খল চরিত্রে কাজ করে জনপ্রিয়তা আর পুরস্কার সব বাগিয়ে নিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। ধারনা করা হয়, যুদ্ধের সূত্রপাত তখন থেকেই। এছাড়া ডনে একটা আইটেম গানে ছিলেন কারিনা, এই গানে অংশগ্রহণ করে খুব একটা লাভও হয়নি কারিনার।

তবে এটা ঠিক যে দু’জনের দ্বৈরথ যতই গভীর হোক না কেন, দুজনের মধ্যে অন্ত্যমিলও আছে বেশ। ২০০০ সালে দু’জনই তারকাখ্যাতি পান। কারিনা অভিনেত্রী হিসেবে বলিউডে পা রাখেন। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা বিশ্বসুন্দরীর মুকুট পড়ে শোবিজ দুনিয়ায় আসেন।

কারিনার প্রথম ছবি ‘রিফিউজি’র মত প্রিয়াঙ্কার প্রথম ছবি ‘দ্য হিরো’ও ফ্লপের তকমা পায়। হারমান বাওয়েজার প্রথম ছবি ‘লাভ ২০৫০’ কারিনা ছেড়ে দিয়েছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গ্রহন করেছিলেন। প্রিয়াঙ্কার ছেড়ে দেওয়া ‘ওমকারা’ করে কারিনা পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার সমালোচক পুরস্কারভ অন্যদিকে কারিনার ছেড়ে দেওয়া ‘ফ্যাশন’ করে প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারসহ বলিউডের সব ক’টি পুরস্কার।

পারিশ্রমিক বা জনপ্রিয়তার অংকে কারিনাকে অনেকেই একটা এগিয়ে রাখলেও জাতীয় পুরস্কারের মত বড় ছক্কা কিন্তু প্রিয়াঙ্কাই হাঁকিয়েছেন। সাথে এই সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তা বা পারিশ্রমিক কোনোটাই কম নয়, সাথে আছে হলিউড যাত্রা। সেখানে কারিনা অবশ্য এখনো বিদেশের পথে পা বাড়াননি।

গুজব আছে, কারিনা কাপুরের প্রাক্তন প্রেমিক শহীদ কাপুর একসময় প্রিয়াঙ্কার বর্তমান হয়েছিলেন। দ্বৈরথ ভাবটা যেন আরো বেড়ে গিয়েছিল। তবে এখন দু’জনেই বলিউডে খানিকটা অনিয়মিত, দু’জনই ব্যস্ত নিজেদের সংসার জীবন নিয়ে।

তাই তাদের আগের সেই দ্বৈরথ ভাবটা আগের মত চোখে পড়ে না। তবে, এখন যে দু’জনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে সেটা না বললেও নয়। ‘কফি উইদ করণ’ শোয়ের ষষ্ঠ আসরের গ্র্যান্ড ফিনালেতে করণ জোহরের অনুরোধে আবারো এক সাথে হাজির হয়েছেন এই দু’জন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।