পৃ্থ্বীরাজ: মালায়ালাম থ্রিলারের সুপারস্টার

থ্রিল, টুইস্ট আর সাসপেন্স – ভারতীয় সিনেমায় এই সময়ে এসে শব্দগুলো সবচেয়ে বেশি যায় মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাথে। একটা সময় ধ্বংসস্তুপে আটকে থাকা এই দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অনেকদিন হল উন্নতির এমন চূড়ান্ত শিখরে নিজেদের নিয়ে গেছে, যে সময়ে সেরা থ্রিলার ছবিগুলোতে লেখা হয়ে গেছে তাদের নাম। বলিউডও যে প্রায়ই মালায়ালাম থ্রিলারের রিমেক করে – সেটা আর না বলে দিলেও চলে।

আর কথা যখন হচ্ছে মালায়ালাম থ্রিলার নিয়ে তখন পৃথ্বীরাজ সুকুমারানের নামটা না নিয়ে পারা যায় না। তিনি একাধারে আলোচিত ও বিতর্কিত এক চরিত্র। নিজের ঠোঁটকাটা স্বভাবের জন্য প্রায়ই ইন্ডাস্ট্রির চক্ষুশূলে পরিণত হন। একবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলে বসেন, ‘ম্যামুট্টি আর মোহনলাল সুপারস্টার হিসেবে খুবই ওভারহাইপড। তাঁরা এমন সব চরিত্র করে যেখানে কখনোই নিজেদের সত্যিকারের বয়সটা প্রকাশ করে না।’

যদিও, কাজের কথায় যদি আসা যায় তাহলে বলা উচিৎ মলিউডের সেরা ১০ থ্রিলার ছবির তালিকা করলে তাতে একাধিকবার আসবে পৃথ্বীরাজ অভিনীত ছবির নাম। এখানে ‘মেমোরিজ’, ‘মুম্বাই পুলিশ’, ‘মাস্টার্স’, ‘দ্য থ্রিলার’, ‘ক্লাসমেটস’ কিংবা ‘সেভেন্থ ডে’ – ইত্যাদির কথা না বললেই নয়।

মানে থ্রিলারের সাথে তাঁর নামটা অবধারিত ভাবেই জড়িয়ে গেছে। তিনি হলেন, মলিউডের সবচেয়ে ফিট অভিনেতা। ইন্ডাস্ট্রিতে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সিক্স প্যাক অ্যাবসের অধিকারী হন। মোহনলালের ২০ বছর পর্যন্ত ধরে রাখা রেকর্ড ভাঙেন ২০০৬ সালে। সেই বছর ‘ভাস্থানাম’ ছবির জন্য মাত্র ২৪ বছর বয়সে সেরা অভিনেতা হিসেবে তিনি কেরালা রাজ্য পুরস্কার পান। এত কম বয়সে আগে কেউই এই পুরস্কার জিতেননি।

আর এই ঘটনা ঘটে মাত্র তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বছরে। মোহনলালের এই কীর্তি ছিল ২৬ বছর বয়সে। তখনই দর্শক-সমালোচকরা বুঝে ফেলে – এসেছে নতুন তারকা, তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান। একই পুরস্কার তিনি পান ২০১২ সালেও। ‘সেলুলয়েড’-এর জন্য ২০১৩ সালে সমালোচকদের বিবেচনায় পান ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।

যদিও, বলিউডে তিনি এখন অবধি তেমন একটা সুনাম কুড়াতে পারেননি। কেন্দ্রীয় চরিত্রে করা ‘আইয়া’ ও ‘আওরঙ্গজেব’ – দু’টোই ফ্লপ হয়েছে। নীরাজ পান্ডের ২০১৭ সালের সিনেমা ‘নাম শাবানা’ ছবিতেও তিনি ছোট একটা চরিত্র করেন। নেতিবাচক এই চরিত্রই এখন অবধি হিন্দি ভাষায় তাঁর সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়ানো কাজ। ফারাহ খানের ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এ স্বয়ং শাহরুখ খানের সাথে কাজ করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। দাবী ছিল, ছবিটিতে তাঁকে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হবে সামান্যই!

তামিল ছবিতে তাঁর অভিষেকটা অবশ্য ছিল জমকালো। মনিরত্নমের ‘রাভানান’ দিয়ে ২০১০ সালে তিনি আসেন। কালজয়ী ছবিটিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন বিশ্ব সুন্দরী’র খেতাব জয় করা ঐশ্বরিয়া রায়।

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার ক্ষেত্রে বলা যায়, পৃথ্বীরাজ একদম সোনার চামচ মুখে নিয়েই জন্মেছেন। জন্ম ১৯৮৬ সালের ১৬ অক্টোবর, কেরালার ত্রিভান্ড্রামে। বাবা সুকুমারান ও মা মল্লিকা সুকুমারান দু’জনই মালায়ালাম সিনেমার পর্দায় এসেছেন। ভাই ইন্দ্রজিৎ সুকুমারান ও ভাবী পূর্ণিমা সুকুমারানও অভিনয় শিল্পী।

এত কিছুর পরও ছেলেবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভাল ছিলেন। স্কুল-কলেজ শেষ করে ইনফরমেশন টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা নেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব তাসমানিয়া থেকে। তবে, অভিনয়ের ঝোঁক ছিল শৈশব থেকেই। স্কুলে থাকতেই মঞ্চ নাটক করতেন। বিসএসসি করার সময়ই একবার স্ক্রিন টেস্ট দিয়েছিলেন, পাশ করেননি।

তবে, সুযোগের জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ২০০২ সালে অভিষেক তাঁর। এক বছরে তিনটি ছবি। তখন বয়স ১৯ কি ২০। ব্যবসা সাফল্যও আসে। ব্যাস, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তিনি অভিনয় করেন, প্রযোজনা করেন। কখনো প্লে-ব্যাক করেন। সাথে বিশ্ব ভ্রমণ আর ফটোগ্রাফির নেশা তো আছেই!

 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।