প্রিন্সেস ডায়ানার অজানা সাত অধ্যায়

ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ আজো আলো ঝলমল করে ওঠে। এত জমকালোতার ভিড়েও কখনো সখনো কোনো তীব্র যন্ত্রনার একটা আক্ষেপের সুর বেজে ওঠে। সেই সুরের নাম – ‘ডায়ানা, প্রিন্সেস ডায়ানা!’ ডায়ানা মানেই একটা আক্ষেপ, একটা কঠিন বেদনা। তিনি বেঁচে থাকতে যেমন আলোচিত ছিলেন, মৃত্যুর ২০ বছর পরও তেমনটাই আছেন।

প্রিন্স চার্লসের সাথে সারাহ স্পেন্সার

 

প্রিন্স চার্লস, মানে ডায়ানার স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিল তার বোন সারাহ স্পেন্সারের। সেই সম্পর্কের তিন বছর পর ডায়ানা ও চার্লসের বিয়ে হয়। যদিও, বিয়ের পরও ডায়ানার সাথে সারাহ’র সম্পর্কের কোনো অধ:পতন ঘটেনি। ডায়ানার আত্মজীবনীর লেখার অ্যান্ড্রু মর্টন বলেছেন, চার্লস ও সারাহ এক জীবনে ঘনিষ্ট হলেও সারাহ ছিলেন খুব অল্প সংখ্যক মানুষদের একজন যাদের অন্ধের মত বিশ্বাস করতেন ডায়ানা। তবে, প্রিন্স চার্লস নিজে সারাহর সাথে তাঁর সম্পর্ককে গুজবের চেয়ে বড় করে কখনো স্বীকার করেননি।

 

ডায়ানা ছিলেন চার্লসের দূর সম্পর্কের কাজিন। তাঁদের এই আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল রাজা সপ্তম হেনরির সুবাদে। বিয়ের আগে চার্লস আর ডায়ানার তেমন একটা মেলামেশা ছিল না বললেই চলে। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে দু’জনের মাত্র ১২ বার দেখা হয়েছে। খোদ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ইচ্ছাতেই এই দু’জনের বিয়ে হয়। ১৯৮১ সালে বেশ জাকমজকের সাথে তাঁদের বিয়ে হয়।

মজার ব্যাপার হল, বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে ডায়ানা তার হবু স্বামীকে ভুল নামে ডেকে বসেছিলেন। নামটা আসলে ভুল নয়, কিন্তু জনপরিসরে রাজ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের কাউকেই মধ্য নাম ধরে ডাকতে পারে না। মানে, বিয়ের একদম প্রথম দিন থেকেই রাজ পরিবারের ঠিক পছন্দের পাত্র হয়ে উঠতে পারেননি ডায়ানা। বিয়ের পরেও তিনি বেশ কিছু নিয়ম ভেঙেছিলেন। নিয়ম হল, রাতে খাবার পর প্রথমে রানী ঘুমাতে যাবেন, এরপর বাকিরা। ডায়ানা এই নিয়ম ভেঙে আগে ঘুমিয়ে যাওয়ার নজীর গড়েন।

রাজ পরিবারের নীতি অনুযায়ী বিয়ের অনুষ্ঠানে স্ত্রীরা আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বামীর কাছে নতি স্বীকার করেন। তবে, ‘বাধ্যগত থাকা’ এই বিষয়ে তখনই আপত্তি তুলেছিলেন ডায়ানা। পরে কেট মিডলটনও একই কাজ করেন। মিডলটন হলেন ডায়ানা ও চার্লসের বড় ছেলে প্রিন্স উইলিয়ামসের স্ত্রী।

ক্যামিলা পার্কার ও প্রিন্সেস ডায়ানা

প্রিন্স চার্লসের বর্তমান স্ত্রী ক্যামিলা পার্কার বোওলেস, ডাচেস অব কর্নওয়াল। ডায়ানার সাথে বিয়ের আগেও তাঁর সাথে চার্লসের এক বছরের সম্পর্ক ছিল। ডায়ানার কাছে চার্লসের সাথে তাঁর সম্পর্কে ক্যামিলা তাই ছিলেন ‘থার্ড পার্সন’। শোনা যায়, চার্লস আর ক্যামিলার সম্পর্কে তখন খোদ রানী এলিজাবেথ আপত্তি তুলেছিলেন। মায়ের বাধ্যগত ছেলের মত ডায়ানাকে বিয়ে করে ফেলেন।

যৌবনকালে প্রিন্স চার্লস ও ক্যামিলা পার্কার

ডায়ানা একবার আড়ি পেতে শুনেছিলেন যে, চার্লস ক্যামিলাকে বলছেন, ‘আমি তোমাকে সব সময়ই ভালবাসবো।’ মানে, ডায়ানাকে বিয়ে করলেও টিকে ছিল ক্যামিলার সাথে প্রিন্স চার্লসের মেলামেশা। তখন থেকেই ডায়ানার মত বিষিয়ে উঠতে শুরু করে। আর এরই জের ধরে এক সময় এই দম্পতির ছাড়াছাড়ি হয়ে। তখন এই দম্পতি দুই ছেলের জনক-জননী। এটা ছিল ব্রিটিশ রাজপরিবার কাঁপিয়ে দেওয়া এক ঘটনা।

ডায়ানা সব সময় টেপ রেকর্ডার ব্যবহার করতেন। সংসারে যখন আগুন জ্বলছে, তখন নিজের অনুভূতিগুলো টেপ রেকর্ডারে ডায়ানা রেকর্ড করে রাখতেন। পরবর্তীতে তিনি সেসব রেকর্ডিং একজন সাংবাদিককে দেন, যাতে করে তার ভেতরের কথাগুলো সাধারণ মানুষ জানতে পারে।

– এলে ম্যাগাজিন অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।