মালাররা বেঁচে থাকুক জর্জদের বুকে

পৃথিবীতে একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি ফ্যান্টাসি করে সম্ভবত ‘প্রেম’ নিয়ে। কিন্তু, আহমদ ছফা তো লিখেই গেছেন, ‘জীবন শিল্প নয়, কবিতা নয়। জীবনে যা ঘটে শিল্প এবং কবিতায় তা ঘটে না। জীবন জীবনই।’ তাই জীবনের বাস্তবতায় প্রেম বারবার এসে ধাক্কা খেয়েছে।

জীবনের সময়টা নেহায়েৎ কম নয়, অনেক রং বদল আসে এতে। প্রতিবারই তাই সেখানে ভালবাসা এসে আঘাত হানে নানান রঙে। কারণ, জীবন তো আর গল্প-কবিতার মত ছকে বাঁধা কিছু নয়, তাই অপ্রত্যাশিত ভালবাসার আলিঙ্গনের হাতছানি আসতেই পারে বারবার। ‘প্রেমাম’ প্রেমের ছবি, তবে সব কিছুর উর্ধ্বে এটা বাস্তবতার ছবি।

 

একজন মানুষের জীবনের তিনটি অধ্যায়ের গল্পের অসাধারণ সৃষ্টি হচ্ছে এই সিনেমাটি। একজন দুরন্ত কিশোর থেকে প্রাণচঞ্চল যুবক তারপর সময়ের সাথে সাথে একজন প্রাপ্তবয়স্ক স্থির পুরুষে পরিণত হওয়ার গল্প। সিনেমাটি একটা রূপক রূপকথা যেন… অভিনেতার তিন সময়ের অসাধারণ অভিনয় বিস্মিত করবে দর্শকদের।

সাই পল্লবী, নিভিন পাওলি কিংবা অনুপমা কে ভালোবাসেন? চোখ বন্ধ করে দেখে ফেলুন ‘প্রেমাম’। জীবনের নানান সময়ের প্রেম তুলে ধরা হয়েছে এতে। সাই পল্লবীর একটি নাচের দৃশ্য আছে এই ছবিতে, অন্তত সেটি দেখান জন্যে হলেও ছবিটি দেখা জরুরি। চাইলে স্রেফ পল্লবীর হাসির জন্যও ছবিটা দেখে ফেলা যায়। ছবিটি দেখে ‘মালার’-এর প্রেমে পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই মুশকিল।

ছবিটায় তিনি প্রচলিত একজন নায়িকার সবরকম সংজ্ঞাকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন। পল্লবী নিজেও ছবিটি মুক্তি পর বলেছিলেন, ‘আমি জর্জিয়া’য় পড়াশোনা করার সময় আশেপাশে অনেককেই দেখতাম যারা নিখুঁত চেহারা ও দারুণ পরিপাটি চুলের অধিকারী। তাই, আমি কখনো ভাবিনি দর্শক আমাকে গ্রহণ করবে। তবে কিছু ব্যাপার নিজের মধ্যে থাকে যা আপনাকে সাহায্য করে। আমার জন্য সেটা ছিলো প্রেমাম। প্রেমাম আমাকে পৃথিবীকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে এবং আমাকে শিখিয়েছে যে আত্মবিশ্বাসই হলো সৌন্দর্য এবং আপনি যেমন আছেন সেইভাবেই সুখী থাকার চেষ্টা করুন।’

সুন্দর হওয়া মানেই নিজের মৌলিকতাকে বিসর্জন দেওয়া নয়। ‘ওই ধরনের বিজ্ঞাপন করা মানে ভারতীয় নারীকে অপমান করা। যেটা আমি কখনই করতে পারব না, এটাই ভারতীয়দের রং’ – এই বলে বেশ কিছুদিন আগেও দুই কোটি টাকার বিজ্ঞাপন ফিরিয়ে দিয়েছেন পল্লবী।

প্রেমামের নির্মাতা আলফেনসো পুথারেন। ছবির শ্যুটিং হয়েছিলো কেরালার আলুভা শহরের ইউসি কলেজে। একটা দৃশ্যের জন্য কলেজের একটা কাঠের ফলেপুরোনো একটা লেখা মুছে তারপর সেখানে ‘Malar’ লেখা হয়েছিলো। পরে অবশ্য সেটা নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়। কলেজ কতৃপক্ষ থেকে অভিযোগও শুনতে হয়েছিলো পরিচালক পুথারেনকে। তিনি ক্ষমা চেয়ে কোনোক্রমে রক্ষা পান।

কিছু কিছু ছবি দেখলে সব সময়ই নতুন মনে হয়। ‘প্রেমাম’ তেমনই একটা ছবি। ছবির সিনেমাটোগ্রাফি , স্ক্রিন প্লে, অভিনয় কিংবা গান সবই ছিল প্রশংসনীয়।  রোম্যান্টিক জনরায় এটা মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রির সেরা ছবিগুলোর একটি। নিভিন, পল্লবী কিংবা অনুপমা ছাড়া ম্যাডোনা সাবেস্টিয়ান, ভিনয় ফোর্ট, অনন্ত নাগরা নিজেদের চরিত্রে যথার্থ কাজটাই করেছেন।

প্রেমাম ২০১৫ সালে মালায়াল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ছিল। তামিলনাডুতে ২০০ দিনের বেশি থিয়েটারে চলা মলিউডের দ্বিতীয় ছবি এটা। কেরালাতে ছবিটি চলে ১৫১ দিন, আর চেন্নাইয়ে ৩০১ দিন। ছবিটা একই নামে ২০১৬ সালে তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে রিমেক করা হয়। প্রধান চরিত্রে নাগা চৈতন্য এবং শ্রুতি হাসান অভিনয় করেছেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।