প্রতীক বাব্বার: দ্য নিউ জেনারেশন ভিলেন

আশির দশকে অভিনেতা রাজ বাব্বারের সাথে স্মিত হাসির স্মিতা পাতিলের প্রণয় নিয়ে বেশ আলোচিত ব্যাপার ছিল বলিউডে। ১৯৮২ সালে ‘ভিগে পালকে’ সিনেমায় এই জুটি প্রেমে পড়েন। অনেকটা বাধ্য হয়েই রাজ বাব্বার বিয়ে করেন স্মিতাকে, কারণ তিনি ছিলেন সন্তান সম্ভবা। এর জন্য পরিবারও ছাড়েন। যদিও, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হয় স্মিতার। সেটা ১৯৮৬ সালের ২৮ নভেম্বরের ঘটনা।

সেদিন জন্ম নেওয়া শিশুটি হল প্রতীক। প্রতীক বাব্বার। প্রতীকের প্রথম সিনেমা ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ব্যবসা সফল ‘জানে তু ইয়া জানে না’। প্রতাপশালী মায়ের নামের প্রতি তিনি সুবিচার করতে পেরেছিলেন ক্যারিয়ারের গোড়াতেই। সেই সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ারের মঞ্চে সেরা পার্শ্ব-অভিনেতার ক্যাটাগরিতে বিশেষ জুড়ি পুরস্কার পেয়েছিলেন প্রতীক।

২০১২ সালে আসে ‘ধোবি ঘাট’। স্ক্রিনে পাশেই পেয়েছেন স্বয়ং আমির খানকে। সবাই বলাবলি করছিল, বলিউডে নতুন তারকার আগমন হয়েছে। তাঁকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। স্টারডাস্ট তো তাঁকে রীতিমত ‘আগামীর সুপার স্টার’ পুরস্কারও দিয়ে দিলো।

তবে, ছন্দপতন হয় ঠিক এর পরের বছর। মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। পাঁচটা বছরের জন্য সিনেমার জগতে অনিয়মিত হয়ে যান। এই সময়ে ‘ইসাক’ বা ‘উম্রিকা’র মত ছবি করলেও প্রতীকের নামটা লোকে ভুলেই গিয়েছিল প্রায়।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে প্রতীক বলেন, ‘মাত্র ১৯ বছর বয়সে আমি আমার প্রথম ছবি করি। ওই সময় আসলে অভিনয় করার বা অভিনেতা হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। এটা আমার জন্য ছিল একটা পেইড হলিডে’র মত। আমি কিছু টাকাকড়ি কামাতাম, বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করতাম। সময়ের সাথে সাথে আমি শিখেছি যে, সুযোগ আসবেই – এমন ভাবাটা বোকামি। সাময়িক সাফল্য ওই সময়টাতে আমার পা মাটিতে রাখতে দিতো না। আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি ছিল খুবই ছোট, খুবই অপরিপক্ক। এখন আমি ব্যাপারগুলো নিয়ে বেশ সিরিয়াস। এখন ব্যাপারগুলোকে উপভোগ করতেও শিখেছি। এজন্যই এখন আমি সাফল্য বা সমালোচনা – কোনোটাই মনে রাখি না।’

মাদকের গ্রাস থেকে ফিরে এসে প্রতীক নিজের সারল্যকে একেবারেই ভেঙে ফেলেছেন। প্রতীক মানেই এখন ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’। প্রচলিত ধারার নায়ক হওয়ার পেছনে আর ছুটছেন না। তিনি এখন পুরোদস্তর ভিলেন। ‘বাঘি ২’, ‘ছিচোরে’ কিংবা ‘মুলক’ – যখন যা করেছেন – সেটাতেই মানিয়ে যাচ্ছেন। স্বয়ং রজনীকান্তের ছবিতে কাজ করছেন ভিলেন হিসেবে। শুধু, এমন সাফল্য পাওয়ার দিনে মা পাশে নেই।

যদিও, সাফল্য ব্যর্থতায় প্রতীকের কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন, ‘এখন আমার জন্য অভিনয়টাই হল সেই কাজ – যেটা আমি বাকিটা জীবন করে যেতে চাই। এখানে আমি নিজের শতভাগ দিতে চাই। এটা করতে গিয়ে আমি গরীব বা বড়লোক হয়ে যায়, খুব বিখ্যাত হয়ে যাই – কোনো কিছু যায় আসে না। এজন্যই তো আমি এখানে এসেছি, এটাই তো আমার কাজ!’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।