ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তিতুল্য ‘বাবা’

ঢাকার চিত্র জগতের প্রবীর মিত্র এক সময় হাতে গোনা কয়েকটি ছবির নায়ক ছিলেন। পরে চরিত্রাভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।  তাঁর পুরো নাম – প্রবীর কুমার মিত্র।

ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (এখনকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে প্রবীর কুমার মিত্র গ্র্যাজুয়েশন করেছিলেন।  প্রবীর কুমার মিত্রের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৮ আগষ্ট চাঁদপুরের নতুন বাজারে। পৈতৃক নিবাস তাঁর কেরানীগঞ্জের শাক্তায়।

ঢাকার কোতোয়ালি থানার হরিপ্রসন্ন মিত্র রাস্তাটি কিন্তু তাঁর দাদার নামে করা। তাঁর দাদাই হলেন – হরিপ্রসন্ন মিত্র। তিনি ঢাকার খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বাবা গোপেন্দ্র নাথ মিত্র ও মা অমিয়বালা মিত্র।

প্রবীর মিত্র স্কুল জীবন থেকেই নাটকে অভিনয় করা শুরু করেছিলেন। সেই ক্ষুদে বয়সে রবীন্দ্রনাথের ডাকঘরে প্রহরীর চরিত্রে অভিনয় শুরু। এরপরে আসেন সিনেমায়। প্রবীর মিত্র অভিনীত প্রথম ছবি হলো ‘জলছবি’। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭০ সালে।

ছবির গল্প ও সংলাপ লিখেছিলেন তারই স্কুল জীবনের বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামান। সেই সময় থেকে নিয়মিত সিনেমায় কাজ করছেন তিনি।

‘সেয়ানা’ ছবির পোস্টার। নায়িকা ছিলেন অলিভিয়া।

প্রবীর মিত্র অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে – জীবন তৃষ্ণা, তিতাস একটি নদীর নাম, সেয়ানা, জালিয়াত, রক্তের ডাক, ফরিয়াদ, রক্ত শপথ, চরিত্রহীন, জয় পরাজয়, অঙ্গার, মিন্টু আমার নাম, ফকির মজনু শাহ, মধুমিতা, অশান্ত ঢেউ, অলংকার, অনুরাগ, প্রতিজ্ঞা, তরুলতা, গাঁয়ের ছেলে, পুত্রবধূ, বাঁধনহারা, মৌ চোর, সুখে থেকো, ঝুমকা, সোনার তরী, সুখের সংসার, প্রতিহিংসা, আরশীনগর, মান সন্মান, চেনা মুখ, অপমান, চ্যালেঞ্জ, আশির্বাদ, ফেরারি বসন্ত, আঁখি মিলন, নাজমা, হাসু আমার হাসু, প্রিন্সেস টিনা খান, তালাক, মান সন্মান, রসের বাঈদানী, নয়নের আলো, সুরুজ মিঞা, শাহী কানন, মন পাগলা, জিপসি সর্দার, দহন, সোহেল রানা, মায়ের দাবি, দুলারি, অভাগী, নারী, শিরি ফরহাদ, বড় ভালো লোক ছিল, চাষার মেয়ে, চাবুক, নবাব সিরাজউদ্দৌলাহ, ঘর ভাঙ্গা ঘর, আবদার, বাল্যশিক্ষা, দুর্দান্ত দাপট, মৃত্যু কত ভয়ংকর, ভন্ড বাবা, রানী কেন ডাকাত, বিয়ের ফুল, বেদেনীর প্রেম, আশা নিরাশা, ডাকু ও দরবেশ, আঘাত, শত্রু,  পরিণতি, নয়া তুফান, হাইজ্যাক, জারকা ইত্যাদি অন্যতম।

ঢাকার সিনেমার ভূবনে প্রবীর মিত্র এক অসাধারণ তারকা ছিলেন।  তাকে চিনতে ভুল করেননি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া চরিচালক ঋত্বিক ঘটক। এজন্য ঋত্বিক ঘটক তাঁর ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিতে  প্রবীর মিত্রকে নিয়েছিলেন।

খুব কম লোকই জানেন যে, ক্রীড়াবিদ হিসেবেও প্রবীর মিত্র বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা হকি – তিনটাই খেলতেন। ষাটের দশকে ঢাকার প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন। তখন সেটাই ছিল ক্রিকেটের এক নম্বর ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। ছিলেন দলের অধিনায়ক। একই সময় তিনি প্রথম বিভাগ হকি খেলেছেন ফায়ার সার্ভিসের হয়ে। এছাড়া কামাল স্পোর্টিংয়ের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলও খেলেছেন।

বিয়ে করেছিলেন অজন্তা মিত্রকে। স্ত্রী মারা যান ২০০০ সালে। এরপর থেকে রোগে শোকে ও বেশ একাকিত্বেই জীবন কাটছে তাঁর।

প্রবীর মিত্রের মতো তারকা কালেভদ্রে জন্মায়। বাবার চরিত্রে আনোয়ার হোসেনের সাথে তিনিও ছিলেন সমান ভাবে জনপ্রিয়। জীবনের বড় একটা সময় তিনি ব্যয় করেছেন ঢাকার ছবিতে। অথচ আজকের দিনে তাঁকে কেউ মনে রাখেনি বললেই চলে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।