ধরণীর বুকে আকাশের ‘পরী’

আমার মনটাকে তোমার কাছে রেখে গেলাম, মনটাকে তুমি বসতে দিও, মুড়ি মুড়কি খেতে দিও, আর জলের গ্লাস দেয়ার ছলে একটু শুধু ছুঁতে দিও!

শুভ্রা, ‘স্বপ্নজাল’-এর সেই অষ্টাদশী কন্যা। বাবা- মায়ের একমাত্র মেয়ে, সমবয়সী অপুকে ভালোবাসে। বাবার খোঁজে চাঁদপুর থেকে পাড়ি জমায় কলকাতায়। সেখানে গিয়ে যুক্ত হয় নাটকে, আবার ফিরে আসে। ভালোবাসার পরিনতি যখন সফল হবে, তখন ই বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম।

অপু পাড়ি জমায় জীবন সায়াহ্নে, আর বধূ বেশে জানালার পাশে দিকপানে চেয়ে আছে শুভ্রা, এ যেন অনন্ত অপেক্ষা!

গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘শুভ্রা’ চরিত্রটি সাম্প্রতিক কালের অন্যতম সেরা নারী চরিত্র আমাদের সিনেমা জগতে। শুভ্রার স্নিগ্ধতায় পরিপূর্ণতা পেয়েছে সৌন্দর্যের অনন্যা ‘পরিমনি’-তে!

স্বপ্নজাল সিনেমায় পরিমনি কেমন অভিনয় করবেন এই নিয়েই অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। তবে সেই সন্দেহকে ছাপিয়ে বোধহয় জীবনের সেরা অভিনয় করে ফেললেন। যদিও এখনো অনেক পথ বাকি। নামেও যেমন পরী, সৌন্দর্যেও তেমন পরীর মতন।

আমাদের সিনেমা জগতে তাঁর মত সুন্দরী নায়িকা খুব কম এসেছে। অভিষেকের আগেই ১৭ টি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে রেকর্ড করে ফেলেছিলেন। তবে সিনেমা নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন।

রক্ত, মহুয়া সুন্দরী, আরো ভালোবাসবো তোমায়, অন্তরজ্বালায় আলোচনায় এলেও পরিমনির সৌন্দর্যে মুগ্ধ ভক্তরা আরো বিশেষ কিছু চেয়েছিলেন, সেটাই ধরা দিয়েছে ‘স্বপ্নজাল’-এ। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার হয়তো আসছে না, তবে দর্শক থেকে সমালোচক মহলে আস্থা এনেছেন তিনিও চাইলে এমন মুগ্ধতায় ভাসিয়ে দিতে পারেন এটাই বা কম কিসে!

স্বপ্নজাল করার পর তাঁর হাতে খুব একটা ভালো সিনেমা আসেনি,তবে সিনেমা নির্বাচনে সচেতন হয়েছেন। বর্তমানে কাজ করছেন ‘বিশ্বসুন্দরী’তে, একটা ওয়েব ফিল্ম করেছেন। পরীমনির প্রতি অনেক অভিযোগ, সেইগুলিই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্তরায়।

এই অভিযোগ গুলো কাটিয়ে উঠলেই আমাদের সিনেমা জগতের আরেক যুগান্তকারী নায়িকা হয়ে আসবেন। জানি না তিনি এমন হবেন কিনা, তবে আমরা সেই স্বপ্ন দেখতেই পারি। ওহ হ্যাঁ, ব্যক্তি পরিমনির অনেক অভিযোগ থাকলেও একটা গুণের কথা বলি।

প্রতি ঈদ উল আযহাতে তিনি এফডিসিতে দুস্থ শিল্পীদের জন্য গরু কোরবানি দেন। অনেক বড় তারকাই তো আছেন, এমন বড় মন  ক’জনের আছে! আকাশের পরী সেদিন নেমে আসে এই ধরনীর বুকে।

খুব কম ভক্তই জানেন পরীমনি তার তাঁর আসল নাম নয়। তিনি হলেন শামসুন্নাহার স্মৃতি। তিনি সাতক্ষীরার মেয়ে। জন্ম ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর। ঢাকায় তিনি পা রাখেন ২০১১ সালে। কিছু ভুল করার স্মৃতি বাদ দিলে বলা যায় ক্রমাগত তিনি ওপরেই উঠে চলেছেন। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিতে সৌন্দর্যের মুগ্ধতা নয়, সিনেমা হলেও আপনার প্রতি মুগ্ধ হতে চাই। শুভকামনা রইলো।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।