যেমন মা, তেমন মেয়ে!

বলিউডের পরিবারতন্ত্রের কথা বলতে আসলে চাইলে হাজার হাজার শব্দ খরচ করা যায়। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের সিনেমা জগতে আসা ও তারকা হয়ে ওঠার বিস্তর নজীর পাওয়া যায়। মায়েদের স্টারডমের ছায়া নিয়ে অনেক নায়িকাও এসেছেন এই দুনিয়ায়। সেই মা-মেয়ের জুটি নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • অমৃতা সিং ও সারা আলী খান

‘জাব হাম জাওয়া হোঙ্গে’ – ১৯৮৩ সালে অভিষেক ছবি ‘বেতাব’-এই গানটি দিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন অমৃতা সিং। ছবিটিতে অভিষেক হয় সানি দেওলেরও। ১৯৯৩ সাল অবধি টানা ছবি করে গেছেন। ‘আয়না’ দিয়ে ফিল্মফেয়ারে সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কারও জয় করেন। ১৯৯১ সালে বিয়ে করেন সাইফ আলী খানকে। বড় মেয়ে সারা আলী খানের অভিষেক হয় ২০১৮ সালে এসে। মায়ের মত তাঁকে ফিল্মফেয়ারের জন্য ১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়নি। প্রথম ছবি ‘কেদারনাথ’ দিয়েই তিনি জিতেছেন সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার।

  • সোনি রাজদান ও আলিয়া ভাট

আশি ও নব্বইয়ের দশকের পরিচিত অভিনেত্রী ছিলেন সোনি রাজদান। ১৯৮৬ সালে তিনি বিয়ে করেন নির্মাতা মহেশ ভাটকে। একালে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবেও বেশ সুনাম রাজদানের। অন্যদিকে, মেয়ে আলিয়া ভাট সময়ের সেরা নায়িকাদের একজন। ক্যারিয়ারের অল্প সময়েই এক গাদা ফিল্মফেয়ার জিতে নেওয়া আলিয়া মায়ের সাথে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন ‘রাজি’ ছবিতে।

  • ডিম্পল কাপাডিয়া ও টুইঙ্কল-রিঙ্কি খান্না

সত্তর  ও আশি’র দশকে ‘ববি’ ও ‘সাগর’ ছবিতে অভিনয় করে সাহসী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পান কাপাডিয়া। তিনি ছিলেন নিজের সময়ে সেরাদের একজন। পরে ‘ক্রান্তিবীর’, ‘গারদিশ’ ও ‘রুদালি’র মত ক্লাসিক ছবি করেন।  ডিম্পল ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৭৩ সালে বিয়ে করেন সুপারস্টার রাজেশ খান্নাকে। মেয়ে টুইঙ্কল খান্না ‘বারসাত’, ‘বাদশাহ’ ও ‘মেলা’র মত ছবি করলেও কখনোই মায়ের সাফল্যকে ছুঁতে পারেননি। আরেক রিঙ্কি খান্নার ক্ষেত্রে সেটা আরো বেশি করে সত্য।

  • তনুজা মুখার্জী ও কাজল-তানিশা

তনুজা মুখার্জী টালিগঞ্জ ও মুম্বাইয়ের পরিচিত অভিনেত্রী। বলিউডে তিনি ‘মেরে জিভান সাথি’, ‘জুয়েল থিফ’, ‘হাথি মেরে সাথি’ ইত্যাদি ছবির জন্য বিখ্যাত। তিনি বিয়ে করেন চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক ও লেখক সমু মুখার্জীকে। দুই মেয়ে তাদের – কাজল ও তানিশা। কাজলকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার জন্য। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘বাজিগর’, ‘করণ -অর্জুন’  কিংবা ‘ফানাহ’র মত কালজয়ী ছবি করেছেন তিনি। তানিশা অবশ্য এই দু’জনের ধারের কাছেও আসতে পারেননি।

পরিবারের সুনাম রাখতে পারেননি। দিয়েছেন ‘পপকর্ন খাও! মাস্ত হো যাও’, ‘নিল এন নিক্কি’, ‘ওয়ান টু থ্রি’-এর মত ফ্লপ ছবি। ফিল্মি দুনিয়ায় সর্বশেষ তাকে দেখা গিয়েছে ‘আন্না’ ফিল্মে। ‘সরকার রাজ’ সিনেমায় তিনি অভিষেক বচ্চনের স্ত্রী’র চরিত্রও করেছিলেন। এরপর ‘বিগ বস’-এ গিয়ে রানার আপ হয়েছিলেন।

  • শারিকা ও শ্রুতি হাসান

ষাটের দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম পর্দায় আসেন শারিকা। এরপর তিনি সফল অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও জিতেন। ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা কমল হাসানকে। তাদের দুই মেয়ে শ্রুতি হাসান ও অক্ষরা হাসান। শ্রুতি এখন দক্ষিণী ছবি ও বলিউডের অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ। অন্যদিকে অক্ষরা ২০১৫ সালে অমিতাভ বচ্চন ও ধানুশের সাথে ‘শামিতাভ’ ছবি করেন।

  • হেমা মালিনী ও এশা দেওল

‘সাপনো কা সওদাগর’ ছবি দিয়ে ১৯৬৮ সালে রাজ কাপুরের বিপরীতে ক্যারিয়ার শুরু করেন হেমা মালিনি। এরপর ‘সিতা ওউর গিতা’, ‘শোলে’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘সাত্তে পে সাত্তা’ ইত্যাদি জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেন বলিউডের ড্রিম গার্ল। ১৯৭৫ সালে তিনি বিয়ে করেন ধর্মেন্দ্রকে। তাদের দুই মেয়ে – এশা দেওল ও অহনা দেওল। তবে, এশা দেওলের গল্পটা এত সহজ নয়। বাবা-মার মত বড় তারকা হতে পারেননি তিনি। বড় কিছু ছবিতে কাজ করেও ফ্লপ নায়িক হিসেবেই পরিচিতি পান তিনি। ২০০৬ সালের ‘ধুম’-ই যা একটু আলোচিত হয়েছে। একের পর এক ফ্লপ ছবির পর তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ও নিজেকে গুটিয়ে রূপালি পর্দার দুনিয়া থেকে।

  • অপর্না সেন ও কঙ্কনা সেন

মা অপর্না সেন ও মেয়ে কঙ্কনা সেন শর্মা – দু’জনই সমালোচকদের প্রিয়পাত্র। খ্যাতিমান অভিনেত্রী অপর্না জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন, কাজ করেছেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়ের সাথে। পরিচালক হিসেবেও একালে তিনি সমাদৃত। অন্যদিকে কঙ্কনা টালিগঞ্জ ও মুম্বাইয়ের ভিন্নধারার অভিনেত্রীকে। মায়ের সুনামকে তিনি আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’, ‘১৫ পার্ক এভিনিউ’-এর মত ছবি তিনি পরিচালনাও করেছেন।

  • শর্মিলা ঠাকুর ও সোহা আলী খান

পতৌদি পরিবারের সবাই কম বেশি বড় তারকা। মনসুর আলী খান পতৌদি ওরফে টাইগার পতৌদি ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। তাঁর বাবা ইফতিখার আলী খান পতৌদি ইংল্যান্ড ও ভারত – দু’টি ভিন্ন জাতীয় দলে ক্রিকেট খেলেছেন।  শর্মিলা ঠাকুর হলেন বাংলা সিনেমা ও বলিউডের কিংবদন্তিতুল্য অভিনেত্রী।

টাইগার পতৌদিকে তিনি বিয়ে করেন ১৯৬৯ সালে। শর্মিলা ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণ বাদেও দু’টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও দু’টি ফিল্মফেয়ার জিতেছেন। এই দম্পতির তিন ছেলে মেয়ে  – সাইফ, সাবা ও সোহা আলী খান। সাইফ বলিউডে বেশ জনপ্রিয়। সেদিক থেকে সোহার ক্যারিয়ারকে একদম সাদামাটাই বলা চলে। যদিও, ‘রাঙ দে বাসন্তী’, ‘তুম মিলে’ ইত্যাদি ছবি করেছেন তিনি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।