১৩ দফা দাবি জানিয়ে মিরপুরের পথে ক্রিকেটাররা

আন্দোলনরত ক্রিকেটাররা ১৩ দফা দাবী পেশ করেছেন। একই সাথে খোলা রেখেছেন আলাপ-আলোচনার পথও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আহবানে সারা দিয়ে মিরপুরে যাচ্ছেন বিস্তারিত আলোচনা করতে। মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে তাঁদের জন্য অপেক্ষায় আছেন বোর্ড কর্মকর্তারা। বোঝাই যাচ্ছে, চলমান জটিলতা এখন নিরসনের পথে।

সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ধর্মঘট ডাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন। তিনি আজ পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন। সেখান থেকে ফিরেই তিনি আলোচনার জন্য খেলোয়াড়দের আহবান দেন। আশ্বাস দেন দাবী মেনে নেওয়ার। এরপর বিকেলে বিসিবি কার্যালয়ে ফিরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষা করেন।

বিকেল পাঁচটায় বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে আলোচনা হবে বলে আগেই জানানো হয়েছিল।কিন্তু ক্রিকেটাররা মিরপুরে না গিয়ে গুলশানে একটি হোটেলে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ক্রিকেটাররা।

১১ দফা দাবীতে আন্দোলন শুরু করলেও সংবাদ সম্মেলেন দুটি বাড়িয়ে ১৩ দফা দাবী জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান দাবীগুলো উত্থাপন করেন। কোনো আইনী নোটিশ নয়, বরং পেশাদার সাহায্য নেওয়ার জন্যই একজন আইনজীবীর দ্বারস্থ হয়েছেন ক্রিকেটাররা।

ক্রিকেটারদের ১৩ দফা দাবির এক ঝলক

১. কোয়াবের বর্তমান কমিটিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

২. ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আগের মতো আয়োজন করতে হবে।

৩. এ বছর না হলেও পরের বছর থেকে আগের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে। স্থানীয় ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য বাড়াতে হবে।

৪. প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি ১ লাখ করতে হবে। গোটা বছর কোচ-ফিজিও দিতে হবে। জাতীয় ক্রিকেট লিগে প্রতি বিভাগে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো মানের বল দিতে হবে। দৈনিক ভাতা ১৫০০ টাকায় কিছু হয় না; তাই বাড়াতে হবে। ট্রাভেলে বিমানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ভালো মানের হোটেল হতে হবে।

৬. চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা ও বেতন বাড়াতে হবে।

৭. দেশি সব স্টাফের বেতন বাড়াতে হবে। কোচ থেকে গ্রাউন্ডস ও আম্পায়ার, সবার বেতন বাড়াতে হবে।

৮. ঘরোয়া ওয়ানডে বাড়াতে হবে। বিপিএলের আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টির টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে।

৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার নির্দিষ্ট করতে হবে।

১০. বিপিএলের পাওনা টাকা সময়ের মধ্যে দিতে হবে।

১১. ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দুটোর বেশি খেলা যাবে না, এই নিয়ম তুলে দিতে হবে। সুযোগ থাকলে সবাই খেলবে।

১২. ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনায় আমরা স্বচ্ছতা চাই। এর একটা ভাগ আমরা চাই।

১৩. বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল ভালো করছে। নারীদের ক্ষেত্রেও তাদের ন্যায্য হিসাব দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘কোনো খেলোয়াড়েরই ইচ্ছা নেই কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করার। আমাদের এখনো বিসিবির প্রতি আগের মত শ্রদ্ধাবোধ আছে। সবাই আমরা খেলতে চাই, সুস্থ থাকতে চাই, পরিবারকে সাপোর্ট করতে চাই। এসবের জন্য মাঝেমধ্যে দাবি দাওয়া করা লাগে। আর সেটাই করা হয়েছে।’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।