পর্বতসম অভিনয় বৈচিত্রের পার্বতী

‘কারিব কারিব সিঙ্গেল’ – ২০১৭ সালের ভিন্নধর্মী এই রোমান্টিক ধাঁচের বলিউড ছবিতে মুগ্ধ করলেন ‘নবাগত’ এক অভিনেত্রী। সেই বছর ফিল্মফেয়ারে অবশ্য তার নাঁম উচ্চারিত হয়নি। যদিও, ঠিক সময় দক্ষিণী ফিল্মফেয়ারে নাম নামেরই মালা জপেছিল বিচারকরা। পেয়ে যান সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। এখানেই শেষ নয়, মালায়ালাম ছবি ‘টেক অফ’ দিয়ে সেবার প্রথমবারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম – পার্বতী। পুরো নাম পার্বতী থিরোভথু কট্টুভাটা।

প্রথাগত নায়িকাদের মত গ্ল্যামারাস তিনি নন। তিনি তেমন, যেমনটা তাঁর চরিত্র তাঁর কাছ থেকে চায়। তিনি তাই, যতটা না একজন নায়িকা, তার চেয়েও বেশি একজন অভিনেত্রী। এমনি এমনি তো আর তিনি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে চারটি ফিল্ম ফেয়ার জিতেননি।

সিনেমার জগতে তাঁর টেক অফ হয় ২০০৬ সালের মালায়ালাম ছবি ‘আউট অব সিলেবাস’ দিয়ে। মানে দক্ষিণী ছবি বাজিমাৎ করার ১১ বছর পর তিনি আসেন বলিউডে। তাই তো অভিনয়ে এতটা পরিপক্কতা! যদিও, অভিনয় জীবনের একদম শুরু থেকেই সুনাম কুড়িয়ে চলেছেন পার্বতী।

পার্বতীর বাবা-মা দু’জনই আইনজীবি। ১৯৮৮ সালের সাত এপ্রিল জন্ম তাঁর। স্কুলের পড়াশোনা শেষে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক করেছেন। একই সাথে তিনি একজন পেশাদার ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী।

ছোট পর্দায় তিনি প্রথমে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার কাজ করতেন। সেখান থেকে আসেন অভিনয়ে। প্রথমে সহকারী চরিত্র, পরে মূল চরিত্র। মানে, সব রকম কাজই করেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর পার্বতীর সবচেয়ে বড় কাজ হল – ‘ব্যঙ্গালোর ডেয়জ’। তারকাবহুল ছবিটিতে তিনি একজন আরজের চরিত্র করেন।  পর্দায় অল্প সময়ের উপস্থিতি দিয়েই তিনি দর্শকের মন জিতে নেন। সাথে পেয়ে যান ফিল্ম ফেয়ারে সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার। আর বলাই বাহুল্য, ‘ব্যাঙ্গালোর ডেয়জ’ মলিউডের ইতিহাসেরই অন্যতম বড় হিট।

 

এমনিতে, মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সব্যসাচী অভিনেত্রী তিনি। তিনি অনেক রকম ছবি করেন, করেন চরিত্র নিয়ে অনেক রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা। চরিত্রের স্বার্থে প্রয়োজনে শারীরিক পরিবর্তনও আনেন। মালায়ালাম ছবি তামিল ও কান্নাড়া ছবিতেও আসেন তিনি।  তবে, চরিত্র নির্বাচনে বরাবরই তিনি অতি-সতর্ক। ‘পু’, ‘ম্যারিয়ান’, ‘সিটি অব গড’, ‘উয়ারে’ – প্রত্যেকটা চরিত্রই বাকিদের চেয়ে আলাদা।

সেজন্যই তো মোট ছবির সংখ্যা ৩০ পার হওয়ার আগেই নিজের মানটা বুঝিয়ে দিয়েছেন পার্বতী। এরমধ্যে ২০১৫ সালটা তার জন্য আলাদা গুরুত্ববহ। এই সময়েই তিনি পেয়েছেন ক্যারিয়ারের দুই বড় ছবি – ‘চার্লি’ ও ‘ইন্নু নিন্তে মইদিন’।

একদিকে বোহেমিয়ান টেসা আরেকদিকে দর্শকদের দর্শকদের রোম্যান্টিকতার সাগরে ভাসানো কাঞ্চানামালা – ভিন্ন রকম দুই স্বাদ। ছবিগুলোতে তিনি যে দু’টো চরিত্র তিনি করেছেন, তাতে পার্থক্যটা আকাশ আর পাতালের। যদিও, দু’টোর সুবাদেই তিনি পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার।

পার্বতীর প্রতিভা হল রংধনুর মত। তিনি অভিনয় বৈচিত্রের সব রঙ নিয়ে মনের খোড়াক যুগিয়ে যাচ্ছেন দর্শকদের। পার্বতী নিজে অবশ্য দর্শকদের কথা খুব একটা ভাবেনই না বলে জানান এক সাক্ষাৎকারে। বলেন, ‘আমি নিজের জন্য যেটা সবচেয়ে ভাল সেই কাজটা করায় বেশি বিশ্বাস করি। পাবলিককে খুশি করার ভাবনা সব সময় মাথায় থাকলে সেটা একটা মানসিক ভীতি সৃষ্টি করে। এর থেকে নিজেকে খুশি করার জন্য কাজ করা ভাল, তাতে মানুষও খুশি হয়। এটাই আমার কাজের সবচেয়ে ভাল দিক। এখানে নিজের প্রতিভাটা নিয়ে অনেক পরীক্ষা করা যায়।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।