তিয়ানডুচেঙ: গরিবের প্যারিস!

ভূবনভোলানো আইফেল টাওয়ার দেখতে চান? না, এর জন্য আর ফ্রান্সে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। খোদ এশিয়া মহাদেশে বসেই পেতে পারেন ইউরোপিয়ান স্বাদ। এই সুযোগ করে দিচ্ছে চীন।

চীনে আসলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। নিজেদের তকমার পুরোপুরি মান রেখে দেশটি প্যারিসের আদলে গোটা একটা শহরই বানিয়ে ফেলেছে। পূর্বাঞ্চলের শহর তিয়ানডুচেঙ-কে চীন এমনভাবে সাজিয়েছে যে এটাকে এখন আর প্যারিস থেকে আলাদা করার কোনো উপায় নেই।

শহরটি কসমোপলিটন হাঙজও-এর কাছেই অবস্থিত। সাঙহাই থেকে এখানে যেতে সময় লাগে দু’ঘণ্টা।

১৬৪ একরের এই জায়গাটাকে এখন লোকে ‘প্যারিস অব দ্য ইস্ট’ নামেই ডাকে। এখানে ফ্রান্সের স্থাপত্যকৌশল অবলম্বন করে ১০ হাজার মানুষের থাকারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

২০০৩ সালের দিকে শহরটিকে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। ব্যয় হয় প্রায় ৪২০ মিলিয়ন পাউন্ড। ২০০৭ সালের দিকে শহরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি কারণ, প্যারিসের স্বাদ নিতে এখন আর আমার ফ্রান্সে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না।’

১০ বছর ধরে শহরটিতে আছেন, এমন এক বাসিন্দা জানালেন ছুটির দিনগুলোতে গোটা চীন থেকে লোকজন এখানে আসেন। শহরটির মূল আকর্ষণ অবশ্যই নকল আইফেল টাওয়ার। সত্যিকারের আইফেল টাওয়ার বানানো হয়েছিল ১৮৮৯ সালে। সেটার উচ্চতা ৩২৪ মিটার (১,০৬৩ ফুট)। তবে, এই নকল আইফেল টাওয়ার হল আসলটার তিন ভাগের এক ভাগ লম্বা। এর বাদে প্যারিসের ঝর্ণা, প্যারিসের বাগান, রাস্তা, স্থাপত্য, ভাস্কর্য – কী নেই সেখানে!

তবে, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য আদৌ বাস্তবে রূপ নেয়নি। তাঁরা এই জায়গাটাতে একটা জনবসতি গড়ে তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু, ২০১৩ সাল অবধি এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে মাত্র দুই হাজার মানুষ। এটা হল মোট ধারণ ক্ষমতার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ। তাই, তখন একে ঠাট্টা করে অনেকে ‘ভুতুড়ে নগরী’ বলেও খোঁচা দিত।

নকল বনাম আসল

তবে, চীন এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয়। ২০১৭ সালে এসে এখানকার বাসস্তানের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা হয়েছে। নতুন কাঠামোতে এখানে থাকতে পারবে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। ২০২১ সালে হাঙজও মেট্রো চালু হয়ে যাচ্ছে, যেটার একটা অংশ যাবে এই শহর দিয়ে। ফলে, তখন নি:সন্দেহে শহরটিতে এসে স্থায়ী হওয়ার ব্যাপারে চীনাদের আগ্রহ আরো বাড়বে।

ডেইলি মেইলসাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।