রোমান সানা, আমাদের ক্ষমা করুন!

গায়ে জড়ানো বাংলাদেশের পতাকা। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। স্যালুট দেয়ার ভঙ্গিতে কপালে তোলা হাত। আর দৃষ্টি সুদূরে স্থির।

এই দৃশ্যের তাৎপর্য কোটি গুণ বাড়াতেই যেনো গলায় ঝলমলে সোনার পদক।

এমন একটা ছবি দুদিন ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেসবুক-টুইটার আর নিউজ পোর্টালগুলোতে। ছবিটা দেখেছি বারবার। ছবির মানুষটার নাম রোমান সানা।

গত শুক্রবার এশিয়া কাপ র‌্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের আর্চারিতে সোনা জিতেছেন রোমান।

ক্রিকেটে বুঁদ হয়ে থাকা আমি এবং আমরা অনেকেই আর্চারির খোঁজ রাখি না। রাখা হয় না আসলে। কারণ মিডিয়া আমাদের যেভাবে ক্রিকেট চিনিয়েছে, আর্চারি সেভাবে নয়। আমরা তাই ক্রিকেটের খর্বশক্তির দলের সাথে জেতার পরও আনন্দচিৎকারে গলা ফাটাই, কিন্তু আর্চারির এশিয়ান আসরে সোনার পদকের খবর শুনে বলি- ওহ, আচ্ছা।

অনেকে আসলে জানিও না, আর্চারির এই রকম বিশ্ব ইভেন্ট আছে আর তাতে পদকও জেতা যায়। কেউ হয়তো এটুকু অন্তত জানি, কিন্তু এই পদকের তাৎপর্য কতোটা, তা বুঝি না।

আর বুঝি না বলেই রোমান সানাকে বলতে হয়- ‘আমার দেশে আমার কোনো দাম নেই’।

সকালে পত্রিকা খুলে এ রকম একটা নিউজ পড়ে হঠাৎ করেই দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এসেছে আমার। সত্যি সত্যি বাষ্প জমে গেছে গলায়। তীব্র জলোচ্ছ্বাস যেভাবে বাঁধ ভেঙে দেয়, কান্নার তোড় যেনো সেভাবেই বুক ভেঙে দিচ্ছিলো।

রোমান সানার আক্ষেপটা যেনো আমাকে উদ্দেশ্য করেই; আমিই রোমান সানার অর্জনের তাৎপর্য বুঝি না, তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সামান্য একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দেই না বা টুইটারে ঝড় তুলি না। আমার জন্যই তো রোমানকে বলতে হয়- আমার দেশে আমার কোনো দাম নেই।

স্যরি, রোমান সানা, আমাদের ক্ষমা করুন।

অথচ সাকিব একটা চার মারলে, তামিম একটা ছয় মারলে, সাব্বির একটা ক্যাচ ধরলে আমরা আবেগে ভেসে যাই। যদিও এই চার-ছয় বা ক্যাচ বেশির ভাগ সময় একটা ম্যাচও আমাদের জেতাতে পারে না। কিংবা জেতাতে পারলেও, তা সোনার পদক গলায় ঝোলানোর মতো কিছু নয়।

অথচ সানা যা জিতেছেন, তাকে বিশ্ব আর্চারি কর্তৃপক্ষ ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য বলে অভিহিত করেছে। মানে অর্জনটা ক্রিকেট বিশ্বকাপে দুই চারটা ম্যাচ জেতার চেয়েও বিশাল! ভাবা যায়?

সাকিবদের পেছনে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। সে তুলনায়, সানার পেছনে কতো যায়- তা আমি জানি না। কিন্তু অংকটা যে খুব বেশি নয়, সেটি বেশ আন্দাজ করতে পারি।

রোমান সানা, আমাদের ক্ষমা করুন ভাই।

আমরা হয়তো ক্রিকেটে বুঁদ হয়ে থাকি, জিম্বাবুয়ের মতো ক্ষয়িষ্ণু শক্তির দলের বিপক্ষে জিতেও আমরা হয়তো আবেগে বাঁধ দিতে পারি না; কিন্তু তাই বলে ভাববেন না, আমাদের কণ্ঠশক্তি শেষ!

সাআআকিব, সাআআকিব বলে যদি আমরা গলা ফাটাতে পারি, তবে আপনার নামেও সারা বাংলাদেশ স্লোগান ধরতে পারে, চিৎকারে গলা ফাটাতে পারে।

রোওওমান… রোওওমান…

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।