কোনো বিবেকবান মানুষ এতটা নোংরা, জঘন্য ভাষায় বলতে পারেন!

‘একটা ভয় ছিল (পাকিস্তান সফর নিয়ে)। আমাদের ভয় ছিল। যারা গিয়েছে, তাদের ভয় ছিল না? কিন্তু এই সফরের পর… আমাদের ছেলেরা যখন খেলে আসছে, তার (মুশফিক) বাড়ির লোকও তো খেলে আসছে! আমি বলতে চাচ্ছি, রিয়াদের কিছু হলে কিছু হবে না, শুধু ওর (মুশফিক) বেলায় পুরো পরিবার কান্নাকাটি করবে নাকি? চিন্তিত নাকি? এরকম তো আমি বিশ্বাস করি না।’

– বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন

বিসিবি সভাপতি বরাবরই উদ্ভট, আজগুবি, হাস্যকর ও বিরক্তিকর সব কথা বলে আসছেন। নানা সময়ে সেসবের সমালোচনা করে আসছি। মোটামুটি মানসিক প্রস্তুতিও থাকে যে তিনি কোন ধরনের কথা বলতে পারেন। অবাক হই না নরম্যালি। তার পরও, আজকে যা বলেছেন, তাতে বিস্মিত হয়েছি, হতাশ হয়েছি, ক্ষুব্ধ হয়েছি। একজন বোর্ড প্রধান, ক্রিকেটারদের অভিভাবক সংস্থার প্রধান এভাবে বলতে পারেন!

পরিবার নিয়ে খোঁচা তো দিয়েছেনই, বলা যায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। মুশফিকের সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। মুশফিকের পরিবার চিন্তা করতে পারে তাকে নিয়ে, এটা নাকি বোর্ড প্রধান বিশ্বাস করেন না!

একটা স্পর্শকাতর কথা, পরিবার নিয়ে এতটা আপত্তিকর কথা কতটা অবলীলায় বলে ফেললেন! শুধু বোর্ড প্রধান বলেই নয়, স্রেফ একজন মানুষ হিসেবে বললেও, কোনো বিবেকবান মানুষ এতটা নোংরা, জঘন্য ভাষায় বলতে পারেন!

অথচ তিনিই পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেটারদের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন যে কোনো সিদ্ধান্ত সমর্থন করবেন। যার ইচ্ছা যাবে, যার ইচ্ছা যাবে না। এখন বলছেন উল্টো কথা।

যদিও এই বিব্রতকর ব্যাপার নিয়ে গভীরে যাওয়াই উচিত নয়। তবু স্রেফ তার কথার খাতিরে বলছি, রিয়াদ ও মুশফিক দুই বোনকে বিয়ে করেছেন। দুজনের বাবা-মা, ভাই-বোন কি একই? রিয়াদের বাবা-মা চিন্তা কম করতে পারেন, মুশফিকের বাবা-মা বেশি করতেই পারেন। তারা কি একই সত্ত্বা নাকি? বিসিবি প্রধানের মতো একজন মানুষ এই সিম্পল ব্যাপার বোঝেন না?

একজন ক্রিকেটার বা সিনিয়র ক্রিকেটারই বলেই নন, যে কোনো মানুষের মনে প্রবল চোট লাগার কথা এরকম মন্তব্য শুনলে…

বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন অনুসারী হিসেবে, সমর্থক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে, আমি বিসিবি প্রধানের এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করলাম। অবশ্যই ও অবশ্যই উনার উচিত দুঃখপ্রকাশ করা!

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।