পাপারাজ্জিদের পোস্টার বয়, পরিচালকদের স্বপ্নের নায়ক

ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি একজন আউটসাইডার। স্টার কিড নন, চকলেট বয় সুলভ কোনো ব্যাপার নেই, আছে কেবল একটা ব্যাপার – দারুণ সব চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা। তিনি তাই পাপারাজ্জিদের পোস্টার বয়, পরিচালকদের স্বপ্নের নায়ক। ব্যান্ড বাজা বারাত থেকে গুন্ডে, রাম-লিলা, দিল ধাড়াকদে দো কিংবা বাজিরাও মাস্তানি – অভিনব সব চরিত্র করে চমকে দিয়েছেন তিনি।  তাঁর নিজস্ব কোনো ঘরানা নেই, জটিল সব চরিত্রের জন্য পরিচালকদের প্রথম পছন্দ তিনি।

তবে, সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে সঞ্জয় লিলা বানসালির সিনেমা ‘পদ্মাবত’। এখানে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্র রণবীর সিং ছাপিয়ে গেছেন আগের সকল বেঞ্চমার্ক। তিনি এমন একটা জায়গা ঘুরে এসেছেন, যেখানে আগে কেউ যায়নি। নিজের চরিত্রে তিনি এতটাই বর্বর ছিলেন যে, দর্শকরা দেখেছেন আর ভেবেছেন একজন মানুষ কি করে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন!

রণবীর সিং ছোটবেলা থেকেই অভিনেতা হতে চাইতেন। স্কুলে থাকতেই মঞ্চ নাটক, বিতর্ক করতেন। একবার পারিবারিক একটা জন্মদিনের পার্টিতে বাবাই ডেকে নিয়ে এসে নাচতে বলেন। ‘চুম্মা চুম্মা দে দে’ গানে নেচেছিলেন। সেই ঘটনায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় রণবীরের।

তবে, আত্মবিশ্বাসের সাথে ভয় ছিল। নব্বই দশকে বড় হয়েছেন। বয়স কখন ১৪-১৫ আশেপাশে দেখেছেন স্টারকিডদের ছড়াছড়ি। অভিনয়ের স্বপ্ন ছেড়ে বরং লেখালিখিতে মন দেওয়ার কথাও ভাবতে থাকেন।

আমেরিকায় পড়াশোনা করতে গিয়ে ভর্তি হন অভিনয়ের স্কুলে। প্রথম দিনই ইস্টট্রাক্টর তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি জানতে চাই না তুমি কে, তুমি কি করো, শুধু মঞ্চে ওঠো, আর আমাকে কিছু করে দেখাও।’

সেদিন থেকেই রণবীর ধ্যানজ্ঞান করে ফেলেছিলেন অভিনয়কে। থিয়েটারে কাজ করা শুরু করেন। আমেরিকা থেকে পরবর্তীতে তিনি মুম্বাই ফিরে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নেটওয়ার্ক বড় করতে থাকেন।

মূল ধারার বানিজ্যিক হিন্দি ছবিতে সুযোগ খুঁজতে থাকেন। একদিন একটা ফোন আসলো। যশ রাজ ফিল্মসের একটা চরিত্র। এরপর পরিচাল মনিশ শর্মা ও আদিত্য চোপড়ার সাথে দেখা হয়।

‘রণবীর আমরা তোমার সাথে কাজ করতে যাচ্ছি।’ আদিত্য চোপড়া যখন কথাটা বললেন, তখন রনবীরও পাঁকা পেশাদার আচরণ করার চেষ্টা করছিলেন। তবে, এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে, মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছিল না। মনিশ এসে যখন জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানালেন, তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি রণবীর। চোখ তখন ভিজে গেছে আনন্দধারায়। করিডরের মাঝে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন, ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণের আনন্দে ভাসছিলেন রণবীর।

আদিত্য চোপড়া খাঁটি রত্ন চিনতে ভুল করেননি। পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, ‘ব্যাপার না! তুমি করে ফেলবে।’ হাতে ধরিয়ে দিলেন স্ক্রিপ্ট। এরপর শুরু হল শ্যুটিং। মুক্তি পেল ব্যান্ড বাজা বারাত। বলিউডে যাত্রা শুরু করলেন রণবীর সিং। বাকিটা ইতিহাস!

২০১০ সালে শুরু হল এই রোলার কোস্টার রাইড। এরপর যত দিন গড়িয়েছে ততই মহীরূহ হয়ে উঠেছেন রণবীর। পরিচালকরা যত দুর্বোধ্য চরিত্রই এনে দিন না কেন, তিনি দেখে বলেছেন, ‘ব্যাপার না, করে ফেলবো।’

রণবীর এখন চান মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে। রণবীরের মা দেখতে চান দীপিকা পাডুকোনের সঙ্গে ছেলের এমন একটা সিনেমা, যেখানে সিনেমা শেষে নায়ক নায়িকার মৃত্যু হবে না। মায়ের ইচ্ছা সিনেমায় এখনো রনবীর পূরণ করতে না পারলেও, বাস্তবে পূরণ করতে চলেছেন!

– ফিল্মফেয়ার, গ্ল্যামশ্যাম, ডেকান ক্রনিকল ও হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।