পাঙ্গা: মধ্যবিত্ত সুখী পরিবার আর একটুখানি কাবাডি

পরিবার নিয়ে দেখার জন্য এর চেয়ে সুন্দর সিনেমা হয় না। সহজ হিন্দি, সুস্থ কিন্তু মজার সংলাপ ও দারুণ চিত্তস্পর্শী!

পাঙ্গা মানে চ্যালেঞ্জ। নিজের সাথে নিজের চ্যালেঞ্জ জয়া নিগামের অবসর থেকে ফিরে এসে কিছু একটা করে দেখানো। কিন্তু দলেই তো জায়গা পাচ্ছে না, স্বামী-সন্তান-মা সবাই অস্থির হয়ে আছে, জয়া কবে খেলবে। ওদের তো বোঝানো যাবে না যে নিজের খেলার চেয়ে দলের জেতা জরুরী, ভারতের কাবাডি ট্রফি ফিরিয়ে আনা জরুরী। যেখানে জয়া ভালোই জানে তার মতো মাঝবয়সী খেলোয়াড়কে কেউই তরুণ দলে ভেড়াতে চাইবে না। দলে সুযোগ পেয়েছে এই বা কম কি? কিন্তু আসলেই কি জয়া একটা ম্যাচ খেলতে পারবে না?

‘বেরেলি কি বারফি’, ‘নিল বাত্তে সান্নাটা’র পরিচালক অশ্বিনী তিওয়ারি তার তৃতীয় ছবিতে এমন মায়েদের কথা বলেছেন যারা সন্তানের জন্য নিজের স্বপ্নের জলাঞ্জলি দিয়ে বসে আছে। ছবিটা দেখার সময় আমার নিজের মার কথাই ভাবছিলাম। কঙ্গনা রনৌতের ছোট ছেলেটার মতো সেই বয়সে আমিও ওরকম স্মার্ট হলে আমাদের জন্য মাকে হয়তো নিজের ক্যারিয়ার ছেড়ে দিতে বলতাম না।

সময় থাকতে আফসোস যাতে করতে না হয় পরে, এমনই বাজনা বাজছিলো জয়া নিগামের মাঝে যখন তার কাছে আবার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ আসে। কয়জন এমন বন্ধুর মতো স্বামী-সন্তান পায়? কোনোদিকেই তার সমর্থনের শেষ নেই। তাহলে আবার শুরু করতে বাধা কিসের?

পাঙ্গা একটা স্পোর্টস মুভি কম, মধ্যবিত্ত সুখী পরিবারের গল্প বেশি, যেখানে খেলার অংশ আসতে অনেক সময় লাগে, তবু কখনো একটুও একঘেয়ে লাগেনি, কারণ এর লেখনী আর কাস্টিং। কঙ্গনার স্বামী হিসেবে জেসি গিল আর তার ছেলের চরিত্রে ইয়াজ্ঞা এতো ভালো, যে মা চরিত্রে নীনা গুপ্তাকে কম ব্যবহার গায়ে লাগেনি।

সাথে কলিগ-বন্ধুর চরিত্রে রিচা চাড্ডা! আহ! রিচার জন্য খারাপ লাগে, এসময় তার মতো অভিনেত্রীর নায়িকা হওয়ার কথা, কিন্তু পার্শ্ব চরিত্র করতে হচ্ছে। প্রতিটা দৃশ্যে রিচা ফাটিয়েছেন, সাথে তার আর কঙ্গনার বন্ধুত্বটাও জবরদস্ত লেগেছে। পাঙ্গার শক্তিশালী দিক এখানেই যে প্রতিটা চরিত্র ও পরিস্থিতির সাথে সহজে বাস্তবকে মেলানো যায়।

তাই বলে কখনোই লেখনী সাবপ্লটে গা ভাসায় নি। স্পোর্টস ড্রামা বা আন্ডারডগ স্টোরির সব বিট অনুসরণ করলেও এখানে টিপিকাল কোনো ভিলেন নেই। যা আছে, খুব সীমিত, কাহিনীর মূল ভিলেন যেন নায়িকা নিজেই, তার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের অভাব।

সে পারবে কিনা… শেষ অ্যাক্ট টুর্নামেন্ট চলার সময় প্রথমবারের মতো আসলেই অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছিলাম পুরা মুভির মতো শেষটাও হ্যাপি এন্ডিং হয় কিনা। এখানেই লেখনীর শক্তি।

‘পাঙ্গা’ কখনোই ‘দাঙ্গাল’ ও ‘সালা খাড়ুজ’ হতে চায়নি, এটা বেশীরভাগ সময়েই মিষ্টি একটা পারিবারিক ড্রামা। শেষ কোন স্পোর্টস মুভিটি প্রেডিক্টেবলভাবে শেষ হয়নি, ‘ফোর্ড ভার্সেস ফেরারি’ ছাড়া? মনে করতে পারবো না।

পাঙ্গা শেষের অ্যাক্টে ক্রীড়া জগতের কিছু বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, যা এতদিন একভাবে ভাবতাম। তবে মাত্র ১৩১ মিনিটের মুভি বলে খেলার বেশি গভীরে যায়নি। ওয়েব সিরিজ হলে হয়তো সম্ভব ছিলো।

মুভি হিসেবে আমার তো চমৎকার টাইম পাস হয়েছে। অভিনয়ে কঙ্গনার কথা নতুন করে বলার নেই। এই ধরনের চরিত্রে এখন তার অসাধারণত্ব পরীক্ষিত। হয়তো এবার একটু ভিন্ন কিছু দেখতে চাই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।