কেভিন সরবো: হারকিউলিস কিংবা আমাদের শৈশবের হিরো

৬ ফুট ৩ ইঞ্চির এই মানুষটাকে আমি যখন ৯০ এর দশকে নিজের বাসার ১৪ ইঞ্চির ছোট্ট একটা রঙিন টিভিতে এক ঝলক দেখতে পেতাম, তখন আমার মনে হতো আমার ছোট্ট জীবনের প্রতিটা ইঞ্চি আনন্দে ভরে গেছে। ইঞ্চি ইঞ্চি আনন্দ, ইঞ্চি ইঞ্চি ভালোবাসা!

ছেলেদের চুল সবসময় ছোট রাখাই উচিত- এমনটাই ছোটবেলায় মাথায় ঢোকানো হয়েছিল আর সেটাকেই মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু তাকে দেখার পর মনে হতো, ছেলেদের সুযোগ পেলে অবশ্যই বড় চুল রাখা উচিত তাঁর মতো। একবার চেষ্টাও করেছিলাম নিজে কিছুটা, কিন্তু এরপরে ক্লাস টিচার যে মাইরটা দিয়েছিলেন, সেটা এখানে বলা খুব একটা প্রাসঙ্গিক হবে না আর।

হারকিউলিস শুরু হওয়ার সময় নিজের হাতে থাকা একটা ‘গদা’ দিয়ে তিনি বিরাট এক দৈত্যের মুখে একটা জোরে বাড়ি দিতেন। সেই বাড়িটা আমার মনে হতো- শচীন টেন্ডুলকারের সিক্স পেটানো।

আমাদের নব্বই দশকের মানুষগুলোর জীবন আনন্দে ভরে দেয়া এই মানুষটির আসল নাম আমি জেনেছি অনেক পরে, তাঁর নাম কেভিন সোরবো। হারকিউলিস করার আগে তিনি বছর তিনি পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছেন, ১৫০ এর উপরে বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন, কিন্তু এত কাজের পরেও কেউ তাকে সেভাবে তখনও চিনেনি। এরপরেই কাজ করলেন ‘হারকিউলিস: দ্য লেজেন্ডারি জার্নিস’-এ। বাকিটা ইতিহাস। মানুষ এখনও তাঁকে হারকিউলিস নামেই ডাকে।

এখনকার কেভিন সোরবো

এই টিভি সিরিজ করার সময় বেশ কয়েকবার তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল, এরপরেও তিনি কাজ থামান নি। একটু বিশ্রাম নিয়েই আবার শুটিং এ চলে যেতেন, আবার অসুস্থ হতেন, আবার বিশ্রাম নিয়ে আবার শুটিং। উদ্দেশ্য সম্ভবত একটাই – আমাদের মানে দর্শকদের বিনোদন দেয়া।

হানিফ সংকেত একবার ইত্যাদির একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছিলেন কেভিন সরবো আর তাঁর হারকিউলসের উপরে। এই একটা পর্বের জন্য হলেও হানিফ সংকেতের কাছে আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ। মিনেসোটার মাউন্ড নামের শহরে তাঁর নামে একটি পার্ক আছে। সোরবো পার্ক।

খুবই অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, হারকিউলের পর তিনি আরও শত শত কাজ করলেও (এখনও করে যাচ্ছেন), সেভাবে আর পরিচিতি পান নি। তবে আমরা নব্বই দশকের মানুষেরা নিজেদের ঐ সময়টার পরিচয় দেয়ার জন্য তাকে যে সবসময় মনে রেখে চলেছি, সেটা কোনদিন জানতে পারলে হয়ত তিনি অনেক বেশি আনন্দিত হবেন।

টিভি সিরিজে কাজ করা নিয়ে একটা চমৎকার মন্তব্য করেছিলেন তিনি- টিভি খুবই মজার একটা মাধ্যম। আপনি টিভি তে কাজ করা শুরু করলে নিজে আর টিভি দেখার সময় করে উঠতে পারবেন না, যেমন হারকিউলিসের জন্য আমি নিজেই অনেকদিন টিভি দেখার সময়ই করে উঠতে পারি না!

প্রতি পর্ব শেষে কারো সাথে আপনার হ্যান্ডশেক করার স্টাইলটা আমি এখনও মনে রেখেছি!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।