নামগুলো যদি এমন হত!

একেকটি বিশ্বখ্যাত সিনেমা বা জনপ্রিয় টেলিভিশনগুলোর পেছনে আছে অনেক মানুষের পরিশ্রম আর লম্বা সময়ের পরিকল্পনা। আর তার জন্যই, প্রাথমিক ভাবে নির্মানটিকে যেমন করে ভাবা হয়েছিল, কাজ করতে গিয়ে তাতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিছু ব্যাপার বাদ দেওয়া হয়েছে, অনেক কিছু সংযোজনও হয়েছে। কেউ কেউ তো প্রাথমিক ভাবে ভেবে রাখা নামটাও বাদ দিয়ে ফেলেছেন। হলিউডে এমন বিস্তর নজীর পাওয়া যায়।

  • দ্য বিগ ব্যাঙ থিওরি

শেলডন কুপার নয়, জিম পারসন্সের চরিত্রটির জন্য প্রথমে নাম ভাবা হয়েছিল কেনি। আর সেটা হলে খ্যাতনামা এই সিরিজটির নাম হত – ‘লেনি পেনি অ্যান্ড কেনি’। নি:সন্দেহে এই নামটাও মন্দ নয়!

  • মিস্টার বিন

মিস্টার বিন সিরিজ ও চরিত্রটির জন্য রীতিমত কিংবদন্তি বনে গেছেন রোয়ান অ্যাটকিনসন। এই নাম নিয়ে অ্যাটকিনসন প্রথম যখন আসেন, তখন তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তখন স্টেজ শো করতেন, প্রথম প্রোগ্রামটায় নাম ছিল ‘মিস্টার কলিফ্লাওয়ার। পরের প্রোগ্রামের আগে কেউ একজন ‘মিস্টার বিন’ নামটা সুপারিশ করেন। বাকিটা ইতিহাস।

  • ব্যাক টু দ্য ফিউচার

ইউনিভার্সাল পিকচার্সের কালজয়ী সিনেমা ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’-এর নাম প্রথমে ভাবা হয়েছিল ‘স্পেসম্যান ফ্রম প্লুটো’। কারণ কি? ব্যাখ্যা দিয়ে সিড শেইনবার্গ বলেছিলেন, ‘নামে ফিউচার আছে এমন কোনো সিনেমা আজ অবধি সফল হয়নি।’ পরে লেখক ও প্রযোজক বব গেল বলেন, ‘এই পৃথিবীর প্রত্যেকেই ব্যাক টু দ্য ফিউচার নামটা পছন্দ করবে, শুধু সিডকে ছাড়া। তো আমরা স্টিভেনের (পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ) মতামত চাই। ও আসলেই নাম পাল্টাতে চাই কি না জিজ্ঞেস করি।’

স্পিলবার্গ নাকি জবাবে বলেছিলেন, ‘সিড, তোমার রসাত্মক কথার জন্য ধন্যবাদ। এত বড় কৌতুক অনেকদিন পর শুনলাম। খুব হাসলাম।’ এর মধ্য দিয়ে ‘স্পেসম্যান ফ্রম প্লুটো’ নামটা বিদায় হল।

  • ফ্রেন্ডস

সামান্য একটা সিদ্ধান্ত কত কিছুই না পাল্টে ফেলতে পারে। খ্যাতনামা টেলিভিশন সিরিজ ‘ফ্রেন্ডস’ নিয়ে ২০১২ সালে প্রকাশিত ভ্যানিটি ফেয়ারের সংখ্যাটা পড়লে তাই মনে হবে। শুরুতে এই সিরিজটির নাম ভাবা হয়েছিল ‘সিক্স অফ ওয়ান’।

  • প্রিটি উম্যান

‘প্রিটি উমান’ সিনেমার নাম প্রাথমিক ভাবে রাখা হয়েছিল ‘থ্রি থাউজ্যান্ড’। কারণটা স্পষ্ট। সিনেমায় এডওয়ার্ড লুইসের চরিত্রে কাজ করা রিচার্ড গিয়ার নিজের সাথে এক সপ্তাহ থাকার জন্য ভিভিয়ান ওয়ার্ডের চরিত্র করা জুলিয়া রবার্টসকে তিন হাজার পাউন্ড দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।

  • রিটার্ন অব দ্য জেডি

স্টার ওয়ার্সের ডকুমেন্টারি ‘এম্পায়ার অব ড্রিমস’-এর প্রযোজক হাওয়ার্ড কাজানিজানের ‘রিটার্ন’ কথাটায় আপত্তি ছিল। শব্দটাকে দুর্বল মনে হয়েছিল তাঁর কাছে। তাই নাম পাল্টে প্রযোজক জর্জ লুকাস রেখেছিলেন ‘রিভেঞ্জ অব দ্য জেডি’। যদিও, সিনেমা মুক্তির সপ্তাহখানেক আগে আবারো নাম পরিবর্তন করে ‘রিটার্ন অব দ্য জেডি’ রাখেন। কারণ কি? কারণ, জেডি কোনো প্রতিশোধ বা রিভেঞ্জ নেয়নি।

  • হান্নাহ মন্টানা

ডিজনি’র জনপ্রিয় শিশুতোষ টেলিভিশন শো ‘হান্নাহ মন্টানা’র নাম প্রথমে ভিন্ন ছিল। প্রথমে ‘অ্যালেক্সিস টেক্সাস’ নামটা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু, গোল বাঁধে অন্যখানে। এই নামটা একই সাথে একজন পর্ন ছবির তারকার নামও। তাই বাধ্য হয়েই নাম পাল্টানো হয়।

– বোরড পান্ডা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।