ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তুমি কার!

ভাজাপোড়া খেতে কে না ভালবাসে? আর সেটা যদি হয়, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তাহলে তো কথাই নেই!

এবার প্রশ্ন হল – কোথা থেকে এল এই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই? ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের আবিস্কারক কি ফ্রেঞ্চ মানে ফরাসিরা?

ফরাসিরা দাবী করে, প্রথম ফ্রাইস বিক্রি হয়েছিল প্যারিসের রাস্তায়। পন্ট নুফে, ১৭৮০-এর দশকে। এগুলোকে বলা হত ‘ফ্রিটেস’। ফরাসি বিপ্লব দানা বেঁধে ওঠার আগে ফ্রান্সে এগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল।

যদিও, বেলজিয়ানদের দাবী অন্যরকম। তাঁরা বলে সেই ষোড়শ শতকের শেষ ভাগ থেকেই ইউরোপিয়ান এই দেশটিতে আলু ভেজে খাওয়ার চল ছিল।

বেলজিয়ান গ্রামবাসীরা মাছ মোটা মোটা টুকরো করে ভেজে খেতো, নাস্তার জন্য। তবে, শীতকালে নদীর পানি জমে বরফ হয়ে যাওয়ায় কোনো মাছ ধরা সম্ভব হত না। তখনই একইভাবে আলু ভেজে খাওয়ার আইডিয়া পেয়ে যায় তাঁরা। তাই, তারাই নিজেদের ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের আবিস্কারক বলে মনে করে।

আর বরাবরের মত এখানেও আমেরিকানরা ছোট একটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। তাঁরা বলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনারা যখন বেলজিয়ামে ছিল, তখন তারা এই আলু ভাজা করে খেতো, শিখেছিল স্থানীয়দের কাছ থেকেই। আর যেহেতু, বেলজিয়ানরা ওই সময় ফরাসি ভাষায় কথা বলতো, তাই সৈন্যরা এর নাম দিয়েছিল ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’।

মানে নামকরণটা আমেরিকানদেরই করা। যদিও, অনেক ঐতিহাসিক এই ইতিহাসকে অস্বীকার করেন। কারণ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যে। আর সেই ১৮৫০-এর দশকের একটি আমেরিকান রান্নার বইয়ে ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাইড পটেটোস’ শব্দের উপস্থিতি দেখা গেছে। এমনকি ১৮৫০ এর পর থেকে প্রথম বিশ্বের আগ অবধি অনেক জায়গায়, অনেক লেখাতেই এই তিনটি শব্দ দেখা গেছে।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিয়ে আমেরিকানদের আরেকটি তত্ত্ব আছে। ১৮ শতকের আমেরিকান রাষ্ট্রপতি থমাস জেফারসনকে একবার নাকি ডিনারে ‘ফরাসি কায়দায় বানানো আলু’ খেতে দেওয়া হয়েছিল। আর এটাই প্রমাণ করে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাইকে এক করে আমেরিকানদের ইতিহাসটা গালগল্পের বেশি কিছু নয়।

তাহলে এবার আবার মূল প্রশ্নে ফিরে যাই – তাহলে কোথা থেকে আসলো এই মুখরোচক ফ্রেঞ্চ ফ্রাই? আচ্ছা, এই প্রশ্নের জবাব যাই হোক – তাতে কার কি আসে যায়। একবারই এই সদ্য ভাজা আলুগুলোর দিকে তাকান। এদের খাওয়া বাদ দিয়ে এদের ইতিহাস নিয়ে সময় ব্যয় করার কোনো মানে আছে? এদের নাম ফ্রেঞ্চ ফ্রাই না হয়ে অন্য কিছু হলেও বা কি যায় আসতো?

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার যেমন বলেই দিয়েছেন, ‘নামে কি আসে যায়?’

– বিয়িং ইন্ডিয়ান অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।