টিকটক ব্যবহার করলেই খ্যাত! এটা কেমন কথা!

টিকটকের অপুকে নিয়ে অনেকেই দেখি অপমানজনক অনেক কিছু লিখছেন। কিন্তু রাস্তায় মানুষের গায়ে হাত তোলা ছাড়া তার আর কোনো দোষ সত্যি বলছি আমার চোখে পড়ছে না। বরং এই পুরো ঘটনার পরতে পরতে আমি শুধু রেসিজমই দেখতেছি।

আমি প্রচুর টিকটক ভিডিও দেখি। তাই অপুকে আমি চিনতাম। তার অনেক ভিডিও আমি দেখছি। চুলের কারনে সহজেই ওকে আলাদা করা যায়। রাস্তায় তো হরহামেশাই আমরা বিভিন্ন কালারের চুলওয়ালা মানুষ দেখি। সেটা কারও কাছে অদ্ভুত মনে হতে পারে, আবার কারও কাছে ভালোও লাগতে পারে। অপুর চুলের যেই কালার বা স্টাইল – বুকে হাত দিয়ে বলেন এমন কালারের চুল কি আপনি কোনো ফুটবল বা রেসলিং স্টারদের দেখেননি?

আরেকটা সমালোচনা চলছে – অপুদের মতো সেলিব্রেটিরা নাকি সমাজ ধংস করে দিচ্ছে। আচ্ছা, কীভাবে ওরা সমাজ ধংস করছে? কী করলে সমাজ ধংস হয়?

আবার বলা হচ্ছে, ওদের কাছ থেকে কী শেখার আছে? কী একটা অদ্ভুত প্রশ্ন! সবার কাছ থেকেই আপনার কিছু না কিছু শিখতে হবে? দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাকিব খান – সামলমান খান – বিল গেটসের কাছ থেকে আপনি কী শিখছেন এই পর্যন্ত জীবনে? অথবা আপনি জীবনে যত মানুষ চেনেন, তাদের কার কাছ থেকে কী শিখছেন, সেটা একটু নিজেকে জিজ্ঞেস করলেই হয়।

আমাদের এখানে শ্রেণী ভেদাভেদ অনেক চরম এবং স্পষ্ট। সালমান মুক্তাদিরের সমালোচনাকারীদের অনেক নারীসঙ্গ নাই, পশ লাইফস্টাইল নাই, আর অপুর সামলোচনাকারীদের মিলিয়ন মিলিয়ন ফলোয়ার নাই। সেলুনে কাজ করা একটা ছেলের লাখ লাখ ফলোয়ার হয়ে যাবে, এটা অনেকেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। বাস্তব। আমাদের দেশে মনে হয় রাস্তা বন্ধ করে আর কোনোদিন শুটিং হয় নাই। অপুই প্রথম করছে। শুটিয়ের সময় পথচারিদের সাথে উচ্চবাচ্যও মনে হয় অপুই প্রথম করল এদেশে। কথা সেটা না।

কথা হচ্ছে যে কাজটা অপু করলে অপরাধ, সেটা সবাই করলেও অপরাধ হওয়া উচিত। শাকিব খান করলে আমরা ওভারলুক করব, আর অপু করলে হামতাম করব, সেটা হওয়া উচিত না। যেই পুলিশ সদস্য অপুকে ফকিন্নির পুত বলছে, সে কীভাবে এই কথা বলল, তার বিচারও হওয়া দরকার না? নাকি যার টাকা পয়সা আপনার চেয়ে কম, তাকে ফকিন্নির পুত বলা ঠিক আছে!

অপুর মতো সেলিব্রেটিরা নাকি টিকটকে নিন্মমানের কনটেন্ট বানাচ্ছে। কোনটা নিন্মমানের কনটেন্ট, কোনটা উচ্চমানের.. সেটার মানদণ্ড কী? অপু যেসব কনটেন্ট বানায়, একই রকম জিনিস আরও অনেকেই বানায়। টিবটকটা হচ্ছে একটা ট্রেন্ডি অ্যাপ। এখানে যখন যেটা ট্রেন্ড, সবাই সেটা নিয়েই ভিডিওই বানায়।

অপুর ফ্যান ফলোয়ার সত্যিই অবাক করার মতো। অনেক পাড়ায় মহল্লায় তার ফ্যান ক্লাব আছে, এটা আমি টিকটকের ভিডিওতেই দেখছি বিভিন্ন সময়। এই ফ্যান ক্লাবকে অনেকে গ্যাং বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। একই সার্কেলের অনেকে এক জায়গায় থাকলে তখন তাদের গলা চওড়া থাকে। অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে। এটাই হয় সবসময়।

অপুর ফ্যানরাও উত্তরায় হয়তো এটাই করছে। যদি সত্যিই করে, তাহলে তাদের বিচার হওয়া উচিত। এবং একই সাথে রাজনৈতিক দলের নাম করে যারা মানুষকে হয়রানি করে বা সংখ্যায় কম মানুষদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তাদেরও বিচার চাই।

একজনের লাইফস্টাইল আমাদের সাথে না মিললে তাকে বড়লোকের বখে যাওয়া ছেলে কিংবা ফকিন্নির পুত বলে গালি দেই আমরা।

এক ডিগ্রী এগিয়ে লাইকি ঘোষণা দিয়েছে তাঁরা তাঁদের ফ্ল্যাটফর্ম থেকে অপুকে ব্যান করছে। অপু করছে ফৌজদারি অপরাধ, আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হবে। এটার জন্য তার সেশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ব্যান হবে কেন? সালমান খান বিরল প্রজচাতির হরিণ মেরে ফেলেছে, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ মারছে, এখন ফেসবুক-টুইটার যদি বলে সালমান খানকে আমরা আমাদের ফ্ল্যাটফর্ম থেকে ব্যান করে দিলাম, তাহলে কেমন হবে!

শেষ কথা হচ্ছে, টিকটককে এত খাটো করার কি আছে? টিকটকের জনপ্রিয়তা ইতোমধ্যেই আকাশছোঁয়া। এই অ্যাপ নিয়ে সারা বিশ্বে এখন তোলপাড় চলছে। এই ব্যপক আলোচনা-সমালোচনা দেখলেই বোঝা যায় টিকটকের প্রভাব কতদূর! ইন্সটাগ্রাম, ফেসবুক ব্যবহার করলে ঠিকাছে, টিকটক ব্যবহার করলেই খ্যাত! এটা কেমন কথা!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।