একটি ছবি: কত গল্প, কত অনুপ্রেরণা

আকবর, ইমনরা গতকাল বিশ্ব জয় করেছে। এই ছবির ৮ খেলোয়াড় আছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলে। ভাবছিলাম ছবির শুয়ে থাকা এই মানুষটির কথা। তিনি আমাদের বিকেএসপি কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল স্যার কর্নেল ইমরান রউফ। ভালোবেসে আমরা যাকে বলি ‘ মানুষটা পাগল’

তিনি যেহেতু কোচ নন, তাই খেলোয়াড় তৈরি করাও তার কাজ নয়। তিনি খেলোয়াড় তৈরি করেনও নি৷ তবে তিনি আকবরদের গড়ে তুলেছেন চ্যাম্পিয়ন মানসিকতায়। খাতা – কলমে একজন প্রিন্সিপালের কাজ শুধুই কলেজে। মানুষটি কলেজ শেষ করে সোজা মাঠে। তার ৫ মিনিটের বক্তব্য একটি ম্যাচ খেলার ব্যাটারির চার্জ।

অন্ধকার ভোরে ঘুম থেকে উঠে দলের সঙ্গে মানুষটি ছুটে যেতেন ফতুল্লা,মিরপুর। ছেলেদের পানি টানা থেকে শুরু করে বুট জুতোর ফিতা বেধে দেওয়া। কি না তিনি করেছেন! তিনি প্রিন্সিপাল থাকাকালীন প্রায় ১ যুগ পর প্রিমিয়ার ক্রিকেটে ফিরেছিল বিকেএসপি। মানুষটি বদলি হওয়ার দুই বছরের মধ্যে বিকেএসপি দল এখন দ্বিতীয় বিভাগে।অর্থাৎ দুই বছরে নিচে নেমে গিয়েছে দুই ধাপ।

মানুষটি কোথায় না ছিলেন! এসএসসি পরীক্ষার হলের গল্প বলি। ইপিজেডের জ্যামে পড়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে আধ ঘন্টা দেরি। মানুষটি ছুটে গেলেন পরীক্ষা কেন্দ্রে। হাত – জোর করে আদায় করে নিলেন বাড়তি আধ ঘণ্টা সময়। ছেলেরা জানত তাদের মাথার ওপর বড় একটা বট গাছ আছে।

আমি নিশ্চিত আকবরের হাতে ট্রফি দেখার পর এই মানুষটিই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। হয়তো পাগলামিতে কয়েক রাত ঘুমাতেও পারবেন না। উনি মানুষটাই এমন।

বাংলাদেশের বিশ্বজয়ের পথে ১৫ জন ক্রিকেটার ছিলেন।তাদের যে সব কোচেরা তৈরি করেছেন, তাদের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা । সঙ্গে এই পাগলাটে মানুষটির জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা। স্যার আপনি যেখানেই থাকবেন, আপনার পাগলামো আপনার ছাত্ররা খুব মিস করে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।