অনবদ্য সাহসী এক হিরো

তেলেগুতে এই প্রজন্মের সেরা অভিনেতা কে? উত্তরটা দিতে খুব বেশি ভাবতে হবেনা আপনার। যদি আরেকটা চমকপ্রদ প্রশ্ন করি – এই জেনারেশনের প্রথম আন্ধ্রপ্রদেশ-নিজাম ভিত্তিক তেলেগু মুভির সর্বোচ্চ গ্রোসার কার? ভ্রু কুঁচকে গুগল করে একটা উত্তরই পাবেন নান্দামুরি তারাক রামা রাও জুনিয়র!

তেলেগু ইন্ডাস্ট্রির জনক বলা হয় তার দাদা নান্দা তারাক রামা রাওকে (এনটিআর)। তেলেগু ইন্ডাস্ট্রির প্রথম ইন্ডাস্ট্রি হিট খ্যাত মায়া বাজারের নায়ক ছিলেন তিনি। পরিস্কার বললে প্রথম পাঁচ ইন্ডাস্ট্রি হিটের তিনটিই ছিল তাঁর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কৃষ্ণা (মহেশ বাবুর পিতা) আর আক্কিনেনী নাগেশ্বরা রাও (নাগার্জুনার পিতা)। বলা বাহুল্য চিরঞ্জীবীর উত্থানের আগে গ্রেট নান্দামুরির পাশাপাশি বাকি তিন ইন্ডাস্ট্রি হিট এ দুজনের ভাগেই ছিল। সেই প্রজন্মের পরের ধাপে আসেন চিরঞ্জীবী, আর আক্কিনেনি লিগেসি ধরে রেখে অন্তত একবার পাল্লা দিয়েছিলেন নাগার্জুনা। তেমনিভাবে গ্রেট নান্দামুরির পুত্র হিসেবে বালাকৃষ্ণাও পেয়েছিলেন একটা ইন্ডাস্ট্রি হিট মুদ্দুলু মায়াভা মুভি দিয়ে।

এই সেকেন্ড জেনারেশনে ক্লিয়ারলি চিরঞ্জীবী ছিলেন শো স্টপার, দ্য গ্রেটেস্ট – যিনি কিনা একসময় অমিতাভ বচ্চনকে টপকে হয়েছিলেন বলিউডেরও সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত! থার্ড জেনারেশন লিগ যদি টানতে হয় তবে তেলুগুতে এ জেনারেশনে আছেন পবন কল্যাণ, মহেশ বাবু, তারাক জুনিয়র, রামচরণ, প্রভাস, আল্লু অর্জুনরা।

এই জেনারেশনের উত্থানের আগে ইন্ডাস্ট্রি হিট ছিল চিরঞ্জীবীর ইন্দ্রা! ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ৩১ কোটি শেয়ার হওয়া মুভিটির তেলেগু স্টেইট অন্ধ্রপ্রদেশ এবং নিজাম শেয়ার ছিল ২২.৫ কোটি। এই জেনারেশনের প্রথম নায়ক হিসেবে তারাক রামা রাও জুনিয়র এপি/নিজামের শেয়ার টপকে এপি নিজামের অল টাইম হাইয়েস্ট শেয়ার ২৪ কোটি করেন সিমিহাদ্রিতে। পরিচালক রাজামৌলিসহ প্রোডাকশন এটাকে তেলেগু ইন্ডাস্ট্রি হিট বলে দাবী করে।

একই সাথে কর্নাটকে তেলুগু মুভির সর্বোচ্চ আয় ছিল সিমহাদ্রিতেই। তবে নতুন হিরো হওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলে তেমন রিলিজ পায়নি মুভিটা। আর তাই ইন্দ্রার টোটাল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড শেয়ার টপকে ইন্ডাস্ট্রি হিট হয়নি সিমহাদ্রি।তবে অন্ধ্রা-নিজামের সবচেয়ে আয় করেছিল মাত্র ২০ বছরের তারাকের মুভি। সেজন্য তারাককে বলা হয় এই জেনারেশনের প্রথম তেলেগু ভিত্তিক সর্বোচ্চ গ্রোসারের মালিক। উপরে যে লিগেসি বলেছিলাম সেটা গ্রেট তারাক-বালাকৃষ্ণা-তারাক জুনিয়রের মতো, কৃষ্ণা-মহেশেও কম্পলিট হয়েছিল মহেশ বাবুর পক্কিরি ইন্ডাস্ট্রি হিটে। এ প্রজন্মে তারাক জুনিয়র, মহেশ বাবু, রামচরণ, পাওয়ান,প্রভাস প্রত্যেকেই একবার হলেও এপি/নিজামের হাইয়েস্ট গ্রোসার বা ইন্ডাস্ট্রি হিটের অধিকারী হয়েছেন।

তারাকের ক্যারিয়ারের শুরুটা হতে পারতো দুর্দান্ত। স্টুডেন্ট নাম্বার ওয়ান দিয়েই অভিষিক্ত হবার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু পোস্ট প্রোডাকশনে এত সময় লেগেছিল যে নিন্নু চোড়ালানাই মুক্তি পেয়ে যায়। জনগণ যে গ্রেট তারাকের উত্তরসূরির খুঁজে গিয়েছিল তা না পেয়ে অকথ্য তিরষ্কার শুরু করে তাকে নিয়ে। ১৭ বছরের মোটা এক ছেলেকে পরের স্টুডেন্ট নাম্বার ওয়ানেই সবাই গ্রহণ করতে শুরু করে।

আদি দিয়ে নিজেকে জানান দেন নেক্সট জেনারেশনের লিডার হবার ক্ষমতা আছে তার।২০০৩ সালে সিমহাদ্রি তো ট্রেন্ডসেটার। বিশ বছরের যুবকের গোফের লুক আর মারদাঙ্গা একশন তাকে পাইয়ে দেয় ইয়াং টাইগার পদবী।সেই পদবী এখনো রয়ে গেছে তার নামের সাথে। যদিও এরপরের সময়টা তার জন্য ছিল বিভিষিকাময়। টানা চারটা বস্তাপচা মুভিতে অভিনয় করেন, আর ক্রিটিক্সরা দেখে ফেলেন তার শেষ। ২০০৬ সালের রাখি মুভিটা ছিল তার ক্যারিয়ারের লাইফলাইন।

সুপারহিট এই মুভিটায় তারাক আবার প্রশংসিত হোন, বলা যায় নায়িকসুলভ রিসিপশন শুরু এখান থেকেই। পরের বছর ইমাদুঙ্গার ব্লকবাস্টার তাকে তেলেগুর সেরা তিন পজিশনে বসিয়ে দেয়। বক্স অফিস আর ক্রিটিক্স রিসিপসশনে এরপর শুধু উত্থানপতনের খেলা। কখনোবা আধুরস নিয়ে প্রশংসায় ভেসেছেন, কখনোবা দাম্মুতে ব্যর্থ হয়েছেন তবে টানা তিন ফ্লপের পর বাদশাহ মুভিটাকেও তাই আমি তার ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলবো।

স্টুডেন্ট নাম্বার ওয়ান দিয়ে পরিচয়, সিমহাদ্রি দিয়ে খুটি গাড়া, রাখিতে অবস্থান নিশ্চিত করা, বাদশাহ দিয়ে বক্স অফিসে আবার ঝড় তোলা এই ৪টা মুভি যদি টার্নিং মোমেন্ট হয়, তবে তারাক রামা রাওয়ের গেইম চেঞ্জার ৫ম মুভিটা টেম্পার। ইয়েস! পুরির এই মুভি দিয়েই বদলে যাওয়া তারাকের নতুন করে শুরুর গল্প। আর তারপরেই জনতা গ্যারেজ, নান্নাকু প্রেমাথু আর সর্বশেষ জয় লাভা কুসা এসেছে।

দুর্বল অভিনেতা থেকে শক্তিমান অভিনেতা, বাচ্চাসুলভ অঙ্গভঙ্গি থেকে দুর্দান্ত ড্যান্সার, শিশু অভিনেতা থেকে শক্তিমান ডায়লগ থ্রোয়ার, দুর্বল ফিজিকের অধিকারী থেকে সিক্স প্যাকের মালিক – সময়ের সাথে সাথে কম বদলাননি নান্দামুরি বংশের ‘লেটেস্ট’ নেতা নান্দামুরি তারাক রামা রাও জুনিয়র। কখনো জবাব দিয়েছেন অভিনয় দিয়ে, কখনোবা তাঁর বক্স অফিস সাফল্য দিয়ে।

এখন কেউ তেলেগুর সেরা অভিনেতা খুঁজলে তাকে বাদ দিয়ে সে পোল করতে পারবেনা, সেরা ডান্সার খুঁজলে তাকে ছাড়া পোল হবেনা, সেরা ডায়লগ থ্রোয়ার খুঁজলে তার সাথে যাবে এমন কাউকেই পাবেনা। হ্যা, সময় সময়ে নিজেকে বানিয়েছেন দুর্দান্ত, অনবদ্য আর সাহসী এক হিরো।

একজন ধুন্ধুমার অ্যাকশন হিরোকে চিনতে গিয়ে দুর্দান্ত অভিনেতা তারাকের প্রেমে পড়া যাওয়া এখন নিছক দুর্ঘটনা নয়, ধ্রুবসত্য!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।