অথচ নব্বই দশকে ক্রোয়েশিয়া দল ছিল বাংলাদেশের মতই!

এবারের বিশ্বকাপটাকে বলা হচ্ছে চমকের বিশ্বকাপ। না বলে উপায়ও নেই, ক্রোয়েশিয়া যে সবাইকে চমকে দিয়ে উঠে গেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। তবে, ক্রোয়েশিয়ার এই উত্থান চমক হলেও তাতে কোনো বিস্ময় নেই, ফ্লুক হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।

যোগ্য দল হিসেবেই ইউরোপিয়ান এই দলটি খেলছে ফাইনালে। তাঁরা বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে নিজেদের সোনালী প্রজন্ম নিয়ে। সেটা ভুলও নয়। ইভান রাকিটিচ, লুকা মড্রিচ, মারিও মানজুকিচদের মত বড় তারকারা আছেন। শুধু থাকাই নয়, বিশ্বকাপেই সম্ভবত নিজেদের সেরা ফর্মে আছেন তারা। এর সাথে পেরিসিচ, আন্তে রেবিচ কিংবা গোলরক্ষক সুবাসিচরা জ্বলে উঠেছেন। সেই সুবাদে এবার ফাইনালে চলে গেল ইউরোপিয়ান দলটি।

এটাই ইউরোপিয়ান দলটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। ১৯৬৬ আসরের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২১তম বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়া। পিছিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জয়ের স্বাদ নেন মড্রিচ-রাকিটিচরা। আগামী ১৫ জুলাই, রোববার মস্কোতে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে নামবে ক্রোয়েশিয়া।

অথচ, একটা সময় খুব বড় কোনো দল ছিল না ক্রোয়েশিয়া। আরেকটু নির্দিষ্ট করে বললে, তারা ছিল বাংলাদেশের মানের দল। না, গালগল্প নয়, নব্বই দশকের র‌্যাংকিং ঘাটলেই এর প্রমাণ মেলে। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের ফিফা র‌্যাংকিং ছিল ১২০। আর ক্রোয়েশিয়ার ছিল ১১৭। এই তিন ব্যবধানটা মোটেও বড় কিছু নয়। এমনকি তখন এবারের বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া পানামার র‌্যাংকিংও ছিল ১২৬। এমনকি ২০০২ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপ খেলা স্লোভেনিয়ার র‌্যাংকিংও ছিল ১২৮।

এতদূর আসার পেছনে অনেক কিছুকেই পেছনে ফেলেছে ক্রোয়েশিয়া। এক সময়ে যুগোস্লাভিয়ার অংশ ক্রোয়েশিয়া স্বাধীনতা পায় ১৯৯১ সালে। ক্রোয়েশিয়ার ফিফা র‌্যাংকিং এখন ২০, আর বাংলাদেশের ১৯৪। ফিফার সদস্য সংখ্যাই ২০৬ টি। সেদিন হয়তো খুব দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশের র‌্যাংকিং তলানীতে গিয়ে ঠেকবে।

রাশিয়ায় এবারই ২০ বছর পর প্রথম পর্বের বাঁধা টপকেছিল ক্রোয়াটরা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে ক্রোয়েশিয়ার। ঐ আসরেই বাজিমাত করে তারা। ‘এইচ’ গ্রুপে ৩ ম্যাচের ২টিতে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে ক্রোয়েশিয়া। নক আউট পর্বে রোমানিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে তারা।

শেষ আটে আরও বড় চমক দেয় ক্রোয়েশিয়া। জার্মানির মত দলকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনালে নাম লেখায় দলটি। তবে সেমিতে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্টে থেকে ছিটকে পড়ে দলটি। এরপর তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারায় তারা। ফলে ঐ আসরে তৃতীয়স্থান পায় ক্রোয়েশিয়া।

অভিষেক বিশ্বকাপে যে দলটি তৃতীয় হলো, সেই ক্রোয়েশিয়া ২০০২ ও ২০০৬ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এরপর ২০১০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব টপকাতে পারেনি। ২০১৪ বিশ্বকাপে আবারো গ্রুপ পর্ব থেকে মিশন শেষ করে ক্রোয়েশিয়া। এবার তারাই ফাইনালে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।