ওহ ক্যাপ্টেন! মাই ক্যাপ্টেন!

কারো কাছে তিনি অতিমানব। কারো কাছে তিনি মিথ। ক্রিকেটার হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজার বিশালত্ব কতটুকু? – সম্ভবত এই প্রশ্নের সবচেয়ে ভাল জবাবটা দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বোলার কৌশিক ভাইয়ের কথা বাদ দেন। ব্যাটসম্যান মাশরাফির কথা ভাবেন শুধু। বাংলাদেশের হয়ে কত রান করেছেন উনি? হাজার দেড়েক। এই দেড় হাজার রান দিয়ে উনি বাংলাদেশকে যে কয়টা ম্যাচ জিতিয়েছেন, তা আমরা তিন-চার হাজার রান করে করতে পারিনি। ওনার ১৫ রান মানেই ম্যাচে আমরা এগিয়ে গেলাম। শোনেন, একটা কথা বলি। কৌশিক ভাই নিজেকে নিয়ে খামখেয়ালি না করলে সে থাকত বিশ্বের  সেরা অলরাউন্ডার। কৌশিক ভাই কত বড় অলরাউন্ডার হতে পারতেন, উনি নিজেও জানেন না।’

ঠিক, মাশরাফি সত্যিকারের এক অরলাউন্ডার হওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। এই যেমন পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও যে ১৩ রানটা করলেন, শেষের দিকে সেই রানটা না হলে কিন্তু বাংলাদেশের ২৪০ রানের টার্গেটই দেওয়া হয় না। লক্ষ্যটা ২৪০ ছিল বলেই তো পাকিস্তানকে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ফেলা গেছে।

কিংবা ওই শোয়েব মালিকের সেই ক্যাচটার কথাই ধরেন না। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিক যেভাবে উইকেট আগলে রেখেছিলেন, মনে হচ্ছিল না ওই অবস্থা থেকে তাকে আউট করা যাবে। আউট করতে হলে কাজে লাগাতে হবে হাফ চান্সও। মাশরাফি সেই কাজটাই করেছেন। সুপারম্যানের মত ঝাপ দিয়ে অবিস্মরণীয় এক ক্যাচ ধরেছেন। উঠে দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি আছি!’

হ্যা তিনি আছেন সর্বত্র। কখনো বোলিং, কখনো ব্যাটিংয়ে, কিংবা কখনো ফিল্ডিংয়ে। শুধু ওই ক্যাচটাই নয়, গোটা ম্যাচজুড়েই দর্শনীয় সব ফিল্ডিং সেভ করেছেন। অথচ লোকটার বয়স প্রায় ৩৫। দুই হাঁটুতে সাতবার যে অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভক্ত মাত্রই জানেন।

অধিনায়ক মাশরাফি? সে কথা নতুন করে আর কি বলবো! এই তো সৌম্যকে যখন বোলিংয়ে আনলেন, তখন কত লোকেই তো চোখ কপালে তুলেছিলেন। কি হল তাতে? সৌম্য পাঁচ ওভারে ১৯ রান দিলেন, উইকেট পেলেন একটা। কিংবা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, যিনি সচরাচর ওয়ানডেতে ১০ ওভারের কোটাই পূরণ করেন না, তিনি সবগুলো ওভারই করলেন। মাত্র ৩৮ রান দিলেন, পেলেন ইমাম উল হকের মহামূল্যবান ইনিংস।

মাশরাফি আভাস দিয়ে রেখেছেন, ২০১৯ বিশ্বকাপ দিয়েই বিদায় বলে দিবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। সেই অর্থে এটাই তাঁর শেষ এশিয়া কাপ। কে জানে, হয়তো ট্রফি হাতে তুলে ধরেই বিদায় জানাবেন ক্যাপ্টেন!

আরো পড়ুন

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।