অনন্য অনুভূতি ‘অফবিট’

সে অনেক আগের কথা। ২০০০ সালের শুরুর দিকে ‘ব্ল্যাক’ ব্যান্ড খুব জনপ্রিয়তা পায়। ভিন্ন ঘরানার অলটারনেটিভ ঘরানার রক ধাঁচের গানগুলোতে অন্যরকম স্বাদ পায় শ্রোতারা।

তবে, এই ব্যান্ডটা অন্য সব দিক থেকেও ছিল আলাদা। ব্যান্ডের সবাইকে নিয়ে নিয়ে টেলিভিশন নাটক হয়েছিল, যেটা আগে বাংলাদেশে আর কখনোই হয়নি।

তখন ২০০৩ সাল। জন কবিবের মাথা ভর্তি চুল ছিলো, জয়া আহসান অবশ্য এখনকার মতই চিরতরুণী ছিলেন। তখন ‘অফবিট’ নামের একটা নাটক আসে চ্যানেল আইয়ে, বিশ্ব ভালবাসা দিবসে।

নাটকটা বলেছিল তারুণ্যের গল্প, ভালবাসার গল। যেখানে কিছু মিউজিক পাগল তরুণ ছিল, যারা নিজেদেরে নতুন গান বানানোর জন্য পাগল হয়ে আছে। এই তরুণদের মাঝে একজন বাবা মায়ের কড়া শাসনে আটকে গানের দলে আড্ডা দেওয়া আর এলাকায় নতুন ভাড়াটিয়া সুন্দরী মেয়েটাকে লাইন বার বার দেখতে যায় সাইকেলে চড়ে,  সেটা করতে করতে করতে কখনো চুরি করে দেয়ালও টপকাতে হত তাঁকে।

সেই সুন্দরী মেয়েটি ‘একা একা বসে থাকে রঙিন স্বপ্নের তার বুনতে, সে একা একা বসে থাকে জানালার ফাঁকে মেঘ ধরতে।’ তার একা মন ‘দোকা’ হয়ে যায় যখন কেউ একজন তার বাড়ির সামনে দিয়ে তাকে দেখতে প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে যায়। আবার কখনো কাগজে মুড়িয়ে লিখে পাঠিয়ে দেয়।

সাইকেলের চাকার সাথে চলতে থাকে স্বপ্নের কারখানা, সুন্দরী মেয়েটার গুনগুন বাতাসে ওড়া গান কান পাতলেই যেন শুনতে পাওয়া যায়।

এত এত ছিলোর মাঝে একটা জিনিস এখনো রয়ে গেছে সেটা হলো এই নাটকটার প্রতি ভালোবাসা। এখনো যখন অফবিট দেখি তখন যে অনুভূতি হয় তা শুধুই অনুভব করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করা যায়না।

তাহসান, জন, টনি, জাহান তারা ভালো গান বানাতে পারলেও অভিনয়টা খুব একটা পারতোনা। তবুও তাদের এই না পারা অভিনয়ই যেন খুব বাস্তবিক লাগছিল। কারণ, বাস্তবে তারা যা করেন, পর্দাতেও সেই একই কাজটাই করেছেন।

সেদিনের সেই ‘ব্ল্যাক’ ব্যান্ড আজ ছন্নছাড়া। তাহসান-জনদের মধ্যে আগেকার সেই বন্ধুত্বও হয়তো নেই। জয়া আহসান আজ আন্তর্জাতিক তারকা। বাংলাদেশের নাটকের ভূবন, ব্যান্ড জগতও বদলে গেছে অনেকটাই। তবুও ‘অফবিট’-এর সেই অনুভূতি আজো টিকে আছে।

অফবিট শুধুই একটা নাটক না অফবিট হলো অনেকগুলো অনন্য অনুভূতি, আর এই অনুভূতি কখনোই শেষ হবেনা৷

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।