নূতন: হিরোইন কিংবা ভ্যাম্পগার্ল

ঢাকার চিত্র জগতে মনে রাখার মতো তারকা হলেন নূতন। তাঁর অনেক পরিচয়। তিনি একাধারে অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও প্রযোজিকা। তাঁর আসল নাম ফানহানা আমিন রত্না।

তাঁর জন্ম ১৯৫২ সালের এক মে, কিশোরগঞ্জে। যদিও, নূতনদের পুর্ব পুরুষদের বাড়ি ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশে। ১৯৭০ সালে তাঁর অভিনীত ‘নতুন প্রভাত’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। নায়িকা ছিলেন তিনি। সেটাই শুরু।

সত্তর থেকে আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকে নূতন মনে রাখার মতো বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছবি হল – ওরা ১১ জন, সংগ্রাম, বসুন্ধরা, পাগলা রাজা, অলংকার, মহেশখালীর বাঁকে, রাজদুলারী, ফকির মজনু শাহ, শাহজাদা, কার পাপে, কন্যাবদল, রাজ মহল, নাগ নাগিনী, বারুদ, ঘর সংসার, সোনার চেয়ে দামী, যদি জানতেম, তাজ ও তলোয়ার, নাগিন, শাহজাদী গুলবাহার, আকাশ পরী, সেলিম জাভেদ, ঘরনী, দেনা পাওনা, ভাঙা গড়া, রাজনর্তকী, বদনাম, প্রাণ সজনী, লাইলি মজনু, চেনামুখ, প্রেম বন্ধন, আঁখি মিলন, জনি, সময় কথা বলে, গাদ্দার, সি আই ডি, পুনর্মিলন, সোনা বৌ, রাজকুমারী, প্রেমিক, চাঁদ সুরুজ, সৎ ভাই, সতী নাগকন্যা, কাবিন,  পাতাল বিজয়, মোহাম্মদ আলী, তালুকদার, অশান্তি, গৃহ বিবাদ, শত্রু, ধর্ম আমার মা, শিরি ফরহাদ, আওয়াজ, ব্যবধান, প্রেম বিরহ, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, আদিল, নীতিবান, বিশ্বাস ঘাতক, প্রহরী, সাহস, বলবান, অর্পণ, বিরোধ, সত্যমিথ্যা, অপরাধ, রাঙা ভাবী, কসম , প্রহরী, বিশ্বাস ঘাতক, পাহাড়ি ফুল, নাচে নাগিন, সন্মান, কাজের বেটি রহিমা, ন্যায় অন্যায়, পিতা মাতা সন্তান, দয়ামায়া, আমি নির্দোষ, বাঘা আকবর, জলদস্যু, রূপের রাণী গানের রাজা, নাগ নাগিনীর প্রেম, আবদুল্লাহ, এক বুক জ্বালা – ইত্যাদি।

নূতন এখনও অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত। যদিও, সম্প্রতি তৃতীয় সারির একটা বিজ্ঞাপন করে প্রথম জীবনে নিজের কামানো সব সুনামই প্রায় তিনি জলাঞ্জলি দিয়েছেন।

নূতন তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুতে নায়িকা হিসেবে হাতে গোনা কয়েকটি ছবিতে প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিনয় করলেও পরবর্তীতে সহ নায়িকা, খল নায়িকা, ভ্যাম্পগার্ল চরিত্রে অভিনয় করে বছরের পর ধরে বাংলাদেশের সিনেমা দর্শকদের মনে মনোরঞ্জন দিয়ে আসছেন। আজ অবধি দিয়ে যাচ্ছেন।

নূতনের জীবনে একটি শ্রেষ্ঠ ছবি হলো ‘রাজদুলারী’। এই ছবিতে তিনি ছিলেন সাপুড়িয়ার কন্যা। অন্তর দিয়ে তিনি ভালোবেসে ছিলেন ওয়াসিমকে। কিন্তু সেই ওয়াসিমের জীবন বাঁচাতে গিয়ে সাপের দংশনে নূতন তাঁর জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। অবশেষে তাঁর গায়ের রং ধারণ করেছিল নীল রংয়ে।

সেই দৃশ্য ভুলে যাওয়ার নয়! তবুও তিনি ‘রাজদুলারী’ ছবিতে অভিনয় করে পাননি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অবশ্য তাঁর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আক্ষেপ ঘুঁচেছিল ১৯৯১ সালে ‘স্ত্রীর পাওনা’ ছবিতে। সেখানে তিনি সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী হিসেবে এই পুরস্কার জয় করেন।

নূতন সাহসী অভিনেত্রী। আবেদনময়ী ও খোলামেলা সাজপোষাকে তিনি কখনোই জড়তা রাখেননি। চ্যালেঞ্জও নিয়েছেন কাজের ক্ষেত্রে। ‘আব্দুল্লাহ’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন কমেডি কিং দিলদার। সেখানে নূতন দিলদারের নায়িকা পর্যন্ত হয়েছিলেন।

নূতন মডেলিংয়েরও খ্যাতি কুড়ান। তিনি বাংলাদেশ থেকে লাক্স সাবানের প্রথম মডেল হন। সেটা ছিল ১৯৮৩ সালের ঘটনা।

নূতনের বিয়ে হয় ১৯৭৮ সালে। স্বামী রুহুল আমিন বাবুল চিত্র জগতে এক সময় অভিনয় করতেন। তবে বহু বছর ধরে তিনি ছবির প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।