বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ‘সুপারস্টার’

১৯৯৯ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে আগমন। প্রথম ছবি ব্যবসায়ীকভাবে তেমন সফল না হলেও সবার নজর কেড়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু কেন জানি নিজেকে ঠিকমতো মেলে ধরতে পারছিলেন না। এর মধ্যে সিনেমায় টিকে থাকতে বেশকিছু অশ্লীল সিনেমায় কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, সাইড রোলেও কাজ করেছেন বেশকিছু সিনেমায়।

তবে, তাঁর ভালো কাজ করার সদিচ্ছা ছিল মন থেকে। ভালো কিছুর প্রত্যাশায় সিনেমায় কাজ করেছেন বিনা পারিশ্রমে। তাইতো সেইসময়ে ফুল নেবো না অশ্রু নেবো বা স্বপ্নের বাসরের মতো বেশকিছু সুস্থধারার সামাজিক ছবিও উপহার দিয়েছেন শাকিব খান।

প্রথমবার জেগে ওঠেন ২০০৫-এ। তৎকালিন সময়ের কমার্শিয়াল সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকা শাবনুরের সাথে মুক্তি পায় ‘আমার স্বপ্ন তুমি’ সিনেমাটি। সিনেমাটি ব্লকবাস্টার হবার পর নতুন করে লাইমলাইটে চলে আসেন তিনি। সে বছরই বাধা, সিটি টেরর করে প্রশংসিত হন।

২০০৬ সালে চাচ্চু, দাদীমা, কোটি টাকার কাবিনের মতো সুপারহিট ছবি উপহার দিয়ে সবাইকে জানান দিয়ে দেন তিনিই হচ্ছেন ঢালিউডের নেক্সট সুপারস্টার। মূলত ২০০৬ সালেই ঢালিউডে নিজেকে বেশ শক্ত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। নায়ক মান্নার মারা যাবার পর নিজেকে আরো শক্তভাবে মেলে ধরেন তিনি।

এরপর সবাইকে পেছনে ফেলে ২০০৭ সাল থেকে এখন ২০১৮ পর্যন্ত তিনিই হলেন ঢালিউডের শীর্ষনায়ক। এই একযুগে তিনি উপহার দেন – কথা দাও সাথী হবে, কঠিন প্রেম, প্রেম কয়েদি, তোমার জন্য মরতে পারি, আমার প্রানের স্বামী, এক টাকার বউ, প্রিয়া আমার প্রিয়া, ভালবেসে মরতে পারি, নিঃশ্বাস আমার তুমি, তুই যদি আমার হইতিরে, মনে প্রানে আছো তুমি, তুমি আমার প্রেম, সন্তান আমার অহংকার, তুমি সপ্ন তুমি সাধনা, সমাধি, মা আমার স্বর্গ, আমার প্রানের প্রিয়া, জান আমার জান, সাহেব নামে গোলাম, মন যেখানে হৃদয় সেখানে, মনের জ্বালা, ভালবাসলেই ঘর বাধা যায় না, হিরো দ্যা সুপারস্টার, লাভ ম্যারেজ, আরো ভালোবাসবো তোমায়, সম্রাট, বসগিরি, শিকারি, সত্তা, নবাব সহ অসংখ্য হিট-সুপারহিট সিনেমা।

মহানায়ক মান্না মারা যাওয়া, রিয়াজ, ফেরদৌসদের অনিয়মিত হওয়াসহ ঢালিউডের নানা সঙ্কটে শাকিব খান হয়ে ওঠেন আশার প্রদীপ। হল মালিকদের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন আস্থার প্রতীক। তার নামের জোরেই দর্শক সিনেমাহলে আসতো এবং এখনো আসে।

তাঁর নামেই হিট হয়ে যেত সিনেমা। তাইতো ভক্তরা ভালোবেসে তাকে উপাধি দেন- কিং খান। ভক্তদের ভালোবাসার পাশাপাশি অর্জন করেছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও রেকর্ডসংখ্যক আটবার মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার।

তাঁর জন্যই অপু হতে পেরেছিলেন শীর্ষ নায়িকা, তার জন্যই সাহার অশ্লীলতার জন্য সমালোচিত হওয়ার পরও তার সাথে কাজ কারার কারনে সাহারাও একসময় দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। বুবলির মত আনকোরা নায়িকাও তার জন্য নিয়মিত সিনেমায় কাজ করে যাচ্ছেন।

কিন্তু এত সাফল্য ও এতো অর্জনের পরও তিনি এখনো সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পাননি। এজন্য মূলত তিনিও কম দায়ী নন। ছবি সিলেকশনে বাচবিচার না করে মানহীন ছবিতে অভিনয়, ফিটনেসের দিকে নজর না দেয়া, অভিনয়ে ভ্যারিয়েশন না থাকা, মাঝেমাঝে ওভার-অ্যাক্টিং, দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গি, দুর্বল ফ্যাশন সেন্স, অপুর সাথে বিরক্তিকর জুটি জন্য তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন।

তবে জাজের হাত ধরে ‘শিকারী’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন দর্শকদের, সেজন্য পেয়েছেন সর্বমহলে প্রশংসাও। এখন নিজের ফিটনেস ও সিনেমা সিলেকশন দুটোতেই সচেতন হচ্ছেন। সামনে আসছে চালবাজ, নোলক, ঢাকাইয়া পোয়া টিচাইঙ্গা মাইয়া সহ বেশকিছু সিনেমা। তিনি এখন যেভাবে এগোচ্ছেন, এভাবে যদি সঠিকভাবে এগোতে পারেন, তাহলে বলা যায় আরো ৮-১০ বছর তিনি তার শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারবেন।

তাকে নিয়ে সমালোচনার যেমন শেষ নেই। তেমনি তাঁকে ঘিরে আলোচনারও কোনো কমতি নেই। তাঁর যতই ‘বদনাম’ থাককু না কেন, তিনিই ঢালিউডের নাম্বার ওয়ান। এই ৪০ ছুঁই ছুঁই বয়সেও তিনিই আমাদের এক নাম্বার ‍সুপারস্টার। তাকে কারো ভাল লাগতে পারে, আমার মন্দও লাগতে পারে। কিন্তু, তাঁকে ছাড়া আপনি বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির কথা ভাবতেও পারবেন না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।