নায়ক নয়, সংগ্রামটা অভিনেতাদের

অভিনয় তো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই জানেন। কিন্তু, একটু ভেবে বলুন তো সত্যিকারের ভালো অভিনেতা কয়জন আছেন বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে? এমন প্রশ্ন শুনলে অনায়াসে চোখের সামনে ভেসে উঠবে শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান, অক্ষয় কুমার, অমিতাভ বচ্চন কিংবা আসবে হালের ভিকি কৌশল, আয়ুষ্মান খুড়ানা বা রাজকুমার রাওয়ের নাম। কিন্তু এমন অনেক অভিনেতা বলিউডে আছেন, যারা বেশ ভালো অভিনয় করেন, কিন্তু কেন যেন তেমন মর্যাদা পাননি। পুরস্কার আছে তাঁদের ঝুলিতেও। কিন্তু অজানা কারণে তাঁদের ঘিরে কোনো লাইমলাইট থাকে না বললেই চলে।। তেমন পাঁচ অভিনেতাকে নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • আর মাধবন

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার সুপার স্টার ছিলেন আগে থেকেই। সেখানে নিয়মিত হলেও বলিউডে বেশ সময় নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন তিনি। মাধবনের বলিউড অভিষেক হয় ২০০০ সালে। ‘র‌্যাহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ ছবিতে নজর কাড়েন তিনি। বলা ভাল, এটা বলিউডেরই অন্যতম সেরা এক রোম্যান্টিক ছবি। এরপর ‘গুরু’, ‘থ্রি ইডেয়টস’, ‘তানু ওয়েডস মানু’র মতো ছবিতে কাজ করেছেন। কিন্তু তথাকথিত নায়ক হয়ে উঠতে পারেননি। পাননি যথার্থ স্বীকৃতি। তবে অভিনেতা হিসেবে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন শতভাগ। ‘বিক্রম ভেদা’, ‘সালাহ খারুজ, বা ‘ব্রিদ’ সিরিজগুলো দেখলেই অভিনেতা হিসেবে তাঁর মানটা পরিস্কার হয়ে যায়।

  • মনোজ বাজপেয়ী

এই অভিনেতার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অসম্ভব! ‘ব্যান্ডিট কুইন’, ‘আলিগড়’, ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’, ‘ট্রাফিক’ ছবিতে তার অভিনয় ভোলার নয়। লম্বা সময় কেন্দ্রীয় চরিত্র করেছেন। যদিও, বরাবরই তারকা খ্যাতি থেকে অনেক দূরেই থাকেন তিনি। এখনও ভালো চরিত্রের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে যুদ্ধ করতে হয়। এমন নজীরও আছে, অভিনয় করার পর তার চরিত্র বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছিল সিনেমা থেকে। তবে, এর সবই এখন অতীত। ভিলেন কিংবা চরিত্রাভিনেতা হিসেবে মনোজ এখন ভারতীয় সিনেমার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

  • আরশাদ ওয়ারসি

মুন্না ভাইয়ের সার্কিট  কিংবা আইনজীবী জলি – প্রায় সব ধরনের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তাঁর অভিনীত ‘জলি এলএলবি’ পেয়েছে জাতীয় পুরস্কারও। তবে খুব কম থেকেছেন লাইমলাইটে। একক নায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন নব্বই দশকে। একালে ‘সিম্বা’ ছবির ‘আঁখ মারে’ গানটা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটার মূল গানে নায়ক ছিলেন কিন্তু এই আরশাদ ওয়ারসি। যদিও, এখন মূলত কমেডি ছবিতে চরিত্রাভিনেতা হিসেবেই বেশি দেখা যায় তাঁকে। তাঁকে তারকাবহুল সিনেমাতেই বেশি দেখা যায়। ২০১৮ সালে তাঁর বানিজিক্য সফল ছবি ‘গোলমাল এগেইন’ মুক্তি পেয়েছে। যথারীতি সেটাও রোহিত শেঠির তারকাবহুল ছবি।

  • অক্ষয় খান্না

তারকা সন্তান হলেই যে ইন্ডাস্ট্রিতে নামডাক হবে, প্রচারের আলোয় আসা যাবে, কাজের সুবিধা হবে – এমন ভাবার কিছু নেই। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ সম্ভবত অক্ষয় খান্না। অভিনয় দক্ষতা নিয়ে কেউ কোনোদিন প্রশ্ন তুলতে পারেননি। কিন্তু পাননি তারকা মর্যাদা। ‘বর্ডার’, ‘মম’, ‘হামরাজ’, ‘মাই ফাদার গান্ধি’র মতো আলোচিত ছবিতে অভিনয় করেও নায়ক পদবী জোটেনি তার ভাগ্যে। যদিও, সম্প্রতি নিজের চরিত্র বাছাইয়ে যথেষ্ট সিরিয়াস তিনি। ‘ঢিশুম’, ‘ইত্তেফাক’, ‘মম’ কিংবা ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’-এ তিনি বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

  • রাহুল বোস

কলকাতার বাংলা সিনেমা ছাড়াও বলিউডে তার কাজ কম নয়। ‘চামেলি’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’ এর মতো বিখ্যাত ছবিতে অভিনয় করেছেন। প্রায় দু’দশক ধরে রয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। আর্ট ফিল্মে অভিনয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন বাণিজ্যিক সিনেমাতেও। তবে কখনোই বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেননি রাহুল বোস। যোগ্য নায়ক হওয়ার সবরকম গুণাবলী তাঁর মধ্যে থাকলেও কখনোই নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।