খান মাত্রই সুপারস্টার নন!

বলা হয় ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নামের সাথে ‘খান’ থাকলেই নাকি সাফল্যের নিশ্চয়তা অনেকাংশেই মিলে যায়। যদিও, এর পুরো ব্যাপারটাই মিথ। কারণ সালমান, শাহরুখ, আমির, সাইফ আলী বা ইরফানের মত খানরা সাফল্য পেয়েছেন, পাচ্ছেন ও পাবেন নিজেদের পরিশ্রমের জোরে। এর বাইরেও আরো অসংখ্য খান এসেছেন যারা মুহূর্তের মধ্যেই হারিয়ে গেছেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে। তাঁদের নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • জায়েদ খান

নামের সাথে খান, স্টারকিড, অভিষেকেই শাহরুখ খানের মত সহশিল্পী। ‘ম্যায় হু না’ দিয়ে অভিষেকের পর মনে করা হচ্ছিল সঞ্জয় খানের ‘সুপুত্র’ বাকি ক্যারিয়ারটা আরামসে কাটিয়ে দেবেন। হল উল্টোটা। ফাইট ক্লাব, ব্লু, যুবরাজ, ক্যাশ, স্পিড, দাস, মিশন ইস্তাম্বুলের মত বিগ বাজেটের সিনেমাগুলো বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লো। হারিয়ে গেলেন জায়েদ। যদিও এখন তিনি ‘হাসিল’ নামের একটি টেলিভিশন সিরিয়ালে সাফল্যের খোঁজ করেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন সেখানেও।

  • ইমরান খান

স্বয়ং আমির খানের ভাগ্নে তিনি। নায়ক হিসেবে ২০০৮ সালে রোমান্টিক কমেডি ‘জানে তু … ইয়া জানে না’ দিয়ে তার বলিউডে অভিষেক। অভিষেকেই বাজিমাৎ। বক্স অফিসে ব্যাপক হিট হওয়ার সাথে সাথে ইমরানের ‘চকলেট বয়’ ইমেজটাও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তার আই হেট লাভ স্টোরিজ (২০১০), দিল্লী বেলি (২০১১), মেরি ব্রাদার কি দুলহান (২০১১) ইত্যাদি সিনেমা মোটামুটি ব্যবসা সফলতা পেয়েছিল। তবে, এর আগের দু’টো সিনেমা লাক ও কিডন্যাপ ব্যবসা করতে পারেনি। ঝুটা হি সাহি, ব্রেক কে বাদও ব্যর্থ হয়।

২০১২-১৩ এই সময়ের মধ্যে এক ম্যায় হু অর এক তু, মাত্রু কি বিজলি কা মান্ডোলা, বোম্বে টকিজ, ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন মুম্বাই দোবারা, গোরি তেরে পেয়ার মেয় মুক্তি। ক্যারিয়ার বাঁচানোর জন্য কোনো একটা ছবিতে ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ কিছু করার দরকার ছিল ইমরানের, কিন্তু তিনি সেটা পারেননি। ইমরান খান সর্বশেষ কঙ্গনা রনৌতের সাথে ‘কাট্টি বাট্টি’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। সেটাও ২০১৫ সালের ঘটনা। সিনেমাটা খুব বাজে ভাবে ফ্লপ হয়েছিল। এখন তিনি পরিচালনায় নামার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন।

  • শাদাব খান

আমজাদ খান ওরফে গাব্বার সিং এর সন্তান তিনি। বলিউডে তাঁর অভিষেক হয় ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, রানী মুখার্জীর বিপরীতে। রানীরও প্রথম হিন্দি সিনেমা ছিল এটি। রানী পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও পারেননি শাদাব। তিনি কখনোই নিজেকে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি।

  • ফারদিন খান

সঞ্জয় খান ও আকবর খান তার চাচা, বাবা খোদ ফিরোজ খান। অথচ, সেই ফারদিন খান আজ বাজে স্ক্রিপ্ট নির্বাচন আর ফিট থাকতে না পেরে বলিউড থেকে দূরে আছেন। জাঙ্গাল, ওম জ্যায় জাগদিশ, নো এন্ট্রি, হেয় বেবি, অল দ্য বেস্ট সিনেমায় নিজের যে ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছিলেন সেটা লাভ কে লিয়ে কুছ ভি কারেগা, অ্যাসিড ফ্যাক্টরি, লাইফ পার্টনার, দুলহা মিল গ্যায়া, প্যায়ারে মোহানের মত সিনেমা করে বিসর্জন দিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ার।

  • ফয়সাল খান

২০০০ সালের ছবি ‘মেলা’ অভিষেক হয় আমির খানের ভাই ফয়সাল খানের। অনেক হাইপ তোলার পরও ছবিটা বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। আমির খান, টুইঙ্কল খান্না বা ঐশ্বরিয়া রায়ের ক্যামিও ছবিটিকে বাঁচাতে পারেনি। পরে আরো কয়েকটা ছবি করলেও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি ফয়সাল। পরে মানসিক ভারসাম্যই হারিয়ে ফেলেন তিনি।

  • সাহিল খান

২০১১ সালে সাহিলের অভিষেক ছবি ‘স্টাইল’ বক্স অফিসে ভাল ব্যবসা করে। এরপর বাজে স্ক্রিপ্ট নির্বাচন করে নিজেই ক্যারিয়ার নিয়ে ডুব দেন সাহিল। টিকে থাকার বি-গ্রেড ছবি করে নিজের সুনাম নষ্ট করেছেন। সম্প্রতি তিনি জ্যাকি শ্রফের স্ত্রী ও টাইগার শ্রফের মা আয়েশা শ্রফের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে সমালোচিত হন।

  • আরবাজ খান ও সোহেল খান

সালমান খান মানেই বলিউডে এখন হিটের নিশ্চয়তা। কিন্তু, সালমানের দুই ভাই আরবাজ ও সোহেলের ক্ষেত্রে সেটা সত্যি নয়। আরবাজ অবশ্য চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কিছু হিট ছবির অংশ হলেও সোহেলের সেই তালিকাটাও খুব ছোট। এখন দুই ভাই পর্দার পেছনে পরিচালনা ও প্রযোজনায় ব্যস্ত। আর সালমানের মত ভাই থাকার সুবাদে কিছু ছোটখাটো চরিত্রও পেয়ে যান।

  • ফারাজ খান

নামটা এই প্রজন্মের কারোই চেনার কথা না। ১৯৮৯ সালের রোম্যান্টিক মিউজিক্যাল সিনেমা ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’-তে তাঁর কাজ করার কথা ছিল। যদিও, শ্যুটিং শুরুর আগে তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে পরিচালক বাধ্য হয়ে সালমান খানকে চরিত্রটি দেন। বাকিটা তো ইতিহাস! পরে ফিরে ফারাজ ‘ফারেব’, ‘মেহেন্দি’ ‘পৃথিবীর মত সিনেমা করলেও কখনো বলিউডে থিঁতু হতে পারেননি।

– ফ্রি প্রেস জার্নাল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।