ইটস টেস্ট ক্রিকেট, নট আ ব্লাডি সার্কাস!

স্কিলের ঘাটতি স্পষ্ট। নানা বাস্তবতার কারণেই সেটি গ্রহণযোগ্য।

নিবেদনের ঘাটতিও স্পষ্ট। কোনো কারণেই সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।

একটা কথা ভুলে গেছে চলবে না। বাংলাদেশ সবশেষ টেস্টে নিজেদের মাটিতে আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে। বৃষ্টির সৌজন্যে ড্র করার সুযোগ থাকলেও শেষ বিকেলে ঘণ্টাখানেক সময় কাটানোর চ্যালেঞ্জ নিতে পারে নাই। গত বছর নিজেদের মাটিতেই জিম্বাবুয়ের মতো দলের কাছে দেড়শ রানে হেরেছে। সেই দল দেশের মাটিতে অপ্রতিরোধ্য ভারতের বিপক্ষে কি করবে? বিশ্বের সব দল ভারতে গিয়ে এখন শুধু হারেই না, নাস্তানাবুদ হয়।

এটা হলো বাস্তবতা। ইনিংস ও ১৩০ রানে হার, ম্যাচ শুরুর আগে বললে অস্বাভাবিক মনে হতো না মোটেও। কিন্তু হতাশার হলো, লড়াই দেখতে না পারা। লড়াইয়ের তেষ্টা না থাকা।

ভারতীয় বোলারদের যে স্কিল লেভেল, সেটি সামলানোর দক্ষতা আমাদের নেই। সুইং, বাউন্স, আগ্রাসন, ব্যাটসম্যানকে পড়ে দুর্বল জায়গায় ছোবল দেওয়া, সবই আছে এই পেস আক্রমণের। স্পিন আক্রমণও দুর্দান্ত। কঠিন বাস্তবতা হলো, আমাদের হয়তো ৯০ ভাগ ব্যাটসম্যানদের স্কিলে ঘাটতি আছে এই মানের বোলিং সামলানোয়।

বিকল্প? ঠগ বাছতে গাঁ উজার হবে। তাহলে কিভাবে স্কিলফুল ক্রিকেটার গড়ে তোলা যাবে? পুরোনো কাসুন্দি, আর কত ঘাঁটা যায়! রকেট সাইন্স না, সবাই জানে। যাদের করার কথা, কোনো পক্ষ করে না।

স্কিলের ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়া যেত নিবেদন দিয়ে। চোয়ালবদ্ধ লড়াই দিয়ে। যদিও কাজটা কঠিন। যখন নিজে জানি যে স্কিলে পিছিয়ে আছি অনেক, তখন মানসিকতাও নড়বড়ে থাকে। ভয় থাকে। তবে সেটিই তো টেস্ট ক্রিকেটের টেস্ট! সেই ভয়কে জয় করতে হবে হাল না ছাড়ার প্রতিজ্ঞা দিয়ে। লড়তে হবে বুক চিতিয়ে। খেলা শুরুর আগে পিচ রিপোর্টে সুনীল গাভাস্কার বললেন, ‘উইকেট দারুণ ব্যাটিং সহায়ক। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের লড়াই করার মানসিকতা আছে তো?’ উত্তর পাওয়া হয়ে গেছে।

মানসিকতা আর নিবেদন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। মানসিকভাবে শক্ত থাকলেই নিবেদন দেখানো যায়। আফগানিস্তানের সঙ্গে শেষ বিকেলে দল বিধ্বস্ত হয়েছিল প্যানিকড হয়েই। দেশের মাটিতে নবীন টেস্ট দলের বিপক্ষে মানসিক শক্তি ছিল না, আর এ তো ভারত সফরে পরাক্রমশালী দলের বিপক্ষে লড়াই! তার মানে, স্কিলের পাশাপাশি, মানসিকতায়ও ঘাটতি আছে অনেক।

শুরুতে বলেছি, স্কিলের ঘাটতি মেনে নেওয়া যায়। সেটির কারণ, বাংলাদেশ ক্রিকেটের নানা বাস্তবতা ও পারিপার্শ্বিকতা। স্কিলটা গড়ে ওঠে না। বা উন্নতি হয় না। কিন্তু নিবেদনটা তো নিজের হাতে! একটা টেস্ট ম্যাচে মাঠে নামছি, ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত সংস্করণে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, সেই প্রাইড থাকতে হবে। হারার আগে হারব না, কোনো কিছুতে হাল ছাড়ব না, এই প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে।

দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও, এই নিবেদনটুকু দেখতে না পারলে খারাপ লাগে। তখন আর কথা বলার জায়গা থাকে না। অন্যান্য পারিপার্শ্বিকতাকে তুলে ধরার অবস্থাও থাকে না। ড্রেসিং রুমে আত্মজিজ্ঞাসার প্রয়োজন। এভাবে অসহায় আত্মসমর্পণ করব নাকি লড়ব?

ইটস টেস্ট ক্রিকেট, নট আ ব্লাডি সার্কাস!

– ফেসবুক ওয়াল থেকে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।