এই দলটা কেবল ওই পাঁচ জনের না

সেবার শীত বেশ কাঁপাচ্ছিলো। এর মাঝেই ত্রিদেশীয় সিরিজ এলো। তিন দলের এক দল যখন ছিলো জিম্বাবুয়ে, ফাইনাল খেলতেই হতো। প্রথম ম্যাচে হেরে, সুপারম্যানের সাহায্যে অনেক সমীকরণ মিলিয়ে ফাইনাল খেলেও ফেললাম। ছয় রানে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ফাইনাল জিতেও যাচ্ছিলাম। কোত্থেকে যেন মুরালি এলেন, বাস্তবতার পাঠ শিখিয়ে আবেগের স্রোতে ডুবিয়ে দিলেন। ম্যাচ হারলাম, আমি কাঁদলাম।

সেই শুরু!

মাঝে তিন বছরের ব্যবধান। স্বপ্নভেলায় ভেসে ভেসে, ভারত-শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে পৌঁছলাম আরও এক ফাইনালে। মঞ্চটা এবার আরও বড়, এশিয়া কাপ। স্বপ্ন ভাঙাতে শাহাদাত রাজিব এলেন, সাথে নিয়ে এলেন নাসির হোসেন আর নাজিমউদ্দীনকে। ম্যাচ হেরেছিলাম ২ রানে। মা সেদিন বাসায় ছিলেন না। কাউকে তাই বোঝাতেও হয়নি, ‘মা, এটা কেবলই একটা খেলা নয়!’

আবার দেখা এশিয়া কাপে। চার বছর পরে। সেবারে অবশ্য কষ্ট হয়নি তেমন। জয় তখন তো আর সোনার হরিণ নয়। ম্যাচটাও কখনো আমাদের হাতে ছিলো, এমনও নয়। ভারতের সাথে সেই হারটা তাই নিছকই এক হার, কান্না নয়।

২০১৮ এলো। আবার শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ এলো। পরিষ্কার ফেবারিট বাংলাদেশকে কেমন করে যেন উড়ে যেতে দেখলাম ফাইনালে, মধুশঙ্কা করে ফেললেন হ্যাটট্রিক। কষ্টটা ফেরত এসেছিলো, কান্নাটা নয়।

যা ফেরত এসেছিলো মাস তিনেক পরে। কি থেকে যেন কি হলো, দীনেশ কার্তিকের ছিনতাইয়ে স্বপ্নভঙ্গ হলো। সেদিন মা বাসায় ছিলো, ম্যাচ শেষে বারেবারে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হলো, ‘বাবা, ঠিক আছো তো?’

এশিয়া কাপ নিয়ে আর কিছু বলার নেই। দলের সেরা দুই ক্রিকেটারকে হারিয়ে ম্যাচ জয়ের প্রত্যাশা করিনি কোনোদিন-ই। কিন্তু, ওই যে, আবেগগুলো কেন যেন যুক্তিতর্কের ধার ধারে না। ২২০-মতো রান করেও আশা কমেনা, দশ বলেরই ব্যাপার তো। দশ বলের অপেক্ষায় রাত গভীর হয়। ম্যাচশেষে আমার ফাইনাল জয়ের স্বাদ পাবার অপেক্ষা প্রলম্বিত হয়।

_______________

ভেবেছিলাম এমন করেই যাবে, ফাইনাল জয়টা আর হবে না। প্রথম ইনিংসের পর তো আরও না। ২৪ ওভারে ২১০ রান তাড়া করা তো মুখের কথা না।

ভাগ্যিস, এমন করে সৌম্য ভাবেন না। ওই ৬৬ রান আসলে, ‘জাস্ট ভাবা যায় না।’

ভাগ্যিস, ব্যাটে-বলে না হলেও সৈকত ভাবেননা, ম্যাচ একা হাতে শেষ করতে তাকে বেগ পেতে হয়না। শেষ ওভারে বল করতে এসেও মিরাজ ঘাবড়ে যান না, সাব্বিরের ডাইভ দেয়ার আগে দুবার ভাবতে হয় না।

গ্যারান্টি দিচ্ছি, এই জয়ের পরে প্রত্যাশার পারদ চড়াতে অতিরিক্ত কিছু করতে হবে না।

বিশ্বাস করুন, এটা নিছকই এক জয় না। এই দলটা কেবল ওই পাঁচ জনের না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।