১০ মিনিটের বিরাট কোহলি নয়, ফুলটাইম মার্ক ওয়াহ চাই!

মোট পাঁচটা ছক্কা হাঁকিয়েছেন। চাইলে সবগুলি নিয়ে কথা বলা যায়। দুই স্টেপ এগিয়ে ধনাঞ্জয়াকেকে ‘তোরে গুনলাম না’ ভঙ্গিতে লং অন দিয়ে মারা ছক্কাটা একজন ইনফর্ম ব্যাটসম্যানের ‘আজকের রাতটা শুধুই আমার!’ ঘোষণা করার ছক্কা।

চামিরা, নুয়ান প্রদীপদের টো/হিপের উপর করা বলগুলো জাস্ট আলতো টাচে বাউন্ডারিতে আছড়ে ফেলেছেন, যে লেগসাইড প্রোন স্বভাবের জন্য তাঁকে বিশেষজ্ঞ মহল মাঝেমধ্যে ডিমেরিট পয়েন্ট দেন, তিনি জাস্ট এটাই বুঝিয়ে দিলেন যে এই লেগসাইড তাঁর কতটা রাজত্ব। ইতিহাসের মোলায়েমতম ব্যাটিং গ্রেট মার্ক ওয়াহও লিটন দাসের টাইমিং দেখে ‘ওয়াহ ওয়াহ’ করে উঠেছেন হয়ত!

অথচ এই ব্যাটসম্যানটা তিন বছরে তিন ফরম্যাটে খেলেছেন মাত্র ২৬ টি ম্যাচ!

১২টি ওয়ানডে, ৮ টি টেস্ট (১৩ ইনিংস), ৬ টি মাত্র টি-টোয়েন্টি, মোট ৩১ ইনিংস! তাও এক বছর অন্তর অন্তর কয়েকটি করে ম্যাচ খেলিয়ে আমরা বলে দিচ্ছিলাম লিটন দাস লর্ড, লিটন দাস কোটার খেলোয়াড়। বলার আগে ওপরের সংখ্যাগুলো মাথায় আনার কথা আমদের মাথাতেই ছিল না!

প্রথম দুই এক ম্যাচেই ঝলক দেখাতে হবে নইলে ‘বাতিল মাল’ – দর্শকদের এই অসুস্থ মানসিকতা আমাদের নির্বাচক কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টকেও হয়তো ছুঁয়ে যায়। কি পরিমাণ মানসিক চাপের মধ্যে লিটন এই তিনটা বছর খেলেছেন তা যদি আমরা একটু বুঝতাম?

এর মাঝে গত ছয় মাসই একটু ঘন ঘন সুযোগ পেয়েছেন। তাতেই নিজের ক্লাস বুঝিয়ে দিতে আর হেটারের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বিন্দুমাত্র সময় নেননি! টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭১, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চিটাগাংয়ের ৯৪, আজ টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে বাংলাদেশের বিধ্বংসীতম ইনিংসটি খেললেন তিনি!

তো জাস্ট ভেবে দেখুন, এই খেলোয়াড়টি যদি অন্তত তাঁর খেলা ম্যাচের দ্বিগুণ সংখ্যক ম্যাচও খেলতে পেতেন, যদি টেস্টের সংখ্যা এত দিনে ৮ টি না হয়ে ১৬ টি হত, যদি টি-টোয়েন্টি ১২ টি হত, ওয়ানডে যদি ২৫+ খেলতেন, তাহলে আজ লিটন কোথায় থাকতেন?

আমরা বড়ই রঙিন মনের সমর্থক। রঙিন পোশাকের চটকদারি কীর্তিগুলি একটু বেশী মনে থাকে, মাথায় থাকে। তাই যদি সত্য হয় তো আজকের পর লিটন দাসের হেটার কমে প্রায় শুন্যের কাছাকাছি হয়ে যাওয়া উচিত!

এরপরও যদি লিটনকে সমালোচনা শুনতে হয়, তাহলে আমাদের সমর্থকদের মান নিয়ে কথা বলারই আর কিছু থাকবে না।

লিটনের সামর্থ্যের ফুল এক্সপোজারের জন্য কি করতে হবে এটা খুবই সিম্পল। আগামী ঝাড়া ২০ ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচের জন্য ওপেনিং বা ওয়ান ডাউনে লিটন ফিক্সড! টেস্ট হলে পাঁচ-ছয়-সাত নম্বরে। কিন্তু লিটন খেলবেনই, ব্যাট তিনি করবেনই – এই নিশ্চয়তাটা দিয়ে তাঁকে নির্ভার রাখতে হবে। ‘দলে থাকবো কি থাকবো না’ – এই চাপটা সরে গেলেই তিনি কি করতে পারেন সেটা নিশ্চয়ই আমাদের এতক্ষণে বোঝা হয়ে গেছে।

লিটন দাস আমাদের বাজির ঘোড়া শুধু আগামী বিশ্বকাপ নয়, আগামী ১০ বছরের জন্য! সৌম্য-সাব্বিররা হারিয়ে যেতে পারে, কিংবা ডুবে-ভাসার মধ্যে থাকতে পারে! কিন্তু ব্যাটিং ব্যাকরনের বিশুদ্ধতা যার সঙ্গী, সেই লিটন দাস কখনো হারাবেন না।

১০ মিনিটের বিরাট কোহলি নয়, আমাদের একজন ফুলটাইম মার্ক ওয়াহ দরকার!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।