‘নূর জাহান’ গাঁথা

এই ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পেয়েছিল দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘নূর জাহান’। এর আগে জাজ, ভারতের এস কে মুভিজের সাথে যৌথ প্রযোজনা করলেও এবারই প্রথম বেছে নিয়েছেন রাজ চক্রবর্তী প্রোডাকশনকে, সঙ্গে প্রভাবশালী প্রযোজনা সংস্থা এস ভি এফ।

গত বছরের মহরতের পর থেকেই শোনা গিয়েছিল এটি বহুল আলোচিত মারাঠি ছবি ‘সাইরাত’-এর রিমেক, ট্রেইলারেও কিছুটা সেই আভাস মেলেছিল, কিন্তু মুক্তির আগ মুহুর্তে রাজ চক্রবর্তী জানালেন, এটি মৌলিক ছবি। বিশ্বাস হচ্ছিল না, অবশেষে আমার সুপরিচিত চলচ্চিত্র প্রেমীদের সৌজন্যে জানতে পারলাম এটি সাইরাতের রিমেক নয়ই পাশাপাশি ছবিটিও উপভোগ্য।

আর আমারো আগ্রহ জন্মালো।

অবশেষে দেখা হল চট্টগ্রামের আলমাস সিনেমা হলে, দর্শক সমাগম একেবারেই কম। টিকেট কাউন্টার থেকে জানতে পারলাম, সিনেমা ভালো হলেও দর্শক নেই। ছবিটি নিয়ে জাজ তেমন প্রচার করে নি,যেটা তাঁরা অন্যান্য বাণিজ্যিক সিনেমার ক্ষেত্রে করেন, তার উপর তাদের যৌথ প্রযোজনা নিয়ে সমালোচিত কাজ বিরুপ প্রভাব ফেলেছে।

সিনেমার শুরুতে টাইটেলে পরিচালকের টাইটেলে আমাদের আব্দুল আজিজের নাম। নবাব,শিকারী দেখে এটা অবশ্য অভ্যস্ত হয়ে গেছে, কিন্তু অবাক লাগে তখনই যিনি বিন্দুমাত্র পরিচালনা না করেও সেই আসনে আসীন হন। এখন যৌথ ছবিতে দুই নির্মাতা থাকতে হবে, এমন নীতিও নেই। তবে কেন এমন করছেন!

এইবার আসি ‘নূর জাহান’ এ। সদ্য তারুণ্যে পা দেওয়া তরুণ তরুণীর পরস্পরকে ভালোবাসার গল্প এটা। গল্পের কারণেই এসেছে শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাহিনী। ছবিটি সাইরাতের রিমেক হয়তো নয়, তবে কাহিনীকার যে ওই গল্প থেকে অনুপ্রানিত হন নি, সেটা বলা যাবে না। তবে সিনেমার গল্প এগিয়ে যাবার ভালো চেষ্টা করেছেন নির্মাতা অভিমন্যু মূখ্যার্জী, নির্মানে নবাগত হলেও এই কাজ টাও ভালো সামলেছেন, আবহ সঙ্গীতের কাজ ভালো, গান ও শ্রুতিমধুর।

অভিনয়ে নায়ক আদ্রিতের প্রথম কাজ এই ছবি। নিজের মত চেষ্টা করেছেন, কথাবার্তায়য় কিছুটা অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের মতন। আমার অতি পছন্দের অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য আছেন এই ছবিতে। তবে তিনি কিছুটা উচ্চকিত অভিনয় করেছেন, হয়তো সেটা চরিত্রের প্রয়োজনেই, স্বল্প সময়ে কাঞ্চন মল্লিক নজর কেড়েছেন। সুপ্রিয় দত্ত ও ভালো, তবে তাঁকে এইসব চরিত্রে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

আবির চট্টোপাধ্যায়ের মা রুমকি চ্যাটার্জীও আছেন এই ছবিতে। এই ছবির সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে নায়িকা পূজা চেরী। এর আগে শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয় করলেও নায়িকা হিসেবে এটাই প্রথম ছবি। বয়স কম হলেও, পরিপূর্ণ নায়িকাই মনে হয়েছে, সাথে সু অভিনেত্রীও।

অনেকদিন পর বাণিজ্যিক ছবিতে সব মিলিয়ে একজন পরিপূর্ণ নায়িকা পাওয়া গেল। প্রথম ছবিতেই এত অনবদ্য অভিনয়, অনেক জনপ্রিয় নায়িকাও করতে পারেননি। আশা রাখি, ভবিষ্যতে সুনির্বচনীয় হয়ে ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করবেন। আর তাতেই আমরা পাবো একজন কাঙ্খিত নায়িকাকে।

পূজা চেরী বাদে অন্যান্য বাংলাদেশি শিল্পীদের তেমন কিছু করার ছিল না। বিশিষ্ট অভিনেতা নাদের চৌধুরী এখন জাজের প্রিয়ভাজন। তাই তাঁকে এখন তাদের প্রায় সব ছবিতেই দেখা যায়, হোক সেটা স্বল্প চরিত্র, তবে দারুণ কণ্ঠের অধিকারী নাট্যাভিনেতা ওমর আয়াজ অনি ঠিক কি কারণে এই ছবিটা করলেন, বুঝে আসলো না।

এছাড়া চিকন আলীসহ অন্যান্যদের ভূমিকা অনেক কম। অপরাজিতা আঢ্যর সহচর হিসেবে একজন ছিলেন। উনি সম্ভবত বাংলাদেশি, নাম জানি না। অভিনয় ভালো করেছেন, তবে তাঁর শরীর অবয়ব এই চরিত্রে মানায়নি। বাংলাদেশের ছবিতে সম্ভবত এই প্রথম কোন সমকামী চরিত্র দেখা গেল, যদিও চরিত্রটা মোটেও বিকশিত হয় নি। যৌথ প্রযোজনা হওয়ায় গল্পেত স্রোতে ভারত- বাংলাদেশ মিশে গেছে। ক্যামেরার কাজ ও ভালো, সাজসজ্জাও বেশ।

সব মিলিয় বাণিজ্যিক প্রেমের ছবি হিসেবে এই ছবি উপভোগ্য। সময় ও সুযোগ মিললে দেখে আসতে পারেন,এই রকম ছবি ফ্লপ হওয়া হতাশাজনক। আর যদি কেউ বলেন, এটি যৌথ ‘প্রতারনা’র ছবি দেখবো না, তাদেরও সাধুবাদ জানাই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।