বৈচিত্রে মোড়ানো নাক উঁচু অজিদের জীবন

অস্ট্রেলিয়ার নাম শুনলেই চোখে সবার আগে ভেসে উঠে মেলবোর্ন কিংবা সিডনির মতো বিখ্যাত শহরের চিত্র, সবুজ হলুদের জার্সি গায়ে মাঠ কাপানো রিকি পন্টিং, গিলক্রিস্টদের মনভোলানো ক্রিকেটীয় শৈলী, কিংবা অ্যাশেজের দ্বৈরথ। কিন্তু এর বাইরেও এই দেশটি জানা অজানা নানান বিষয়ে ভরপুর।এই দেশে পায়রা তুলনায় তোতা পাখির দেখা মিলে বেশি। বলা হয়ে থাকে, এই দেশটিতে মোট জনসংখ্যার দ্বিগুণ পরিমাণ ভেড়া এবং দেড়গুন পরিমাণ ক্যাঙ্গারুর বাস।

  • অস্ট্রেলিয়ার সবকিছুই আপনাকে ‘হত্যা’ করতে সদা প্রস্তুত

এই সুন্দর দেশটির সবচাইতে ভয়ংকর রুপ হলো এই অঞ্চলের বিষাক্ত প্রাণীকুল। বন্যকুকুর, বিষাক্ত সাপ কিংবা প্রাণঘাতী হাঙর কি নেই এই দেশটিতে।

এই দেশটির আরেকটি প্রাণঘাতী শত্রু হলো সূর্য। গ্রীষ্মের ৫০ ছুঁই ছুই তাপমাত্রা এবং অতি বেগুনি রশ্মির উর্ধ্ব সূচকের কারনে গ্রীষ্মকাল এই অঞ্চলে যথেষ্ট বেদনাদায়ক। এই সময় সূর্যের আলোতে ৩০ মিনিট থাকলে দেহ ত্বক পুড়ে যায় সেই সাথে থাকে ত্বকীয় ক্যান্সারের মারাত্মক ঝুকি।

  • সুইজারল্যান্ডের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ান পর্বতমালায় তুষারপাত বেশি হয়

যদিও মধ্য সিডনিতে শেষ তুষারপাত দেখা গিয়েছিল ১৮৩৬ সালে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান আল্পস, নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ভিক্টোরিয়া প্রদেশে অক্টোবর থেকে জুন মাসে তুষারপাতের পরিমাণ থাকে সর্বোচ্চ।

  • ইউজিজি বুটের জন্মস্থান

আমেরিকানরা বিশ্ববিখ্যাত ইউজিজি বুটের পেটেন্ট লাভ করলেও, এই বুট জুতার আদি উৎপত্তি কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে।এই অঞ্চলের কৃষকেরা এই ধরনের বুট জুতা ব্যবহার করছে প্রায় বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে।

আজো অস্ট্রেলিয়াতে এই বুট জুতার ব্যবহার চোখে পরার মত। ঘরে বাইরে সমান তালে এই জুতা ব্যবহৃত হয়।কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ঘরে কেনো? প্রচণ্ড শীতের দিনে এই বুট জুতা পা কে রাখে উষ্ণ। তাই শীতের দিনে এই জুতা ঘরেও ব্যবহৃত হয় প্রচুর।

  • মজার বিলবোর্ড

এই দেশটির কিছু কিছু রাস্তা এতোটাই লম্বা এবং বিরক্তিকর যে চালকদের মনোরঞ্জনের জন্য ব্যবহৃত হয় নানান ধরনের মজার মজার রোড সাইন এবং বিলবোর্ড।

  • অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি চারজনের একজনই অভিবাসী

পরিসংখ্যান বলছে এই দেশটির ২৮.৫% লোক অভিবাসী। যাদের বেশিরভাগ চীন, ভারত, গ্রেট ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশ থেকে অষ্ট্রেলিয়াতে এসে স্থায়ী হয়েছে।

  • সামাজিক সহযোগিতার মাত্রা এখানে অনেক বেশি

যদি আপনার ৪ অথবা ৫ সন্তান বিশিষ্ট একটি বড় পরিবার থাকে তবে আপনি অনায়াসে ভাতা পাবেন যা মূলত আপনার পরিবারের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যদের কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য দেওয়া হবে।

যে প্রতিষ্ঠান এই ভাতা প্রদান করে থাকে,তারা মূলত ১৬ বছরের ছোট বয়সীদের ক্ষেত্রে এই ভাতা প্রযোজ্য করলেও কখনো কখনো তা ১৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

  • অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ পার্কেই বার-বি-কিউ এর ব্যবস্থা থাকে

অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব পার্কেই ইলেক্ট্রিক অথবা গ্যাস চালিত গ্রিল করার চুলা থাকে, যা বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। স্টেক, সসেজ সহ নানা ধরনের গ্রিল আইটেম তৈরীর জন্য ব্যবহার করা হয় এই চুলা।

বলা হয় অস্ট্রেলিয়ানরা অনেক বেশি পিকনিক করতে ভালোবাসেন, সেই সাথে ভালোবাসেন সামুদ্রিক মাছ খেতে। এর কারণে তাদের পিকনিকের অনুষঙ্গ হিসেবে বহুল পরিমাণে গ্রিল করা ছোট চিংড়ি, গলদা চিংড়ি এবং ঝিনুক ব্যবহৃত হয়।

  • অস্ট্রেলিয়া হল দৈত্যকার ভাস্কর্যের দেশ

এই দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রায় ১৫০ দৈত্যকার ভাস্কর্য। বলা হয় এই সকল ভাস্কর্য বানানোর পিছনের মূল কারণ হলো পর্যটকদের আকর্ষণ করা।

বিভিন্ন রাস্তায় স্থাপিত বিশালাকৃতির বিভিন্ন প্রাণী, খাবারসহ নানা কিছুর ভাস্কর্য অষ্ট্রেলিয়া তে আসা পর্যটকদের মারাত্মকভাবে আকর্ষণ করে। ভাস্কর্যগুলোর সাথে পর্যটকদের তোলা সেল্ফি এবং অন্যান্য তোলা ছবিই বলে দেয় এই দেশে আসা পর্যটরা এই সকল ভাস্কর্যকে কতোটা পছন্দ করে।

  • কাগজের মুদ্রা পরিবর্তে রয়েছে প্লাস্টিকের মুদ্রা

১৯৮৮ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কাগজের পরিবর্তে প্লাস্টিকের মুদ্রা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কাগজের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের পলিমার জাতীয় প্লাস্টিক ব্যবহার যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হলেও, প্লাষ্টিকের মুদ্রার স্থায়িত্ব যথেষ্ট বেশি।

তবে সব থেকে মজাদার বিষয় হল,অষ্ট্রেলিয়াতে আপনি একটি ১০ ডলারের নোটকে সমান দুই ভাগে ছিড়ে দু’টি পাঁচ ডলারের নোট হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

  • ভোট না দিলে জরিমানা

অস্ট্রেলিয়াতে, ১৮ বছর হওয়ার পরে আপনি যদি কোন যুৎসই কারণ ছাড়া ভোট প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন তবে স্থানভেদে আপনাকে ২০ ডলার থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

  • অস্ট্রেলিয়ানরা বকশিশ দেয় না

পৃথিবীর যেকোন বড় বড় শহরের ছোট বড় ক্যাফে, রেস্টুরেন্টে বকশিশ দেওয়া একটি সহজাত বিষয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে ক্যাফে, রেস্টুরেন্টে বকশিশ না দেওয়াটাই সবচেয়ে সহজাত বিষয়।

  • অস্ট্রেলিয়ানরা ক্যাঙ্গারুর মাংস খায় না

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচিত পশু ক্যাঙ্গারু। স্থানীয় বাজারে ক্যাঙ্গারুর মাংস যথেষ্ট সহজলভ্য হলেও, অস্ট্রেলিয়ানরা সাধারণত এই মাংস অনেকটাই এড়িয়ে চলে। অষ্ট্রেলিয়ায় ৭০% ক্যাঙ্গারুর মাংস পৃথিবীর প্রায় ৫৫টি দেশে রপ্তানি করা হয়।

  • পৃথিবীর অন্যতম ১০ টি বিষাক্ত সাপের মধ্যে ছয়টির বাস অস্ট্রেলিয়াতে

বিষাক্ত সাপের আনাগোনার জন্যে বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়া। পৃথিবীর অন্যতম বিষাক্ত সাপ ‘কোষ্টাল তাইপান’-এর স্থায়ী বাস এই অস্ট্রেলিয়াতে। এই সাপের ১৩ মিলিমিটার দাতেঁ প্রায় ১২০ মিলিগ্রাম বিষ থাকে। এই সাপের কামড়ে আক্রান্ত প্রাণী ৪-১২ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করে। আর একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই সাপের কামড় খেয়ে সর্বোচ্চ একদিন বেঁচে থাকতে পারে।

  • প্রচুর পরিমাণ বন্য উটের দেখা মেলে অস্ট্রেলিয়ায়

না এখানে মিশর কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে অষ্ট্রেলিয়ার কথা, যেখানে বন্য উটের প্রচুর উপস্থিতি আসলেই অবাক করার মত। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশটির মধ্য ও উত্তরাংশে প্রায় এক কোটি বন্য উট রয়েছে।

  • দীর্ঘতম দেয়াল

পৃথিবীর দীর্ঘতম দেয়াল চীনের গ্রেট ওয়াল নয়। অস্ট্রেলিয়ায় বন্য কুকুরের হাত থেকে ভেড়ার পালকে বাচানোর জন্য তৈরীকৃত বেড়া সবচাইতে দীর্ঘ। এটা প্রায় ৩৪৮৮ মাইল দীর্ঘ।

  • অস্ট্রেলিয়ানরা ডাক নাম ব্যবহারের জন্য বিখ্যাত

বলা হয় অস্ট্রেলিয়ানরা এতোটাই অলস যে তারা সবকিছুর একটি ছোট্ট ডাকনাম ব্যবহার করে যাতে সম্পূর্ণ নামের পরিবর্তে ডাকনামটি সহজে ব্যবহার করা যায়।

তারা নিজেদের সম্বোধন করে ‘অজি’ হিসেবে। এমন আরো কিছু ডাকনামের মধ্যে আছে – জি ডে (গুড ডে), ব্রিজি (ব্রিজবেন, কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী), বার্বি (বার্বিকিউ), ফুটি (ফুটবল) ইত্যাদি।

– ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।