সত্যজিতের পথের পাঁচালী সত্যিই অসাধারণ: ক্রিস্টোফর নোলান

সময়ের অন্যতম সেরা পরিচালকদের একজন যখন কাউকে নিয়ে কিছু বলেন তাহলে নড়ে চড়ে বসতেই হয়!

সেই পরিচালকটি হলেন ক্রিস্টোফর নোলান। সম্প্রতি তিনি কিংবদন্তিতুল্য বাঙালি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের অস্কার পাওয়া বিখ্যাত সিনেমা ‘পথের পাঁচালী’ দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। হলিউডের পরিচালকদের আরো বেশি উপমহাদেশীয় সিনেমা ও সংস্কৃতিকে অনুসরণ করার জন্যও জোর দেন তিনি।

৪৭ বছর বয়সী নোলান ভারতে তিন দিনের সফর করেন। তাঁর সাথে ছিলেন ভিজুয়াল আর্টিস্ট ট্যাসিটা । নোলান জানান ভারতীয় সিনেমাকে বোঝার জন্যই তাঁর ভারতে আগমণ।

তিনি বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত যে, সম্প্রতি আমার মিস্টার রায়ের পথের পাঁচালী দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কখনো ভাবতেও পারিনি যে সিনেমাটি দেখতে পারবো। এটা খুব অসাধারণ একটা শিল্পকর্ম। আমি ভারতীয় সিনেমাকে আরো ভাল ভাবে বুঝতে চাই, সেজন্যই আমার এখানে আসা।’

পথের পাঁচালী ছবির একটি দৃশ্য

ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতেদের সাথে সাক্ষাৎ করারও ইচ্ছাপোষণ করেছেন নোলান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি ভারতীয় নির্মাতাদের সাথে দেখা করে ভারতবর্ষকে আরো ভালভাবে জানতে চাই। আশা করি সামনে আরো ভারতীয় সিনেমা দেখার সুযোগ হবে।’

ভারতে এর আগেও এসেছেন নোলান। ২০১২ সালে তাঁর মুক্তি পাওয়া বিখ্যাত সিনেমা ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’-এর একটি দৃশ্যের শুটিং করতে তিনি এসেছিলেন জোধপুরে। তিনি বলেন, ‘আশা করি আবারো এসে ভারতে আরো লম্বা কোনো শ্যুটিং করবো।’

ভারত সফরে বলিউডের অনেকের সাথেই দেখা হয় নোলানের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। টুইটারে শাহরুখ এই প্রসঙ্গে টুইটও করেছেন। না, বলিউডে সিনেমা বানানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত করছে না ‘ডানকার্ক’-এর এই পরিচালক।

কিংবদন্তি অভিনেতা ও ভারতীয় রাজনীতিবিদ কমল হাসানের সাথেও সময় কাটান নোলান। কমল হাসানের সাথে আলাপে নোলান জানান, এরই মধ্যে তিনি কমলের ‘পাপানাসাম’ দেখে ফেলেছেন। একই সাথে কমল তাকে ‘হে রাম’ সিনেমার ডিজিটাল ফরম্যাটের একটি কপি উপহার দিয়েছেন।

নোলান জানান তাঁর জীবনটাই সিনেমাময়। তিনি বলেন, ‘জীবনকে আপনি কিভাবে দেখেন তাতে সিনেমার ভূমিকা অনেক। সিনেমা স্বপ্ন দেখাতে সেখায়। সিনেমা আমার জন্য পৃথিবীকে দেখার ও দেখানোর মাধ্যম। এটা আমাকে প্রভাবিত করে। আমি সিনেমা দিয়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করি।’

– ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।