প্রিয় নোবেল, এটা আপনি কি করলেন!

কলকাতার জি বাংলায় ‘সারেগামাপা’ নামক গানের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ছেলে নোবেল অংশগ্রহন করেছে। এটা পুরনো খবর! সর্বশেষ ৮ প্রতিযোগীর একজন সে। অনুষ্ঠানটি এখন ও চলমান। এ মাসের ২৮ তারিখে গ্রান্ড ফিনালে প্রচার হওয়ার কথা। ক্যামেরার দৃশ্যধারণ হয়ে গেছে, এমনকি রেজাল্ট ও পাবলিশ হয়েছে আন-অফিসিয়ালি!

নোবেল সারেগামাপা’য় তৃতীয় স্থান নাকি অর্জন করেছে। আমি নিয়মিত দেখতাম এ প্রোগ্রামটি। যখন দেখলাম নোবেল ভাল গান গেয়েও প্রত্যাশিত স্থান পায়নি, তাছাড়া প্রোগ্রামটির বিচারকদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও সহ্য হচ্ছে না তখন থেকে আর দেখি না।

আজকে ফেসবুকের কল্যানে একটা জিনিস চোখে পড়লো সেটি হচ্ছে- নোবেল যে গানটি গেয়েছে সে গানের সৃষ্টি সম্পর্কে না জানা!

আমাদের দেশেরই ব্যান্ড জগতের একটি গান। এই গানটি হয়তো আমাদের প্রজন্মকে প্রতিনিধিত্ব করে, এবং এ গানটি যে এলবামের সে অ্যালবামটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল তখন!

তখনকার সময়ের তরুন প্রজন্মের খুব কম লোককে পাওয়া যাবে যে গানটি শুনে নাই। ১৯৯৮ সালে বেরিয়েছিল ‘শেষ দেখা’ শিরোনামের অ্যালবামটি। সে অ্যালবামের ‘এত কষ্ট কেন ভালবাসায়’ গানটি গেয়েছিল আর্ক ব্যান্ডদলের শিল্পী হাসান!

গানটির গীতিকার ও সুরকার হচ্ছেন প্রিন্স মাহমুদ। তখনকার সময়ে প্রিন্স মাহমুদের অ্যালবাম মানেই সুপার-হিট! তার অ্যালবামে একে একে পাওয়া যেত আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, হাসান, শাফিন আহমেদ, টিপু, জুয়েল, খালিদ, বিপ্লবের গান!

প্রিন্স মাহমুদের প্রত্যেকটা অ্যলবামই ছিল সুপারহিট। জেমসের মা, বাবা, বাংলাদেশ কিংবা শেষ দেখার মত কালজয়ী গান এখনো শুনি, এই গানগুলোর স্রষ্ঠা কিন্তু এই প্রিন্স মাহমুদ।

তাঁর অ্যালবাম বের হলেই সাথে সাথে কিনে ফেলতাম! তখন তো আর নয় টাকার এমবি প্ল্যান ছিল না, স্টেরিও ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শুনতাম, ফিতে এলবাম কিনতাম ৩৫ টাকা করে!

অসম্ভব মেধাবী এই মানুষটিকে নিয়ে পরবর্তীতে লেখার ইচ্ছে আছে! মূল কথায় ফিরে আসি। সারেগামাপা’র আজকের এপিসোডে নোবেল ব্যান্ডশিল্পী হাসানের ‘এত কষ্ট কেন ভালবাসায়’ গানটি গেয়েছে। তাঁকে সঞ্চালক জিজ্ঞেস করেছে যে – ‘কি গান গাইবে আজ?’

নোবেল উত্তর দিলো, ‘আমাদের দেশের একটি ব্যান্ডের গান- এত কষ্ট কেন ভালবাসায়, আর্ক ব্যান্ডের গান, ভোকালিস্ট হাসান, আর্ক ব্যান্ডের এত কষ্ট কেন ভালবাসায় গানটি গাইছি’!

উত্তরটা তো ঠিক হলো না নোবেল! আপনাকে জানতে হবে, বুঝতে হবে তারপর কথা বলতে হবে। আপনি গিয়েছেন দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে, আপনি গানের মানুষ, ব্যান্ডের গান আপনার অতি প্রিয়, আগের অনেক এপিসোডে আপনি আমাদের দেশের ব্যান্ডের গান গেয়েছেন- অথচ আপনি যে গানটি গাইবেন, জানেন না সেটি কার লেখা ও সুর করা!

ব্যাপারটা দু:খজনক।

ধরে নিলাম, আপনি শুধু শিল্পীর নাম জানেন, শুধু শিল্পীর নাম বললেও হয়তো হতো কিন্তু শিল্পীর নাম ঠিক বললেও বাকীটুকু আপনি ভুল বলেছেন!

গীতিকার ও সুরকার হিসেবে প্রিন্স মাহমুদের কথা আপনি বলেন নাই! আপনি বলেছেন আর্ক ব্যান্ডের গান! ভুল বলার চেয়ে না বলা ভাল- প্রিয় নোবেল! আজ প্রিন্স মাহমুদ এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট ও দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন গানটি আর্ক ব্যান্ডের নয়, গানটি তার এলবাম ‘শেষ দেখা’র। গানটি গাওয়ার আগে নিশ্চয় অনেকবার প্র্যাকটিস করেছেন গানটি গেয়ে, একবারও কি আপনার জানতে ইচ্ছে হলে না যে, গানটি কার লেখা ও সুর করা?

বা আপনি ভাবলেন না- আপনাকে মঞ্চে জিজ্ঞেস ও তো করতে পারে যে কার লেখা গান তুমি গাইবে? আপনার অ্যাপ্রোচ নিয়ে ও আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাধ্যমে নেগেটিভ মন্তব্য এসেছে!

মনে রাখবেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে কথা বলতে হয় সব দেখেশুনে-বুঝে-জেনে! হয়তো আপনার বয়স কম, তাই বলে এতদিন এই প্রোগ্রামে গান করে শেষ বেলায় এ রকম ভুল করা কোনভাবেই কাম্য নয়।

প্রায় সব ভাষা, দেশ ও জাতির সংগীতের একটা সোনালি অতীত থাকে। যেমন ইংরেজি পপ রক ও ব্যান্ডের গানের ক্ষেত্রে বলা হয় ৬০ ও ৭০ দশক ছিল তাদের সোনালি অতীত। তেমনি বাংলাদেশের আধুনিক, পপ ও ব্যান্ড সংগীতের ক্ষেত্রে বলা হয় ৮০ ও ৯০ দশক ছিল স্বর্ণযুগ। কত অসাধারণ সব গান সৃষ্টি হয়েছে সে সময়।

যেমন সুর কথা ও কম্পোজিশন। সেসব গানের সুর যেন শ্রোতাদের কানে আজও লেগে আছে। যেমন কানে লেগে আছে – ‘এত কষ্ট কেন ভালবাসায়’!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।