এখনো তামিমের বিকল্প কেবলই তামিম

বাংলাদেশের এমন কোন ব্যাটসম্যান নেই যারা প্রথম বল থেকেই মুজিব-রশিদের উপর চড়াও হবে, এদের ওভার থেকে রান নেয়ার জন্য একজন সেট ব্যাটসম্যান দরকার। তামিমের ভূমিকা সেটাই।

৯.৪ ওভারে ৭৫/২। এই পর্যায়ে তামিম খেলছিলেন ২৯ বলে ৩৪ রানে। ১১৭.২৪ স্ট্রাইক-রেট নিয়ে। যেমনটা শাহজাদ খেলেছিলেন প্রথম ম্যাচে, ৩৭ বলে ৪০। তবু তাদের রান হয় ১৬৭।

তামিম স্লো খেলেছেন অবশ্যই কিন্তু স্ট্রাইক-রেট যে বলার অযোগ্য রকম খারাপ (৮৯.৫৮) হয়েছে সেটা প্রথমে মুশফিক আর পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আউট হবার পর, আগেনা। সুতরাং তামিম বাকিদের চাপে ফেলেছে নাকি বাকিরাই আউট হয়ে তামিমকে চাপে ফেলেছেন এটা বিরাট এক প্রশ্ন!

মাহমুদউল্লাহ যখন আউট হলেন তখনো বাংলাদেশের অবস্থা প্রতি বলে চার্জ করার মতো না। ১১ ওভারে ৮৫/৩, রানরেট ৭.৭২, মানে প্রায় ৮। এখান থেকে হিসাব করে খেললে ১৬০ রান করা অসম্ভব ছিলো না।

তবে মাহমুদুল্লাহ আউট হবার পর ব্যাটিং অর্ডারে কারা ছিলেন? সাকিব, মোসাদ্দেক আর সৌম্য। সাকিবের লেগ স্পিনে দূর্বলতা, সৌম্য স্পিন মানেই দূর্বল আর মোসাদ্দেক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কতটুকু চলনসই সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে!

সুতরাং তামিমের হাতে অপশন ছিলো যেভাবে হোক শেষ পর্যন্ত ব্যাট করা আর নতুন ব্যাটসম্যানকে যত কম সম্ভব রশিদকে ফেস করানো। পাশাপাশি তামিম নিজেও রশিদকে পিক করতে স্ট্রাগল করেছেন।

যার ফলাফল ডট বল আর স্ট্রাইক-রেট ৮৯.৫৮। তামিম শেষ পর্যন্ত খেলতে চেয়েছিলেন আর তাতে দোষের কিছু নাই। গতকাল ডট বল কিছুটা বেশি হয়েছে কিন্তু অ্যাপ্রোচ ঠিকই আছে।

বরং তামিম একপাশ ধরে রাখলেও অন্য ব্যাটসম্যান যারা ছিলেন তারা সেটাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

আর তামিমের উপর দিন দিন রান করার প্রেসার বেড়েই চলেছে।হিসাবে দেখা যায় বেশিরভাগ দিন তামিম রান করলে দলের বড় রান হচ্ছে আর বাকিদিন হচ্ছেনা। দলে ধারাবাহিকভাবে গড়ে প্রতি ম্যাচে ২৫-৩০ রান করার একজন ব্যাটসম্যান পর্যন্ত নাই। শ্লগার/পিঞ্চ হিটার পরের কথা।

সুতরাং এটা মনেহয় টিম ম্যানেজমেন্ট-ই চায় যাতে তামিম যত বেশি সময় পর্যন্ত সম্ভব উইকেটে থাকুক। আর সেটা পারলে বেশিরভাগ দিনই তামিমের স্ট্রাইক-রেট ১২০ এর কাছাকাছি হয়। পাশাপাশি কেউ যদি ক্যামিও খেলে দেয় তাহলে রান ১৬০-১৭০ হওয়া কি কঠিন?

তাছাড়া হাতে এমন কোন বিকল্প নাই। বিজয়, কায়েস, সৌম্য? তবে হ্যা, ব্যক্তিগত মতামত হল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ‘মেক-শিফট’ ওপেনার হিসেবে বাজিয়ে দেখা যায়। অনেকদিন ধরেই ভাবছি বিষয়টা। আর লিটন-সৌম্যকে ওপেন করালেও সমাধান আসবে বলে মনেহয়না। কেউই ধারাবাহিক রান করতে পারবেন না এখনই। অনেক সময় দিতে হবে, বিশেষকরে লিটনকে।

হ্যা তবে তামিমের ভুল ছিলো রশিদকে শ্লগ সুইপ করা। যেভাবে খেলছিলেন তাতে ২০-ওভার ব্যাট করা উচিৎ ছিলো, তাহলে অন্য বোলারদের উপর চড়াও হতে পারতেন। রশিদকে ক্রস ব্যাটে খেলাটা অনেক বড় ভুল। তামিম অবশ্যই সেই ভুল করেছেন ভুল সময়ে।

আমি বলবো না তামিম ঠিক টি-টোয়েন্টির মেজাজে ব্যাট করে, কিন্তু এটাও ঠিক তামিমকে বাদ দেয়ার মতো দল এখনো বাংলাদেশ হয়নি।

তামিমের চেয়ে ভালো অপশন আসলে তামিম এমনিতেই বাদ যাবে, কিন্তু যেভাবে কিছু মানুষ তামিমের নামে আজে বাজে ভাষায় কথা বলছে সেটাও ঠিক না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।