নো ইনিয়েস্তা, নো ফিয়েস্তা

‘ওয়ান ক্লাব মেন’ – ক্লাব ফুটবলে দিন কে দিন এই প্রজাতিটা বিলুপ্ত হতে চলেছে। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা হলেন সেই বিরল প্রজাতির ফুটবলারদের একজন।

বার্সেলোনার যুব অ্যাকাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে এসেছেন, যুব দল হয়ে এসেছেন বার্সেলোনা ‘বি’ দলে, সেখান থেকে লা লিগায়, শিরোপা জিতেছেন, এনেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফাইনালে গোল করে স্পেনকে উপহার দিয়েছেন তাঁদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা। এই বার্সেলোনাই তো তাঁর ঘরবাড়ি, এটাই তো তাঁর জীবন।

তবে, এই সবই এখন অতীত। কাতালানদের সাথে ২২ বছরের সেই সম্পর্কের অবশেষে ইতি ঘটলো। শেষ বারের মত লাল-নীল জার্সি গায়ে ট্রফি তুলে ধরলেন। শেষ হল বার্সেলোনা ফুটবলের দীর্ঘতম ফিয়েস্তাগুলোর একটি। ১৬ টি মৌসুম খেলেছেন, মোট ৬৭৪টি ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ৩২ টি শিরোপা জিতেছেন। এই অর্জনটাতো ভোলার নয়, তিনি নিজেও ভুলতে পারবেন কি না সন্দেহ!

এখন ইনিয়েস্তা আর থাকবেন না, তাঁকে দেখা যাবে ভিন্ন কোনো ক্লাবে, ভিন্ন কোনে জার্সি গায়ে। ইনিয়েস্তাই যখন নেই, ফিয়েস্তা আর থাকে কি করে!

প্রতিটি মৌসুমে দলবদলের বাজারে জোরেসোরে মাঠে নামে বার্সা। উদ্দেশ্য নতুন একজন ইনিয়েস্তা খুঁজে বের করা। যদিও কোনোবারই খুব ‘বিশেষ’ কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। ইভান রাকিটিচকে পাওয়া গেল। ছেলেটা বেশ ভাল, কিন্তু ইনিয়েস্তার মত নয়। আন্দ্রে গোমেজকেও পাওয়া গেল, বার্সা ফুটবলে নতুনত্ব আসলো, কিস্তু, সেই তো ইনিয়েস্তা নয়।

এবার যেমন ফিলিপে কৌতিনহোকে দিয়ে চেষ্টা চলছে, তিনিই তো ইনিয়েস্তার বিদায়ী ম্যাচে গোল করে জয় দিয়ে স্মরণীয় উপলক্ষ্যটা আনলেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও সমর্থকদের আশা নিজের উজ্জ্বলতা ছড়ানো গতি আর যোগ্যতাকে দিয়ে কৌতিনহো একদিন বিশ্বসেরা হবেন, কিন্তু তিনি কখনো হয়তো ইনিয়েস্তা হতে পারবেন না। কিংবা বার্সেলোনায় যতদিন থাকবেন, ততদিন তাঁর সাথে তুলনা হবে স্বয়ং ইনিয়েস্তার। সেরা প্লে-মেকার হওয়ার আগে তাকে হারাতে হবে ইনিয়েস্তাকে। এটাই বাস্তবতা! ইনিয়েস্তা নামক ফিয়েস্তাকে খুঁজে ফিরেই কাটাবে বার্সেলোনা।

কিংবা একবার লিওনেল মেসির কথাই ভাবুন। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল জাদুকরের হাতেই তো অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ডটা তুলে দিয়ে বিদায় নিলেন ইনিয়েস্তা। তাকেও এখন সতীর্থ জাদুকরকে ছাড়াই সাজাতে হবে পরিকল্পনা, সাথে অধিনায়কত্বের বাড়তি চাপ তো আছেই। ম্যারাডোনার সাথে তুলনায় ত্যক্ত-বিরক্ত মেসির সাথেও এখন তুলনা হবে ইনিয়েস্তার। নিক্তি দিয়ে মাপা হয়ে দু’জনের অর্জন।

এত কিছু বাদ দেন। খোদ ইনিয়েস্তাই তো বিদায়ী বক্তব্যে বলে গেলেন, ‘যেখানেই যাই হৃদয়টা আমার এখানেই পড়ে থাকবে!’ না, ফুটবলটা স্রেফ একটা খেলা নয়, এটা আবেগ, এটাই জীবন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।