পরীক্ষার খাতা ফাঁকা রেখেও জিপিএ ফাইভ!

ধরেন, গোটা বছর আপনি কোনো পড়াশোনাই করেননি। পরীক্ষার খাতাতেও স্বাভাবিক ভাবেই কিছু লিখে আসতে পারেননি, তারপরও ফলাফলের সময় দেখলেন ঠিকেই পাশ করে গেছেন। আর শুধু পাশই নয়, রীতিমত জিপিএ ফাইভ পেয়ে গেছেন? – এই অনুভূতিটা বোঝা সত্যিই অসম্ভব।

তবে, চাইলে ফ্রান্সের অলিভিয়ের জিরুদকে জিজ্ঞেস করে দেখা যেতে পারে। কারণ কোনো গোল না করে, একের পর এক সহজ গোলের সুযোগ মিস করে, একটাও শট অন টার্গেট না থাকার পরও তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন। পুরোদস্তর একজন ফরোয়ার্ডের জন্য এই পরিসংখ্যানটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। তাই, বলাই যায় যে পরীক্ষার খাতা ফাঁকা রাখার পরও তিনি ঠিকই জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন।

গেল রোববার রাতে রাতে ২১ তম ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে ফ্রান্স। ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শিরোপার স্বাদ নেয় ফরাসিরা। দলের এমন অবস্মরণীয় অর্জনের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার রেকর্ড গড়লেন ফ্রান্সের স্ট্রাইকার অলিভিয়ার জিরুদ।

পুরো বিশ্বকাপের সাত ম্যাচে অংশ নিয়ে প্রতিপক্ষের গোলবারে একটিও অন-শট নিতে পারেননি জিরুদ। একটি ব্যর্থতার বিশ্বরেকর্ড হিসেবে লিপিবদ্ধ হলো। বিশ্বকাপ জয়ী দলের খেলোয়াড় হয়ে প্রতিপক্ষের গোলবারে একটিও অন-শট নিতে না পারা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম তুললেন জিরুদ।

রাশিয়া বিশ্বকাপে জিরুদ মাঠে ছিলেন মোট ৫৪৬ মিনিট। মজার ব্যাপার হল ১৯৯৮ সালেও ফ্রান্স দলে একজন স্ট্রাইকার নিয়মিত খেলে গেছেন, যিনি একবারো গোলবারের দেখা পাননি। তিনি হলেন স্টেফানে গুইভার্চ। তারপরও ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ঠিকই জিতেছিল ফ্রান্স।

সর্বশেষ ৯ জুন বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গোল মুখে একটি শট নিয়েছিলেন ফ্রান্সের জিরুদ। আর সর্বশেষ গোল করেছিলেন ২৮ মে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ফ্রান্সের সাবেক তারকা ফুটবলার ও বর্তমানে বেলজিয়াম দলের সহকারী কোচ থিয়েরি হেনরি অঁরি একবার বলেছিলেন, ‘জিরুদ যতদিন দলে আছেন ততদিন ফ্রান্স কোনো বড় শিরোপা জিতবে না।’

সেই হেনরিকে ভুল প্রমাণিত করলো ফ্রান্স। মূল গোলস্কোরারের কোনোরকম সাহায্য ছাড়াই তারা বিশ্বকাপ জিতে গেল। তবে, এই ব্যর্থতার রেকর্ডটা জিরুদের আত্মসম্মানে লাগার কথা। তবে, সেসব ভুলে আপাতত তিনি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের আনন্দে বুঁদ হয়ে আছেন।

তিনি বলেন, ‘এটা দারুণ একটা অনুভূতি। বিশ্বকাপকে সঙ্গী করে বাড়ি ফিরেছে। এর চেয়ে বড় আর কিছুই হয় না। সত্যি কথা বলতে আমার শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হল। যারা আমাকে সমর্থন করেছে, তাঁদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এটা খুব শক্ত ছিল। তবে, আমার সৌভাগ্য যে, আমি এই দলটার একটা অংশ। আমরা খুব দৃঢ়, খুব শক্ত ছিলাম। যোগ্য দল হিসেবেই আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি।’

বিশ্বকাপে গোল না পেলেও কিন্তু, জিরুদের গোল করার সক্ষমতা নিয়ে কোনো সন্দেহ কোনো কালেই ছিল না। সর্বশেষ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে চেলসির হয়ে ১৮ ম্যাচ খেলে করেছেন পাঁচ গোল। আর জাতীয় দলের হয়ে ৩১ টি গোল নিয়ে তিনি স্বয়ং জিনেদিন জিদানের সাথে আছেন যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে। বিশ্বকাপে চাইলে জিদানকে ছাড়িয়েই যেতে পারতেন। তবে, সেই সুযোগটা তিনি হেলায় হারালেন, যদিও, বিশ্বকাপটা বাড়ি নিয়ে আসলেন।

– টাইমস অব ইন্ডিয়া ও স্কাই স্পোর্টস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।