ন ডরাই: আঞ্চলিক ভাষার দূর্বোধ্যতায় ধৈর্য্যের পরাকাষ্ঠা!

আপনি অনেক টাকার মালিক। অনেক টাকা খরচ করে পোলাও-কোর্মা খাওয়াবেন বলে শেষ অবধি ব্যয়বহুল ভাতের মাড় খাওয়ান তাহলে কি আর বলার থাকে?

বাংলা মুভি বাঁচাও। ভালো বাংলা মুভির পাশে থাকো – এসব অপ্তবাক্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা কিছু আবেগীয় বোকা পাবলিক ছাড়পোকার কামড় খেয়ে, মশার কয়েল জ্বালিয়ে (বিশ্বাস করুন সিটের নিচে সেটাও জ্বালাতে হয়!) মফস্বলের ভাঙ্গাচোরা হলে যখন সেই ‘ভালো’ মুভি দেখতে গিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বের হয়ে আসি তখন আমাদের একশ টাকার টিকেটের দামে হাফকেজি পিঁয়াজও না মেলার হিসাব মেলাতে বাধ্য হই।

‘ন ডরাই’ নিয়ে এই রিভিউটা ‘ডরে ডরে’ই লিখছি। অতি আবেগীদের আজকাল আবার চারপাশে বাড়-বাড়ন্ত কি না তাই!

‘ন ডরাই’ মুভিটাকে আমি এক কথায় বলবো ধনী প্রযোজকের এক ধরনের ‘ভ্রান্তি বিলাস’। অথচ এটি হতে পারতো চমৎকার একটি সার্ফিং নির্ভর ‘সমুদ্র বিলাস’ মুভি।

কেন এটাকে বাস্তব ঘটনা নির্ভর আন্তর্জাতিক মানের মুভি হিসেবে এতদিন ধরে টানা মিডিয়া হাইপ করা হয়েছে তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। যেই সার্ফিং বেসড গল্পের কথা বলা হচ্ছিলো সেখানে সার্ফিংটাই আছে টেনেটুনে সাকূল্যে ১০-১২ মিনিট। নারীর অগ্রসরমানতার গল্পে নারীই হয়ে গেছে পার্শ্ব চরিত্র। নির্দিষ্ট রিসোর্টকে প্রমোট করা ছাড়া মুভিতে বড় কোনও বৈশিষ্ট্যই চোখে পড়লো না। এটাকে একটা আটপৌড়ে চাঁটগাইয়া প্রেম কাহিনী বললেও চলে।

সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রায় দূর্বোধ্য চাঁটগাইয়া আঞ্চলিক ভাষার এই মুভিতে ছিলো না কোনও সাব টাইটেল। মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে এটা কোরিয়ান ভাষাতে নির্মিত হলেও আমাদের জন্য ইতর-বিশেষ হতো না। বেশিরভাগ সময় অভিনয় শিল্পীদের এক্সপ্রেশনের উপর তাই নির্ভর করতে হয়েছে।

প্রধান দু-একজন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছাড়া বাকিদের এক্সপ্রেশন দেখে সেই কাজটাও ঠিকমতো করা সম্ভব হয় নাই। কক্সবাজারের একেবারে র আঞ্চলিক ভাষার সুযোগ নিয়ে চুটিয়ে গালি-গালাজ ব্যবহৃত হয়েছে মুভির সংলাপে। মুভি শেষে মনে হয়েছে, ভাষাগত দূর্বোধ্যতার সুযোগে আমাদের দর্শকদেরই বকাবাদ্দি করা হয়েছে কি না কে জানে!

এই মুভির চিত্রনাট্য না কি লিখেছেন ভারতের একজন স্বনামধন্য চিত্রনাট্টকার! অথচ বড় দৈর্ঘ্যের এই মুভির প্রথম এক-দেড় ঘন্টার অব্যবহিত পর কারুর যদি ধৈর্যচ্যুতি ঘটে সিনেমা হল থেকে বের হয়ে রাস্তার জ্যামকে বেশী উপভোগ্য মনে হয় তাকে মোটেও দোষ দেওয়া যাবে না। হায়ারের চিত্রনাট্যকারের কাজ দেখে মনে হয়েছে – ‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ!’

এই মুভির ভালো দিক- চকচকে প্রিন্টের চমৎকার কালার গ্রেডিং, সুন্দর ক্যামেরার কাজ আর কক্সসবাজারের সমুদ্র লোকশনকে ফুটিয়ে তোলা দারুন সিনেমাটোগ্রাফি।

তবে মোটের উপর এটি ‘যত গর্জে তার বেশীরভাগই বর্ষে না’। একজন সুহৃদের সৌজন্যে গতরাতে নাইট শোতে স্থানীয় একটি সিনেমাহলে এই ছিলো ‘ন, ডরাই’ মুভি দেখার প্রতিক্রিয়া। একঘন্টা + কিছু সময় দেখার পর মনে হইলো একটা দামী চুইংগাম শুনে তা কিনে চাবাইতাছি তিন দিন ধইরা। যেইটা আল জিহ্বাতে গিয়া আটকে গেছে।

ভাই ও বোনসকল, ‘ন ডরাই’ হলো আঞ্চলিক ভাষার দূর্বোধ্যতায় একটি অসীম ধৈর্য্যের পরাকাষ্ঠা!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।