ন ডরাই: সার্ফিং ও নারী মুক্তির অনন্য অধ্যায়

গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে একেবারে ভিন্নধর্মী এক গল্প নিয়ে সামনেই রুপালী পর্দায় আসছে ‘ন ডরাই’। একজন নারী সার্ফারের জীবন থেকে উৎসাহিত হয়ে এ সিনেমার গল্প। এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সিনেমার গল্পটি গড়ে উঠেছে সত্য ঘটনা অবলম্বন করে। সকল বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নারীর এগিয়ে যাওয়ার একটা বার্তাও থাকবে সিনেমায়।

পরিচালক তানিম রহমান অংশু জানিয়েছিলেন যে, এই বিষয় নিয়ে একটি চ্যালেঞ্জিং সিনেমা নির্মান করার প্রস্তাবটি প্রযোজক মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকেই এসেছে। প্রযোজক মাহবুবুর রহমানের বাড়ি চট্টগ্রামে। কক্সবাজারে তাঁর একটি হোটেলও আছে। সেই সুত্রে নিয়মিত কক্সবাজারে যাওয়া-আসা করেন তিনি।

এভাবেই কক্সবাজারের সার্ফারদের তিনি খুব কাছ থেকে চেনেন। আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশের একমাত্র নারী সার্ফার নাসিমাও তাঁর পরিচিত। এসব মিলিয়েই তার মাথায় একটা গল্প আসে। আর পরবর্তীতে সেই গল্পটাই কিছুটা পরিবর্তন, কিছুটা পরিমার্জন করে আজকের ‘ন ডরাই’ সিনেমা।

বিশ্বের অনেক দেশে প্রবল জনপ্রিয় একটা নাম ‘সার্ফিং’। অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকেই আমাদের দেশের কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে সার্ফিংয়ের চর্চা। সেখানে এখন অনেক সক্রিয় সার্ফিং ক্লাবও আছে। তবে এই চর্চাটা একদিনেই রাতারাতি গড়ে উঠেনি। অনেক মানুষের অদম্য ইচ্ছা, সাহস আর আগ্রহ আস্তে আস্তে সার্ফিং কে জনপ্রিয় করে তুলছে। ‘ন ডরাই’য়ের গল্প নারীমুক্তির গল্প। আয়েশা নামের এক নারীকে ঘিরেই কাহিনি। চরিত্রটি কক্সবাজারের নারী সার্ফার নাসিমার জীবনের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত।

তবে সিনেমায় শুধুই আয়েশার গল্প নয় সোহেল চরিত্রটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারে সার্ফিং প্রচলনে যে চার-পাঁচজন পুরুষ সার্ফার প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাঁদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো একটি চরিত্রে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রথম যে বাংলাদেশি সার্ফার সবার দৃষ্টি কেড়েছিলেন, তাঁর নাম জাফর। কক্সবাজারে ঘুরতে আসা এক অস্ট্রেলিয়ানের কাছ থেকে একটি সার্ফবোর্ড পেয়ে তিনি সার্ফিং শুরু করেছিলেন। তাঁর চরিত্রটিও আছে সিনেমায়। চরিত্রটির নাম আমির।

পরিচালক জানান, ‘ন ডরাই’য়ে আয়েশা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরা বিনতে কামাল, সোহেল চরিত্রে শরিফুল রাজ এবং আমির চরিত্রে সাঈদ বাবু। চলচ্চিত্রে সবাই কমবেশি নতুন মুখ। অভিনেতাদের কেউই সার্ফিং সম্পর্কে জানতেন না। তবে এখন জানেন। কক্সবাজারে টানা তিন মাস থেকে শিখেছেন। বিদেশি অভিনয়শিল্পীদের ক্ষেত্রে শর্তই দেওয়া ছিল, সার্ফিং জানতে হবে। একটি বিশেষ চরিত্র করেছেন ডেনমার্কের অভিনেত্রী জোসেফাইন লিন্ডেগার্ড। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন বিদেশি অভিনয় করেছেন ছবিটিতে।

‘ন ডরাই’য়ের দৃশ্যধারণ শুরু হয় গত বছর নভেম্বরে। ফেস্টিভাল-ভার্সন প্রস্তুত হয়ে ইতিমধ্যেই সিনেমাটি কান, লোকার্নো, ভেনিস আর লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন উৎসবে পাঠানোর কারন হিসেবে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বাজারে যাচাই করার ব্যাপারটাই আসল বলে জানা গেছে। পাশাপাশি এর ফলে দেশের মানুষকে সিনেমাটির ব্যাপারে জানানোর একটা ব্যাপারও আছে। প্রমোশনের একটা স্টেপ এর মধ্য দিয়েও বেশ ভালোভাবেই উতরে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন কলকাতার দেবের ‘বুনোহাঁস’ ও বলিউডের অমিতাভ এবং তাপসী পান্নুর ‘পিংক’ সিনেমার চিত্রনাট্যকার কলকাতার শ্যামল সেনগুপ্ত। চলচ্চিত্রটিতে মূল তিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ, সুনেরা বিনতে কামাল, সাঈদ বাবু। গত ২০ জুন বিশ্ব সার্ফিং দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটির পোস্টার উন্মোচন হয়। এরপর ৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডের ফার্স্টলুক ভিডিও রিলিজ করা হলে সিনেমাপ্রেমী সকলের কাছ থেকেই প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়।

উল্লেখ্য সিনেমার প্রায় নব্বই শতাংশ দৃশ্যধারণ হয়েছে কক্সবাজারে। সিনেমাতে চট্টগ্রামের ভাষা শুনতে পাবেন শ্রোতা-দর্শকরা। তবে তা সবাই যেন বুঝতে পারে সেভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে। আজ প্রকাশ করা হবে সিনেমাটির প্রথম গান ‘যন্ত্রনা’। গানটির কথা, সুর করেছেন মোহন শরীফ। কথা এবং সুরের পাশাপাশি গানটিতে কন্ঠও দিয়েছেন তিনি। ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে নান্দনিক নির্মান নিয়ে ‘ন ডরাই’ সফল হবে বক্সঅফিসে সেই কামনা রইলো।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।