নিভিন পাওলি: নায়ক নয়, গল্পটা একজন অভিনেতার

১৯৮৪ সাল, অক্টোবর মাসের ১১ তারিখ।

পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে ভক্তরা উদযাপন করছেন তৎকালীন বলিউডের সেরা সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের ৪২ তম জন্মদিন।

সেই আনন্দকে সেদিন সুইজারল্যান্ডের কোনো হাসপাতালকে ছুঁয়ে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু, সেখানে ছিল আরো খুশির বন্যা। ঠিক সেদিনই পৃথিবীর স্বর্গ খ্যাত জায়গাটিতে এক নার্সের কোল জুড়ে ভূমিষ্ঠ হয় এক শিশু। সময়ের পরিক্রমায় সেই শিশুটি একদিন পড়াশোনার সুবাদে ফিরে এলেন নিজ ভূমি ভারতের কেরালায়। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা ছেলেটি ঠিকই চাকরি জুটিয়ে ফেলেছিলেন তবে বাবার অকাল প্রয়ানে ফিরে আসেন বাড়িতে।

নাহ! গল্পটা এতটাও সাদামাটা নয়।

জীবনের মাহেন্দ্রক্ষণ যে এখনো বাকি। ইঞ্জিনিয়ার ছেলেটি নাম লিখিয়ে ফেলেন সিনেমা জগতে। ম্যামুট্টি ফ্যান ক্লাবের সভাপতি ছিলেন আগে থেকেই। নিজেও চাইতেন অভিনেতা হতে। সে কারণেই কি না, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরিতে মন বসাতে পারেননি। তাই অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে চলে এলেন রুপালি দুনিয়ায়।

আর নিজ প্রতিভায় এই মুহুর্তে তিনি একজন ভারতীয় উপমহাদেশে অন্যতম সেরা অভিনেতা। অভিনয় জানা নায়ক তার মত খুব কমই আছেন ইন্ডাস্ট্রিতে।

তাঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে অগনিত ভক্ত, নিজেকে তুলে ধরেছেন ভিন্ন ভিন্ন রুপে। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম সেরা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি মালায়লাম সিনেমার সাময়িক প্রেক্ষাপটে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে, এর নেপথ্যের অন্যতম কারিগর তিনি। তিনি হলেন নিভিন পাওলি।

সাধারণত নায়কোচিত ভাব ছাড়া নায়করা ঠিক দর্শকদের আকর্ষন করতে পারে না। মনে হয় তাঁরা যেন সত্যি দূর আকাশের নক্ষত্র।কিন্ত তিনি পুরোই ব্যতিক্রম। ব্যক্তিগত ভাবে নিভিন কে কখনোই সেইরকম নায়ক মনে হয়নি, সব সময় ই মনে হয়েছে তিনি অতি পরিচিত কোনো মানুষ, তাঁর সহজ সরল চাহনিই হচ্ছে অন্যতম গুণ। এই সাধারণ ব্যাপারগুলোতেই তিনি হয়ে উঠেছেন অসাধারণ। ঠিক যেন পাশের বাড়ির সহজ-সরল, সাদামাটা ছেলেটি।

নিভিন পাওলি সবচেয়ে বেশি খ্যাত সাড়া জাগান আলোচিত সিনেমা ‘প্রেমাম’ দিয়ে। এই সিনেমায় প্রেমিক ‘জর্জ’ চরিত্রে অভিনয় করেই তিনি দর্শকমহলে ব্যাপক ভক্ত সৃষ্টি করেছেন। নিভিন পাওলির আরেক সাড়া জাগানো সিনেমা ‘ব্যাঙ্গালোর ডেয়জ’। বন্ধুত্বের অন্যতম সেরা নিদর্শনের তারকাবহুল এই সিনেমায় চার্মিং দুলকার সালমান কিংবা গুরুগম্ভীর ফাহাদ ফাসিলের পাশেও মোটেও নিজেকে ম্লান হতে দেননি। সহজ সরল কৃষ্ণন চরিত্রে নিভিন পাওলি, বরং একটু সুযোগ বেশিই পেয়েছিলেন। অনেকেরই মালায়লাম সিনেমার সাথে পরিচিতি হয় এই সিনেমাটি দিয়েই।

নিভিনের জন্মের ঠিক আগের বছরই ভারত জিতে নিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বকাপ। আর এই অর্জন কে অনুপ্রেরণা করেই নির্মিত হয়েছিল আরেক প্রশংসিত সিনেমা ‘১৯৮৩’। ক্রিকেট নির্ভর এই ছবিতে ক্রিকেট পাগল রামেশান চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক থেকে সমালোচক সবার দৃষ্টি কেড়েছিলেন।

পারিবারিক ধারার সিনেমা ‘জ্যাকোবিনতে’ তেও পরিবারের বড় ছেলে জেরি চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরেছেন, অ্যাকশন হিরো রুপে বিজু চরিত্রেও সফল। এছাড়া আছে ওম শান্তি ওশানা, রিচির মত সিনেমা। ক্যারিয়ারে মোটেও বেশিদিনের নয়। ২০১০ সালে মুক্তি পায় প্রথম সিনেমা
এখন পর্যন্ত বেশ সংখ্যক পুরস্কার পেয়েছেন, নিজেকে এভাবে ধরে রাখতে পারলে প্রতিক্ষীত জাতীয় পুরস্কার ও হাতে এসে ধরা দিয়ে দিবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।