নীলপরী নীলাঞ্জনা: মিলন হবে কত দিনে!

‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবাই চাও, রহিমউদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভ্যান্না পাতার ছানি,একটু খানি বৃষ্টি হলে গড়িয়ে পড়ে পানি…’ – পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের এই কবিতাটি বিখ্যাত হয়ে আছে, তবে নাট্যপ্রেমীদের আরো বিশেষ কিছু হয়ে আছে এই টেলিফিল্মের জন্য।

আজ থেকে বছর পাঁচ-ছয়েক আগে ফেসবুকে ভিন্ন নামে বা নিজের ছবি না দিয়ে ফেসবুক চালানোটা বেশ প্রচলিত ছিল। মাঝে মাঝে কথার ছলে হয়ে যেত প্রেম, তেমনই প্রেমে দেখা করতে গিয়েছিল দু’জন। নীলাঞ্জনা আর আদনান হাবিব৷ ফেসবুক আইডির নাম নীলপরী হওয়ায় আদনান হাবিব নাম দেন ‘নীলপরী নীলাঞ্জনা’৷

প্রথম দেখায় দু’জন নির্দিষ্ট দূরত্বেও থেকেও যেন কাছাকাছি হলেন৷ পরিচয়, নদী ভ্রমণ থেকে ছাদ থেকে সুবিশাল আকাশ দেখা সহ অনেক কাজেই সারাদিন কেটে যায়৷ মনের তৃপ্তি দিয়ে দু’জনই নিজেদের বাড়ি ফিরলেন৷

তবে ঘটে অন্য ঘটনা, দুইজনই জানতে পারেন ভুল মানুষের সঙ্গে তাঁরা দেখা করেছেন। কিন্তু মনের টান, ভালোলাগা থেকেই গেল, শুরু হয় দু’জনের দু’জনকে খোঁজার পালা। কিন্তু দেখা হয় না, অবশেষে দেখা হয় তবে ততদিনে নীলপরীর সেই আসল আদনান হাবিবের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।

এই আদনান হাবিব নীলাঞ্জনার কাছে সেই প্রথমদিনের মত আরেকদিন সময় চায়, কিন্তু নীলাঞ্জনা রাজি হয় না৷ আদনান হাবিব অপেক্ষায় থাকবেন নদীর পাড়ে, নীলাঞ্জনা কি যাবেন? বা তাদের এই অব্যক্ত ভালোবাসার পরিনতি কি হবে?

অচেনা, অজানা থেকে কাছের মানুষে পরিনত হয়ে যাওয়া এই ভালোবাসার গল্পটি লিখেছেন যৌথভাবে মেজবাহউদ্দিন সুমন ও শিহাব শাহীন। মূল চরিত্রে ছিলেন মম ও তাহসান। দু’জনই নিজেদের মত করে ভালো ভাবে অভিনয় করেছেন। এছাড়া ছিলেন সাজু খাদেম, প্রসূন আজাদ।

সমালোচকদের দৃষ্টিতে ‘যদি-কিন্তু’ থাকলেও শিহাব শাহীন এত দারুণভাবে চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন যে দর্শকদের মুগ্ধতা ছড়াবেই, বিশেষ করে কিছু দৃশ্য আরো অনন্য করেছে। নির্মাতা হিসেবে তো তিনি প্রতিষ্ঠিতই। এই টেলিফিল্মে অন্যতম বাড়তি আয়োজন ছিল গান।

সাজিদ সরকারের সুরে তাহসানের কন্ঠে ‘বড় অবেলায় পেলাম তোমায়’ ও মিনারের কন্ঠে ‘তুমি কোথায় আমি কোথায়’ গান দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আর ‘আসমানী’ গানটাতো মুগ্ধতা ছড়ায়ই।

২০১৩ সালে ঈদে এনটিভিতে প্রচারের পর দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল টেলিফিল্মটি। বলা যায় তাহসানের অভিনয় ক্যারিয়ারের নিয়মিত হওয়ার পিছনে এই নাটকের প্রভাব বেশি। যদিও সেই ঈদেই বেশ সংখ্যক নাটক করেছিল। ফেসবুকে এই টেলিফিল্মের নামেই অজস্র আইডি চালু হয়েছিল, এখনো খুঁজলে পাওয়া যাবে। একই থিম নিয়ে কিছুটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নাটক বানানোর হিড়িক পড়েছিল, তবে কোনোটাই এর জনপ্রিয়তার কাছাকাছি যায় নি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।