ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলবে নাইজেরিয়া!

আশির দশকের শেষ ভাগে ঢাকার ক্লাব ফুটবলে মোহামেডানের হয়ে খেলে গিয়েছিলেন এমেকা এজেউগো। ফুটবলে নাইজেরিয়ার নামটা তখন থেকেই এই অঞ্চলের মানুষের জানা হয়ে গেছে।

এরপর ইউরোপিয়ান ফুটবলে নুয়ানকো কানু, জন ওবি মিকেল কিংবা বিশ্বকাপের মাঠে ভিনসেন্ট এনেইমা বা ভিক্টর মোজেসদের পারফরম্যান্সের সুবাদে নাইজেরিয়াকে ভুলে যাওয়ার কোনো কারণই নেই। ফুটবল বিশ্বকাপে বরাবরই আফ্রিকা মহাদেশ থেকে স্বাচ্ছন্দে বাছাইপর্বের বাঁধা পেড়িয়ে আসে নাইজেরিয়ানরা।

এবার তাঁরা আবারো বিশ্বকাপ খেলার বাছাইপর্বের বাঁধা টপকালো। এবার আর ফুটবলে নয়, ক্রিকেটে। হ্যা, বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে নাইজেরিয়ানরা এখন খেলবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। আসছে ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে খেলার জন্য উত্তীর্ণ হয়েছে দেশটির যুব দল।

বিশ্বকাপে খেলার চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামিবিয়ার উইন্ডহোকে তাঁরা দুই উইকেটে পরাজিত করে সিয়েরা লিওনকে। আগে ব্যাট করতে নেমে সিয়েরা লিওন মাত্র ১৩৮ রান করেই অল আউট হয়ে যায়। ১৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯১ রানের মধ্যেই সাতটি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল নাইজেরিয়ানরা।

পিটার আহো

তবে, পিটার আহো’র ৩২ বলে করা ২১ রানের অপরাজিত ইনিংসে সেই শঙ্কা কেটে যায়। ৩৪ বল আর দুই উইকেট হাতে রেখে ‘জুনিয়র ইয়েলো গ্রিনস’রা (মূল ক্রিকেট দলকে ডাকা হয় ইয়েলো গ্রিনস নামে) পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে।

আহো এর আগে বল হাতেও নিয়েছেন দু’টি উইকেট। তাঁর হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এছাড়া ওলাইঙ্কা ওলালেয়ে টপ অর্ডারে ১৬ রান করেন। মিডল অর্ডারে আইজ্যাক ডানলাডি ২৫ ও মিরাকল ইকাইজি ২২ রান করেন।

নাইজেরিয়ার ক্রিকেট ইতিহাস অবশ্য অনেক দিনের। বাংলাদেশ কিংবা ভারতের মত ওদেরও ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্রিটিশদের হাত ধরে। ১৯০৪ সালে ঘানার মানে তৎকালীন গোল্ডকোস্টের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচও খেলেছিল নাইজেরিয়ানরা।

এরপর অবশ্য ফুটবলের বিপুল জনপ্রিয়তায় ক্রিকেটের উৎসাহে ভাঁটা পড়ে। তবে, সম্প্রতি আবার অবস্থা পাল্টেছে। চাঙ্গা হয়ে উঠেছে নাইজেরিয়ার ক্রিকেট। ২০০২ সালে আইসিসির সহযোগী দেশ হিসেবে সদস্যপদও পেয়েছে তাঁরা। সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে এখন তারা বিশ্বকাপের মঞ্চে লড়বে।

প্রথম স্বীকৃত ম্যাচ খেলার প্রায় ১১৫ বছর পর বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছে নাইজেরিয়া দল। এই অর্জনে তাই উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেশটির ক্রিকেট দল। দেশটির যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী ব্যারিস্টার সলোমন ডালুঙ অনূর্ধ্ব ১৯ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। নাইজেরিয়ার ক্রিকেট ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডামস উকেনের মতে এটাই দেশটির ক্রিকেটের সর্বোচ্চ অর্জন।

এই অর্জনটা সহজ ছিল না। কারণ, আফ্রিকার ডিভিশন ওয়ানে তাঁদের লড়াই করতে হয়েছে নামিবিয়া, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া ও উগান্ডার সাথে। ওই অঞ্চলে এই দলগুলো বেশ শক্তিশালী। এই পর্বে যে পাঁচটি ম্যাচ হয়েছে তাঁর সবগুলোতেই জিতেছে নাইজেরিয়া।

দেশটির সরকার কেবল খেলোয়াড়দের দেশের বাইরে সফরের খরচ দেয়। এর বাদে খরচ যা লাগে সেটা আসে আইসিসি থেকে। আইসিসির অর্থায়নে খেলোয়াড়দের সরঞ্জাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ চালানো হয়।

আইসিসি  ও ইএসপিএন ক্রিকইনফো অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।