অভিনেতা নন, নেতা নেইমার!

রাশিয়ায় এখন গ্রীষ্মকাল। সামারাতে আজও তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মত। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে সেই উত্তাপটা যেন আরো খানিকটা বাড়িয়ে দিল ব্রাজিল। ২-০ গোলে জিতে গিয়ে নিশ্চিত করে ফেললো কোয়ার্টার ফাইনাল।

খবরটা সেলেসাওদের জন্য স্বস্তিদায়ক। কাগজে কলমে মেক্সিকোর চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকলেও একটা বাজে দিন অনেক অর্জনকেই যে ম্লান করে দিতে পারে, সেটা তো এই বিশ্বকাপে আগেই দেখা গেছে। জার্মানি, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, স্পেনের মত পরাশক্তিরা একে একে বিদায় নিয়েছে।

তার ওপর জার্মানিকে ক’দিন আগেই হারিয়ে দিয়ে ফুরফুরে মেজাজে ছিল মেক্সিকো। কিন্তু, ম্যাচে ঠিকই দু’দলের পার্থক্যটা পরিস্কার হয়ে গেল। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ – টানা  সপ্তম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্ব থেকে বিদায় নিতে হল মেক্সিকোকে। বিশ্বকাপের আসরে লাতিন ফুটবলের পতাকা হাতে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলে ব্রাজিল।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা বাদে এই ম্যাচে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নি:সন্দেহে নেইমার। তিনি যে সত্যিই বড় তারকা, বড় নেতা সেটা স্পষ্ট বোঝা গেছে মাঠের খেলায়। ব্রাজিল যে দু’টো গোল করেছে, প্রতিটিতেই ছিল তাঁর অবদান। একটা গোল তিনি করেছেন, ফিরমিনোকে দিয়ে করিয়েছেন আরেকটা।

চলতি বিশ্বকাপে নি:সন্দেহে সবচেয়ে বেশি ট্রল করা হয়েছে নেইমারকে নিয়ে। মাঠে তাঁর অতি অভিনয় অনেকের কাছেই দৃষ্টিকটু লেগেছে। তবে, এর মাঝেও যে প্রতি ম্যাচে একটু একটু করে উন্নতি করে যাচ্ছেন নেইমার, সেই ব্যাপারটা যেন অনেকেই দেখেও না দেখার ভান করছিল।

আজো যেমন ম্যাচের মাঝেই সবাই পারলে নেইমারের হাতে অভিনয়ের জন্য অস্কার তুলে দিতে পারলে বাঁচে। সমালোচনা হোক, তাতে আপত্তি নেই, কিন্তু পারফম্যান্সের প্রশংসাটুকু যেন তাতে মলিন হয়ে না যায়। চলতি বিশ্বকাপে বড় দলের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ নিশ্চয়ই বড় পারফরমারদের ম্লান ফুটবল। সেদিক থেকে নেইমার অন্তত সঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে পারলেন। ফুটবলে ইতিহাস কিন্তু এই নেতা নেইমারকেই মনে রাখবে।

নেইমারকে অভিনেতা মানতে পারেন আপনি, তবে পরিসংখ্যান বলছে চলতি বিশ্বকাপে তিনিই সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ফাউল হয়েছে ২৩ বার। আর মাঠে যে তিনি উজ্জ্বল ছিলেন, তার প্রমান হল তিনি গোল মুখে ২৩ বার শট নিয়েছেন, এর মধ্যে অন টার্গেটে ছিল ১২ টি। শুধু তাই নয়, তিনি সতীর্থদের জন্য ১৬ টি গোলের সুযোগও সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

বিশ্বকাপে নেইমারের মোট গোল এখন ছয়টি। এই ছয় গোল করতে তাঁর লেগেছে ৩৮ টি শট। অন্যদিকে সমান সংখ্যক গোল বিশ্বকাপে করতে সময়ের সবচেয়ে বড় দুই তারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লেগেছিল যথাক্রমে ৬৭ ও ৭৪ টি শট। এবার ভাবুন, ট্রলটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না?

ম্যাচে ব্রাজিলের গোল হয়তো আরো দুই-চারটা বাড়তো। সেটা হতে দেননি মেক্সিকোর গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা নির্ভীক প্রহরী গুইলের্মো ওচোয়া। তিনি আজ আটটা সেভ করেছেন। এই বিশ্বকাপে এক ম্যাচে এর চেয়েও বেশি গোল সেভ করার নজীর আছে মাত্র একটি। জার্মানির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সেটা করেছিলেন এই ওচোয়াই।

ম্যাচের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ অবশ্যই ক্যাসেমিরোর হলুদ কার্ড। দু’টি হলুদ কার্ড পেয়ে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে দেখা যাবে না কোয়ার্টার ফাইনালে।

মিশন হেক্সায় ব্রাজিলের সামনে আর মাত্র তিন ম্যাচ। সময় মত এসে ফর্মটা ফিরে পেয়েছেন উইলিয়ান। আজ তুলনামূলক দুর্বল ফুটবল খেললেও কৌতিনহো কি করতে পারেন, সেটা তো আগের ম্যাচে দেখা গেছে। সাথে ক্যারিয়ারের ৫৭ তম গোল পেয়ে যাওয়া নেইমার তো আছেনই। এসবই হোক আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ার রসদ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।