বলিউডে নেপোটিজম: ভাল-মন্দ ও তর্ক-বিতর্ক

বলিউডের সবথেকে বিতর্কিত বিষয় সম্ভবত নেপোটিজম। নেপোটিজমের আভিধানিক অর্থ হলো স্বজনপোষণ। অর্থাৎ অন্যায় বা অনৈতিকভাবে নিজের কোনো আত্মীয়কে সমর্থন দেয়াকে বলে নেপোটিজম।

প্রথম কথা কথা হলো এই শব্দের সাথে আমি একমত না। কারণ সিনেমার পরিসরে ব্যবসায়িক চিন্তায়, অন্যায় বা অনৈতিক টার্মটাই আপেক্ষিক। মনে করেন কারো বাবা বা ভাই ছবি প্রযোজনা করবে। তো কাকে সেই ছবিতে অভিনয় করতে দেবে আর কাকে দেবে না, এটা তো তাঁর একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। এখানে অন্যায়ের প্রশ্ন আসে কোথা থেকে!

এ তো গেলো বানিজ্যিক দিক। এবার বাস্তবতাটা দেখেন।

বলিউডের নেপোটিজম মানেই তো সোনাক্ষী সিনহা, রণবীর কাপুর, বরুণ ধাওয়ান, শ্রদ্ধা কাপুর, টাইগার শ্রফ, আলিয়া ভাট বা সোনম কাপুর এদের কথাই তো আসে? সাথে ইদানিংকার সারা আলী খান, জাহ্নবী কাপুর আর অনন্যা পান্ডের নাম আসছে। অথচ এদের বাইরেও দেখেন এদের পাশাপাশি কত বড় বড় নাম বলিউডে যোগ হয়েছে এবং হচ্ছে। নওয়াজউদ্দীন, রণবীর সিং, রাজকুমার রাও, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, কার্তিক আরিয়ান, কঙ্গনা রনৌত, সুশান্ত সিং রাজপুত-সহ আরো অনেক।

এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে নেপোটিজমের জয়জয়কারই যদি থাকতো, এরা কিভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করলো?

বলা হয় স্টারকিড বা ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাকআপ থাকার কারণে অনেক অ-মেধাবী অভিনেতাও পার পেয়ে যায়৷ আমার প্রশ্ন ইমরান খানের মত মেধাবী আর কিউটনেস থাকা সত্বেও, এবং আমিরের মত ব্যাকআপ থাকার পরও কেন সে ব্যর্থ হল?

ব্যাখ্যাটা খুব পরিস্কার। স্টারকিড বা ব্যাকআপ বলে কিছু হয় না৷ বড়জোর শুরুটা মসৃণভাবে শুরু করার সুযোগ পাওয়া যায়। আর এটাকে যদি আপনি বলেন অন্যায়, তাহলে পৃথিবীর অনেক কিছুই অন্যায় হয়ে যায়৷ উপমহাদেশের অনেক আইনেই বাবা কোনো একটা জায়গায় থাকলে, সেখানে ছেলে বাড়তি সুবিধা পায়, হতে পারে সেটা সরকারি চাকরি বা অন্য কোথাও!

আর সিনেমায় তো এতটাও হয় না, কাজের সুবাদে সবাই পরিচিত থাকে, তার জন্য সূচনায় তাদের ঝামেলাটা কম হয়। তারপরের লড়াইটা তো সবাইকে যোগ্যতা দিয়েই করতে হয়। আপনি দেখেন রণবীর সিং আর অর্জুন কাপুর প্রায় একসাথে ক্যারিয়ার শুরু করছিলো। কিন্তু, অর্জুন প্রায় নিঃশেষ। আর সিং সাহেবের জয়জয়কার।

এখানে আপনার নেপোটিজম তত্ত্ব কোথায় গেলো?

আবার দেখেন আলিয়া ভাটের এক সময়ের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ধরা হত পরিনীতি চোপড়াকে। দু’জনেই আপনাদের ভাষায় নেপোটিজমের ফসল। অথচ, আলিয়ার অবস্থান এখন কোথায়৷ তো পরিনীতি কেন পিছিয়ে? কারণ, তাঁর সেই ক্লাস নাই যা আলিয়ার আছে৷ এটাই সব থেকে বড় কথা।

শেষ একটা কথা বলে লেখার ইতি টানবো৷ আপনারা যারা নেপোটিজম নেপোটিজম বলেন সারাদিন, আপনারা কি নেপোটিজম বলতে শুধু বর্তমান সময়কেই বোঝেন? মানে যারা ইদানীং বা একটু আগে সিনেমায় আসছে তাদের মধ্যেই কি এই ‘সমস্যা’ বিদ্যমান? এমন ভেবে থাকলে আপনি বোকার স্বর্গে আছেন।

তাঁদের বোকার স্বর্গ থেকে বের করার জন্যই এই তালিকা করলাম।

  • সাইফ আলী খান

মা শর্মীলা ঠাকুর, ৭০-এর অন্যতম গ্ল্যামারগার্ল অভিনেত্রী। পিতা মনসুর আলী খান পতৌদি ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। সবাই ডাকতো টাইগার পতৌদি নামে। অনেকটা কোহলি আর আনুশকা শর্মার মতই।

  • সঞ্জয় দত্ত

বাবা সুনীল দত্ত। একাধারে অভিনেতা, পরিচালক এবং রাজনীতিবিদ। আর মা বিখ্যাত অভিনেত্রী নার্গিস।

  • অজয় দেবগন

বাবা নব্বইয়ের অন্যতম পরিচালক বীরু দেবগন।

করণ-অর্জুনের সেটে দুই খান ও হৃতিক রোশন
  • হৃত্বিক রোশন

পিতা রাকেশ রোশন নামকরা পরিচালক, প্রযোজক। এক সময় অভিনেতাও ছিলেন।

  • আমির খান

পিতা তাহির হুসাইন, একাধারে প্রযোজক এবং পরিচালক।

  • সালমান খান

পিতা সেলিম খান, বলিউডের কিংবদন্তি স্ক্রিপ্ট রাইটার বলা হয় যাকে।

  • কারিশমা কাপুর এবং কারিনা কাপুর

পিতা রণধীর কাপুর ছিলেন অভিনেতা৷ তাছাড়া কাপুর পরিবারের ব্যাপারে তো সবারই কম-বেশি জানা আছে।

  • রানী মুখার্জি

পিতা বিখ্যাত রাম মুখার্জি৷ পেশায় ছিলেন পরিচালক।

  • কাজল

পিতা সমু মুখার্জি ছিলেন নামকরা পরিচালক। আর মা তনুজা মুখার্জি ছিলেন পরিচিত অভিনেত্রী।

এই যে তালিকা দেখছেন, নেপোটিজমের কথা উঠলে তো এদের কথা কখনোই বলেন না আপনারা। অথচ আপনাদের যে নেপোটিজম তত্ত্ব, তাতে এদের প্রত্যেকেই সেই আওতায় পরে৷ নেপোটিজমের ব্যাপারে বলার কথা এটাই, লড়াইটা যোগ্যতা দিয়েই সবাই করে, পরিবার করে দেয় না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।