নিল ওয়েগনারেই কেন কুপোকাত বাংলাদেশ?

শুধু বাংলাদেশ বলে নয়, যে কোনো দলের বিপক্ষে, যে কোনো উইকেটে, নিল ওয়েগনারের ফর্মূলা একটাই – শরীর তাক করে বাউন্সার করে যাওয়া, ক্রমাগত শর্ট বল করা। বাঁ-হাতিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় রাউন্ড দ্য উইকেট এসে শরীর তাক করা, জায়গা না দেওয়া। ফাঁকে কিছু লেংথ বল, ফুল লেংথ মেশানো – এই তো! অনেকটাই ওয়ান ডাইমেনশনাল বোলিং।

ক্রিকেট দুনিয়ার সবাই এটা জানে। আমাদের দলও অবশ্যই জানত। টিম মিটিংয়ে আলোচনাও নিশ্চয়ই হয়েছে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে কি সেটির প্রতিফলন পড়লো?

তামিম এত অসাধারণ একটা সেঞ্চুরি উপহার দিলো, বাকি প্রায় সবাই ওদেরকে উইকেট উপহার দিয়ে এলো!

পরিকল্পনা ঠিক ছিল, কিন্তু এক্সিকিউশন ঠিক মতো হয়নি – বেশির ভাগ সময়ই ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে এরকম কথা শুনি আমরা। আজকে কি পরিকল্পনাই ঠিক ছিল অন্য ব্যাটসম্যানদের?

জানা কথা, ওয়েগনার শরীর তাক করবে। জানা কথা, নিউজিল্যান্ডে শর্ট বল ও বাউন্সার একটু বেশি লাফাবে। সেখানে আমি ওয়েগনারকে পুল-হুক করার ঝুঁকি কেন নেব? এটা সাহস বা দু:সাহস নয়, বোকামি। জেনে-শুনে ফাঁদে পা দেওয়া। ছেড়ে দেই, শরীরে লাগাই, দাঁতে দাঁত চিবিয়ে পার করে দেই না তার ওভারগুলো! আরেক পাশ থেকে রান আসছিল।

সাউদি-বোল্ট, কেউই রিদম পাচ্ছিল না, সুইং পাচ্ছিল না। রান আসছিল। ওয়েগনারকেও কেন তুলোধুনো করতে হবে? তামিম এত আগ্রাসী খেলার মাঝেও ওয়েগনারের শর্ট বলে ডাক করে গেছে। অন্যদের না পারার কারণ ছিল না। কিন্তু মাইন্ডসেট ঠিক না থাকলে ব্যাটিংয়ের কিছুই তো ঠিক থাকে না। একজন-দুজন হলেও কথা ছিল, ওয়েগনারের পাঁচটি উইকেটই শর্ট বলে, কেবল মেহেদি হাসান মিরাজ ছাড়া বাকি চারজনই পারতেন ছেড়ে দিতে!

সবুজাভ উইকেটে বাদামি অংশ আছে বেশ, স্কট স্টাইরিশ পিচ রিপোর্টে বলছিলেন, অসমান বাউন্স থাকতে পারে ম্যাচের শেষের দিকে। শেষ ইনিংসে ব্যাট করা কঠিন হতে পারে। সেই কঠিন পরীক্ষায় ব্ল্যাক ক্যাপদের ঠেলে দিতে, প্রথম ইনিংসে বড় রান ছিল জরুরী। তামিম ইকবালের অমন শুরুর পর সুযোগটাও মিলেছিল, অন্তত ৪৫০ করা কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু আত্মহত্যা করতে চাইলে বাঁচাবে কে!

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।