নিল ম্যাকেঞ্জি: বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপ্লবের আড়ালের নায়ক

২০১৮ সালের মে মাসের কথা। প্রধান কোনো কোচ ছাড়াই চলছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কখনো খালেদ মাহমুদ সুজন, কখনো বা কোর্টনি ওয়ালশ প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমন সময়, সাবেক প্রোটিয়া ওপেনার ও ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ গ্যারি কার্স্টেনকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কোচ নিয়োগের দায়িত্ব দেয়। ঢাকার সুরম্য হোটেলে বসে দফায় দফায় স্থানীয় কোচ, ক্রিকেটার, অধিনায়ক ও বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন তিনি।

উদ্দেশ্য ছিল একটাই হুট করে শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব নিয়ে ফেলা চান্দিকা হাতুরুসিংহের একজন উত্তরসুরী খুঁজে বের করা। তাঁরই পরামর্শে পরে নিয়োগ পান ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের পরিচিত মুখ স্টিভ রোডস। ফিল্ডিং কোচ হিসেবে আসেন রায়ান কুক।

ব্যাটিং কোচ হিসেবে কার্স্টেন নিয়ে আসেন স্বদেশী নিল ম্যাকেঞ্জিকে। আর চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মোহনীয় ব্যাটিং প্রদর্শনীতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখে চলেছেন ম্যাকেঞ্জিই।

নিল ম্যাকেঞ্জি ব্যাটসম্যান হিসেবে খুব বড় মাপের কেউ ছিলেন না কখনোই। ৫৮ টেস্টে ৩২৫৩ রান আর ৬৪ টি ওয়ানডেতে ১৬৮৮ রান – দক্ষিণ আফ্রিকা দলের হয়ে নয় বছর খেলে এটুকুই করতে পেরেছেন তিনি। এটাকে কোনো ভাবেই বড় কোনো অর্জন বলা যায় না।

২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রামে গ্রায়েম স্মিথের সাথে তিনি ওপেনিংয়ে ৪১৫ রানের অতিমানবীয় এক জুটি গড়েছিলেন। সেজন্য বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীরা সব সময়েই ম্যাকেঞ্জির রানটা মনে রেখেছে।

২০১৬ সালে তিনি মাঠের ক্রিকেটকে বিদায় জানান। মনোযোগ দেন কোচিংয়ে।  দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেন দু’বছর। এই সময়েই প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ে আমূল পরিবর্তন আসে। নিজেকে আরো বেশি অতিমানবীয় করে তোলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ম্যাকেঞ্জির জমানাতেই তিনি ওয়ানডের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরিটা করেছিলেন।

সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু, ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার (সিএসএ) সাথে বনিবনা হচ্ছিল না আর। ফলে সরে দাঁড়ান তিনি। এরপরেই তিনি আসেন বাংলাদেশে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মূল ভরসার জায়গাটা কি? অবশ্যই ব্যাটিং সামর্থ্য। সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার বা লিটন দাস – প্রত্যেকে যে পরিমান ‘অথরিটি’ নিয়ে খেলছেন, তা আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেই বিরল। এর জন্য কৃতিত্বটা অবশ্যই ম্যাকেঞ্জির প্রাপ্য।

কার্স্টেন আগেই বলেছিলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি বুঝে কোচ নির্বাচন করবেন তিনি। আর এই বিবেচনায় শতভাগ নম্বর পাচ্ছেন ম্যাকেঞ্জি। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে ক্রিকেটের সংস্কৃতিটা ধরতে পেরেছেন তিনি। আর তারই প্রভাবটা পড়ছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।