নেগেটিভ অব পজেটিভ

অসাধারণ রেকর্ড করা এক জয়ের পর মুশফিকের উদযাপনের সময় মুখটা কি একটু শক্ত মনে হল? ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক রিয়াদের পরিবর্তে আসলেন তামিম ইকবাল। জয়ের আনন্দের চাইতে বেশি যার চেহারায় স্বস্তি দেখা গেল।

ম্যাচ জেতার পর কমেন্ট্রি বক্সে আতহার আলী খান, প্রেসবক্সে সাংবাদিকেরা আর এই দেশের সমস্ত মানুষ যেখানে আনন্দে আত্মহারা, সেখানে জাতীয় দলের ওই ১১ জনের ক্ষেত্রে মনে হল আনন্দের সাথে একটু সাথে একটু ভয়ও ছিল। তামিম ইকবাল বারবারই বলছিলেন এই জয়েই তারা বিশ্বের সেরা দল হয়ে যাননি এখনও অনেক কিছু শেখার বাকি। আমরা যেন নিজেদের আশার পারদ টা পাহাড়ের চূড়ায় না নিয়ে যাই।

সে কথা তামিম কতবার বলেছেন এবং কতটা শঙ্কা নিয়ে বলেছেন সেটি সংবাদ সম্মেলনের সরাসরি টেলিকাস্টে ভালো দেখা গেছে ।

গত সিরিজ থেকেই কম কটুক্তি শুনতে হয়নি তাদের। সব প্রশ্নের কটূক্তির জবাব তামিম-লিটন-মুশফিক ব্যাটেই দিয়েছেন। তবে টানা ২-১ ম্যাচ খারাপ করলেই যে আবার সেই কটুক্তি গুলোই ফিরে আসবে সে ব্যাপারেও ভালো অভিজ্ঞতা আছে তামিম-মুশফিকদের।

এদেশের মানুষ ক্রিকেট নিয়ে যতটা আগ্রহী ততটাই নির্মম। নতুন কোন খেলোয়াড় দলে ঢুকেই যদি প্রথম ২-১ ম্যাচের মধ্যে ভালো না করতে পারেন তবেই তিনি স্যার, লর্ড হয়ে যান এবং তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু শুধু নতুনরাই নন , এই দলে পাঁচ স্তম্ভ তামিম-সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ-মাশরাফি বা বাদ যান কিসে? গত ১০ বছরে প্রতি সিরিজে প্রতি ম্যাচে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করে আসছেন নিজেদের। তারপরও কিছু হলেই তাদের ডেডিকেশন নিয়ে প্রশ্ন উঠে, তাদের দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন করতে বাধে না কারও কারও।

আমরা কল্পনায় চলি, বাস্তবতা বুঝিনা। কাল ২১৫ টার্গেট নিয়ে জিতে গেছি বলেই এরপরের যেকোন ১৬০+ টার্গেট হলেও জনতা ‘হারার কোন সম্ভাবনাই নেই, জিতেই গেছি’ বলেই হৈহুল্লোড় করবে এবং হেরে গেলে এই খেলোয়াড়দেরকে গালমন্দ করবে সেটি বলার অপেক্ষা থাকে না।

এইতো ম্যাচের পর একটি ক্রিকেট গ্রুপে একজন কে বলতে দেখলাম, রিয়াদের খেলায় বা বডি ল্যাংগুয়েজে পর্যাপ্ত পরিমাণ ‘জৌলুশ’ নেই তাই ‘বড়’ দল হতে হলে তাকে দল থেকে বাদ দেয়া উচিত।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ১০ নম্বর র‍্যাংকি এর একটা দল তাদের গত ১০ বছরের ক্রিকেটের যেকোন জয়ের পাঁচটি স্তম্ভের একজন কে হারিয়ে ফেলেছে বয়সের দোহাই দিয়ে যে এখনও আমাদের অন্য যেকোন বোলারের চেয়ে ভালো বোলিং করে, ভালো উইকেট টেকার আর ফিল্ডিং এ কোন অংশে কম নয়। এখন ওই পাঁচ জনের আরেকজনকে বাদ দিয়ে বড় দল হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন একজন সমর্থক। একটি মাত্র জয়ের পর।

এই ধরণের মনোভাব জনতা কে ছাড়িয়ে তো আমাদের ম্যানেজমেন্ট আর নির্বাচকদের মাঝেও ছড়িয়ে থাকে! তামিমের শঙ্কা টাকে তাই একদমই অমূলক বলে মনে হয়না।

আমরা উড়তে চাই। কিন্তু, আমাদের তো পাখা নেই। ওই ১১ জনের পক্ষে এই ১৮ কোটি মানুষের এত এত প্রত্যাশার চাপ নিয়ে উড়তে পারা সম্ভব নয়। বাস্তবতা বুঝুন, প্রাপ্য সমালোচনা করুন তবে প্রাপ্য সম্মানটুকুও দিতে শিখুন। নাহলে মাশরাফির মত বাকিদেরও আমরা অকালে হারিয়ে ফেলবো। ক্ষতিটা তাদের চাইতে এদেশের ক্রিকেটেরই বেশি হবে।

এখনও অনেক দূর পথ বাকি। তাই তাদেরকে মুক্ত ভাবে উড়তে দিন। তাদের কে সরিয়ে দিয়ে নয়, বরং তাদের উপর থেকে অতিরিক্ত অমূলক প্রত্যাশার চাপ টাকে সরিয়ে দিন। তাহলেই একদিন বড় দল হয়ে উঠতে পারবো আমরা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।