নাজরিয়া নাজিম: জাদুময় এক্সপ্রেশনের অনন্য রানী

নায়িকা হিসেবে তার ক্যারিয়ারটা খুব আহামরী লম্বা নয়। একগাদা সিনেমা করে ফেলেছেন, কিংবা বিশাল বড় সব হিট দিয়েছেন – তাও নয়। আসলে ব্যবসাসাফল্য যাই আসুক না কে ১০-১৫ টা ছবি দিয়েই কাউকে আকাশে তুলে ফেলাটাও অন্যায়। নাজরিয়া নাজিমকেও তাই কিংবদন্তিদের পর্যায়ে তোলা যায় না।

তবে, আবেদন, এক্সপ্রেশন আর মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে এই তরুণী যে পুরো ভারতের মন ঘায়েল করে রেখেছেন। তাঁর চোখের খেলায় ভক্তরা এমনই বুঁদ হয়ে আছে যে, তা থেকে সহজে মুক্তি নাই। ব্যক্তির নামকরণের এতটা সার্থকতা সচরাচর দেখা যায় না!

তাঁর ভূবন ভোলানো হাসিতে কি একটা যেন জাদু আছে, তার চোখের চাহনী তীরে বিদ্ধ হয়ে আপনি বার বার ঢলে পড়তে চাইবেন। এমনকি তাঁর রাগী রাগী চেহারা বা ভেঙচিতেও আপনি প্রেমে না পড়ে থাকতেই পারবেন না। তাঁকে আপনি অবশ্যই ‘এক্সপ্রেশনের রানী’ বলতে বাধ্য।

অথচ, মিষ্টি হাসির মায়াবী সেই মেয়েটি মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিয়ে করে ফেলেছে। স্বামী অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল। দু’জনই মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বড় মুখ। বয়সের ব্যবধান যদিও ১৩ বছর, তবে ঠিক পারিবারিক আলাপের ভিত্তিতে তাঁদের বিয়ে হয়নি।

‘ব্যাঙ্গালোর ডেয়জ’ ছবির সেটে তাঁদের পরিচয়। ছবিতে স্বামী-স্ত্রীর চরিত্র করা ফাহাদ ও নাজরিয়া সেটেই মনের আদান প্রদান করে ফেলেছিলেন। ছবি মুক্তির পর আসে চূড়ান্ত ব্যবসায়িক সাফল্য, ছবির গল্প ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এর কিছুদিন পরই ২০১৪ সালে আগস্টে এই জুটি বিয়ে করে ফেলেন।

নাজরিয়া নাজিমের জন্ম ১৯৯৪ সালের ২০ ডিসেম্বর, কেরালার থিরুভানাথাপুরামে। বাবা নাজিমুদ্দিন, মা বেগম বিনা, একমাত্র ভাই নাভিন নাজিম। নাজরিয়ার জন্মের আগে তার পরিবার থাকতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

২০০৪ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথম তিনি পর্দায় আসেন। একটা ইসলামিক কুইজ শো’র সঞ্চালক ছিলেন। দু’বছর বাদেই অভিষেক বড় পর্দায়, শিশুশিল্পী হিসেবে। সেবার ‘পালুঙকু’ ছবিতে ম্যামুট্টির মেয়ের চরিত্র করেন।

এরও ছয় কি সাত বছর পর প্রথমবারের মত কেন্দ্রীয় চরিত্রে আসেন তিনি। ‘ম্যাড ড্যাড’ নামের ছবিটি যখন মুক্তি পায় বয়স তখন মোটে ১৮। এরপর ‘নিরাম’ ও ‘সালালাহ মোবাইলস’ করে নিজের শক্তির জায়গাটা দর্শকদের বুঝিয়ে দেন। ‘ওম শান্তি ওশানা’ ‘ব্যাঙ্গালোর ডেয়জ’ বুঝিয়ে দেয় – কেন তিনি বাকিদের চেয়ে আলাদা!

সে বছরই পেয়ে যান কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার। এর আগে প্রথম ক্যারিয়ারের প্রথম বছরেই পান ফিল্মফেয়ার। তিনি নায়িকা তো বটেই গানের গলাও ভাল, করেছেন প্লে-ব্যাকও।

বিয়ের পর চার বছর বিরতি দিয়ে যখন ‘কোদে’ করলেন, বোঝা গেল তিনি একদমই ফুরিয়ে যাননি। এমন একজনকে গুরুত্ব না দিয়ে কোনো উপায় নেই!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।